ইরানের দৃষ্টিতে সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রপন্থার শেকড়
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i56854-ইরানের_দৃষ্টিতে_সন্ত্রাসবাদ_ও_উগ্রপন্থার_শেকড়
ইরানের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী গোলাম হোসেন দেহকানি উগ্র মতবাদকে সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রপন্থা বিস্তারের কারণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এই মতবাদ জাতিগুলোর মধ্যে ঘৃণা বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে। তাজিকিস্তানের রাজধানী দোশাম্বেতে অনুষ্ঠিত "সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে করণীয়" শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেছেন।
(last modified 2026-06-24T09:59:37+00:00 )
মে ০৬, ২০১৮ ১৩:১১ Asia/Dhaka

ইরানের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী গোলাম হোসেন দেহকানি উগ্র মতবাদকে সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রপন্থা বিস্তারের কারণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এই মতবাদ জাতিগুলোর মধ্যে ঘৃণা বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে। তাজিকিস্তানের রাজধানী দোশাম্বেতে অনুষ্ঠিত "সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে করণীয়" শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেছেন।

দেহকানি ৭০ বছর ধরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি দখলদারিত্ব অবসানের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আন্তর্জাতিক সমাজের উচিত এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ দেয়া। ইরানেও সন্ত্রাসী হামলায় ১৭ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে মোকাবেলা এবং তাদের শেকড় উৎপাটনের ক্ষেত্রে অন্য দেশের চেয়ে ইরান সবচেয়ে অগ্রগামী। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইরানের অবস্থান স্পষ্ট এবং এ ক্ষেত্রে দেশটি যথেষ্ট সাফল্যের পরিচয় দিয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনাবলী থেকে বোঝা যায়, মার্কিন নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদী বৃহৎ শক্তিগুলো ইসলামকে ধ্বংস করা এবং ইসলামকে পাশ্চাত্যের বিরুদ্ধে  দাঁড় করানোর জন্য সন্ত্রাসী ও উগ্রপন্থীদেরকে ব্যবহার করছে। প্রায় তিন বছর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী পাশ্চাত্যের যুবকদের উদ্দেশ্যে লেখা দু'টি খোলা চিঠিতে এ বিষয়গুলো তুলে ধরেছিলেন। ২০১৫ সালে লেখা ওইসব চিঠিতে তিনি বর্তমান মানব সমাজ কেন সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রপন্থার কবলে আটকা পড়েছে তার কারণ খোঁজার পরামর্শ দেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা তার ওই চিঠিতে সন্ত্রাসবাদ বিষয়ে আমেরিকা ও পাশ্চাত্যের দ্বিমুখী নীতি, মুসলিম দেশগুলোতে সামরিক আগ্রাসন, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে রক্তপাত এবং উগ্র মতবাদ মোকাবেলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষক জেফরি সাকেস এক নিবন্ধে লিখেছেন, "উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বিজয় অর্জন খুব একটা কঠিন কাজ নয়। কারণ তাদের পর্যাপ্ত জনশক্তি নেই কিন্তু মূল সমস্যা হচ্ছে আমেরিকা ও তার মিত্ররা দায়েশকে তাদের প্রধান শত্রু বলে মনে করে না।"

প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলার পর খ্যাতনামা মার্কিন চিন্তাবিদ নওম চমস্কি প্রশ্ন তুলেছিলেন আমেরিকা কি আদৌ সন্ত্রাসবাদের অবসান চায়। তিনি বলেন, আমেরিকা যদি সন্ত্রাসবাদের অবসান চায় তাহলে কেন এ ধরণের হামলার ঘটনা ঘটছে এবং সন্ত্রাসবাদের মূল শেকড়ইবা কোথায়? তিনি এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার আহ্বান জানান।

বর্তমানে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয় বরং সারা বিশ্বে সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদের শেকড় উপড়ে ফেলার জন্য পারস্পরিক সহযোগিতা জরুরি হয় দাঁড়িয়েছে। মানব সমাজের অভিন্ন এ হুমকি মোকাবেলায় অন্য দেশকে সহযোগিতা করতে ইরান তার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। বাস্তবেও ইরান এ ক্ষেত্রে আন্তরিকতার প্রমাণ দিয়েছে। ইরাক ও সিরিয়ায় তাকফিরি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইরানের বিজয় থেকে বোঝা যায় সত্যিকারের সহযোগিতার মাধ্যমে এ অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। #  

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৬