তুরস্ক সফর শেষে ইরানে এলেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী এবাদি
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-এবাদির নেতৃত্বে সেদেশের আর্থ-রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি দল একদিনের সফরে ইরানে এসেছেন। এ সফরকালে আর্থ-রাজনৈতিক, নিরাপত্তা, বাণিজ্য ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বিস্তার, দায়েশ পরবর্তী ইরাকের ভবিষ্যত এবং ওই দেশটির সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ড রক্ষার বিষয়ে ইরাক ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। এর আগে তিনি সৌদি আরব, তুরস্ক, মিশর ও জর্দান সফরে গিয়েছিলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ইরাক সরকার ও সেনাবাহিনীর একের পর এক বিজয় এবং দেশটি যখন বিরাজমান গভীর সংকট থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে তখন ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর তেহরান সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা এবং অর্থনীতিকে এগিয়ে নেয়া ও বাইরের হস্তক্ষেপ বন্ধ করা এখন ইরাক সরকারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর এ ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশগুলোর সমর্থন জরুরি।
এরই আলোকে ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর এসব সফর ব্যাপক তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। তাদের মতে ইরাক পুনর্গঠন ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করার কোনো বিকল্প নেই। এ কারণে সবার নজর এখন ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর সফরের দিকে। বিশেষ করে সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে সৌদি আরব ও তুরস্কের ভূমিকা ইরাকের জন্য কখনই সুখকর ছিল না। রিয়াদ ও আঙ্কারার নেতিবাচক কর্মকাণ্ড ও তিক্ত অভিজ্ঞতার পরও ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর ওই দেশগুলো সফরকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-এবাদি আঙ্কারায় তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগানের সঙ্গে সাক্ষাতে বলেছেন, "সব মতবিরোধ ও দুঃখ-কষ্ট ভুলে যাওয়ার সময় এসেছে এবং এসব বেদনা ও ব্যবধানকে পারস্পরিক সহযোগিতায় পরিণত করা উচিত যাতে এ অঞ্চলের দেশগুলো সারা বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে পারে।"

এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন সৌদি আরব সফরে গিয়ে যেসব বিতর্কিত বক্তব্য দিয়েছেন তা নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া হয়েছে। তিনি উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে এ অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে ইরাকের সম্পর্কের যে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছে সেটাকে বিনষ্ট করার চেষ্টা চালিয়েছেন। এমনকি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল-জুবায়েরও এ অঞ্চলে বিভেদ সৃষ্টির মার্কিন নীতির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ইরাকসহ এ অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য ইরান চেষ্টা চালাচ্ছে।
ইরাকের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন দাবি করেন, "যেহেতু দায়েশ সন্ত্রাসীদের দিন শেষ হয়ে এসেছে তাই ইরান ও তার সমর্থক সেনা কিংবা সামরিক উপদেষ্টাদের উচিত ইরাক থেকে চলে যাওয়া।" টিলারসনের এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইরাক সরকার জানিয়েছে, সেদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কথা বলার অধিকার কারো নেই। ইরানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক সাইয়্যেদ হাদি সেইদা ফাকিহি ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর সৌদি আরব সফরের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, "এ সফর ইরাক ও ইরাকের সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলবে না।" তিনি বলেন, "ইরানের দৃষ্টিতে সবার সঙ্গে ইরাকের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও সহযোগিতা এ অঞ্চলের সব দেশের স্বার্থ করবে।"
পার্সটুডে/মো. রেজওয়ান হোসেন/২৬