সিরিয়া বাদ; এবার ভিন্ন ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানকে টার্গেট করেছে আমেরিকা
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i55512-সিরিয়া_বাদ_এবার_ভিন্ন_ভূখণ্ড_ব্যবহার_করে_ইরানকে_টার্গেট_করেছে_আমেরিকা
মার্কিন সরকার নতুন করে ইরানের সঙ্গে আরব দেশগুলোর সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। কয়েকটি আরব দেশের কর্মকর্তাদের একের পর এক ওয়াশিংটন সফর থেকে এ বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান সম্প্রতি ওয়াশিংটন সফরে গিয়ে ইরান বিরোধী অনেক দিক-নির্দেশনা নিয়ে এসেছেন।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
এপ্রিল ০৮, ২০১৮ ১৩:৪৬ Asia/Dhaka

মার্কিন সরকার নতুন করে ইরানের সঙ্গে আরব দেশগুলোর সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। কয়েকটি আরব দেশের কর্মকর্তাদের একের পর এক ওয়াশিংটন সফর থেকে এ বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান সম্প্রতি ওয়াশিংটন সফরে গিয়ে ইরান বিরোধী অনেক দিক-নির্দেশনা নিয়ে এসেছেন।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সৌদি আরবকে ব্যবহার করে আমেরিকা এ অঞ্চলে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন খেলা শুরু করেছে। মার্কিন সরকারের কয়েকটি সূত্র সম্প্রতি এ কথা ফাঁস করে দিয়েছে যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চান পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা পিজিসিসিভুক্ত দেশগুলো যেন ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করে। সূত্রগুলো আরো জানিয়েছে, ট্রাম্প ইরানের মোকাবেলায় আরব দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করছে। কুয়েতের দৈনিক আল রাই জানিয়েছে, "মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প খুব শিগগিরি আবুধাবিতে সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে সাক্ষাতে মিলিত হবেন। সেসময় তিনি ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করার জন্য আরব দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানাবেন।"

বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আশা করেছিলেন, যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের ওয়াশিংটন সফরকালে কাতারের সঙ্গে সৌদির বিবাদের অবসান ঘটানো যাবে। কিন্তু তার সে প্রচেষ্টা সফল হয়নি। শেষ পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও সৌদি যুবরাজ ইরানের মোকাবেলায় আরব দেশগুলোর মধ্যে ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি প্রকাশ করার মধ্যেই সীমিত থাকেন।

বাস্তবতা হচ্ছে আমেরিকা অনেক দিন ধরেই আরব দেশগুলোকে নিয়ে যৌথ সামরিক বাহিনী গঠনের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। ন্যাটো জোটের সাবেক কমান্ডার জেমস জোন্স এক বছর আগে আরব দেশগুলোকে নিয়ে 'আরব ন্যাটো' জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। অবশ্য সৌদি আরবসহ কয়েকটি আরব দেশ এ লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে 'আরব ন্যাটো' জোট গঠনের ব্যাপারে আমেরিকা ও সৌদি আরবের নীতির সঙ্গে সব আরব দেশ একমত নয়। বিশেষ করে কুয়েত, কাতার ও ওমান ইরানবিরোধী যে কোনো জোট গঠনের বিরোধিতা করছে।

এমনকি ইরান বিরোধী জোট গঠনের ব্যয়ভারও আরব দেশগুলোর কাঁধে চাপানোর চেষ্টা করছে আমেরিকা। আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় ট্রাম্প ইরান বিরোধী এ ধরণের পদক্ষেপ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

লন্ডন থেকে প্রকাশিত দৈনিক রাই আল ইয়াওম লিখেছে, কয়েকটি আরব দেশ আমেরিকার পাতা ফাঁদে পা দিয়েছে এবং ইরানকে হুমকি হিসেবে তুলে ধরে ওই ফাঁদ পাতা হয়েছে। দৈনিকটির ইন্টারনেট সংস্করণে বলা হয়েছে, আমেরিকা এবার সিরিয়া ভূখণ্ড থেকে নয় বরং পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে ইরানকে টার্গেট করেছ।

গত চার দশকের কর্মকাণ্ডে প্রমাণিত হয়েছে আমেরিকা এ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চায় না এবং সন্ত্রাসীদের হুমকি মোকাবেলায় তারা কোনো পদক্ষেপই নেয়নি। কারণ আমেরিকা নিজেরাই এসব হুমকি সৃষ্টি করেছে যাতে এ অঞ্চলের দেশগুলোর কাছে অস্ত্র বিক্রি করে নিজেদের অস্ত্র নির্মাণ কোম্পানিকে বাঁচিয়ে রাখা যায়।#    

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৮