পরমাণু সমঝোতা বানচাল করতে আইএইএ'কে নিয়ে আমেরিকার নতুন খেলা
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i44796-পরমাণু_সমঝোতা_বানচাল_করতে_আইএইএ'কে_নিয়ে_আমেরিকার_নতুন_খেলা
জাতিসংঘে মার্কিন প্রতিনিধি নিকি হ্যালির ভিয়েনা সফরে গিয়ে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ'র প্রধান ইউকিয়া আমানোর সঙ্গে দেখা করেছেন।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
আগস্ট ২৫, ২০১৭ ১৪:০৮ Asia/Dhaka

জাতিসংঘে মার্কিন প্রতিনিধি নিকি হ্যালির ভিয়েনা সফরে গিয়ে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ'র প্রধান ইউকিয়া আমানোর সঙ্গে দেখা করেছেন।

নিকি হ্যালি তাঁর এক টুইট বার্তায় লিখেছেন: মার্কিন প্রতিনিধি দল ইরানের পরমাণু সমঝোতার ব্যাপারে প্রশ্নের স্তুপ নিয়ে ভিয়েনায় গেছেন এবং সন্তোষজনক জবাবও পেয়েছেন। তারপরও আমেরিকা সন্দিহান ও উদ্বিগ্ন। তারা ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোর ব্যাপারে আইএইএ'র প্রতিবেদন প্রত্যাশা করেছেন।

নিকি হ্যালির এই অবস্থান থেকে মনে হচ্ছে আমেরিকা চাচ্ছে পরমাণু সমঝোতার ব্যাপারে আইএইএ হোয়াইট হাউজের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করুক। নিকি হ্যালির এই অবস্থানের জবাবে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি বলেছেন, আন্তার্জাতিক রীতিনীতির অসদ্ব্যবহারের সুযোগ আমেরিকাকে কোনোভাবেই দেওয়া হবে না।  

মার্কিন নয়া কর্মকর্তারা জানে যে ইরান পরমাণু সমঝোতার শর্তগুলো খুব ভালো ভাবেই মেনে চলছে। তবুও তারা আইএইএ'র ভূমিকা ও দায়িত্বের ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়ে এই সমঝোতার ওপর একপেশে প্রভাব ফেলার অপচেষ্টায় আছে। এই অপচেষ্টা আগেও তারা করেছিল এবং কিছু সময় পরমাণু কর্মসূচির ওপর প্রভাবও ফেলেছিল। সেই একই অপকর্ম তারা আবারও করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ইরানের পরমাণু কর্মসূচিতে সম্ভাব্য সামরিক মাত্রা নিয়ে তদন্ত যা পিএমডি নামে পরিচিত পরমাণু সমঝোতা স্বাক্ষরের সময় ছয় জাতি গোষ্ঠির সম্মতিতে সেটা বন্ধ হয়ে যায়।

তা সত্ত্বেও আমেরিকা এখন নতুন করে আইএইএ'কে দিয়ে যে খেলাটা শুরু করেছে তার উদ্দেশ্য হলো ইরান পরমাণু সমঝোতা লঙ্ঘন করছে-এই দাবীর অজুহাত তৈরি করা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চাচ্ছে ইরানকে দোষারোপ করে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যেতে। এ কারণেই ইরানি সংসদের পররাষ্ট্রনীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের উপ-প্রধান মুহাম্মাদ জাওয়াদ জামালি বলেন: পরমাণু সমঝোতা স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গে ওই পিএমডি'র কার্যক্রম শেষ হয়ে গেছে। সুতরাং ইরানের সামরিক কেন্দ্রগুলো পরিদর্শনের আইনগত কোনো অধিকার আইএইএ'র নেই। পরমাণু সমঝোতা অনুযায়ী কেবল সাইটগুলোই তারা নিরীক্ষণ করতে পারে। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে পরমাণু সমঝোতার কার্যকারিতা শুরুর পর আইএইএ'র পক্ষ থেকে সামটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। সেইসব প্রতিবেদনে ইরানের পক্ষ থেকে চুক্তিগুলো মেনে চলা হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সে কারণেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড: জাওয়াদ জারিফ ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান ফ্রেডরিকা মোগেরিনি এবং আইএইএ'র প্রধান ইউকিয়া আমানোকে চিঠি লিখেন। ওই চিঠিতে তিনি আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই ইস্যুটির ব্যাপারে মার্কিন চাপকে পরমাণু সমঝোতার মেজাজ বিরোধী বলে মন্তব্য করেন। সেইসঙ্গে এ ধরনের পদক্ষেপ থেকে আমেরিকাকে বিরত রাখারও অনুরোধ করেন।#              

পার্সটুডে/নাসির মাহমুদ/২৫