মার্কিন হুমকি উপেক্ষা! ইরানের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতা টিকিয়ে রাখা হবে: ইউরোপ
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা ফেডেরিকা মোগেরিনির মুখপাত্র মায়া কুচিয়ানচিক বলেছেন, "পাশ্চাত্যের সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা 'কার্যকরভাবে ও পুরোপুরি' বাস্তবায়ন করা হবে।" তিনি বলেন, "পরমাণু সমঝোতা ইউরোপসহ গোটা বিশ্বের নিরাপত্তা রক্ষায় সহায়ক বলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কার্যকরভাবে এ সমঝোতা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।"
ইরানকে পরমাণু সমঝোতায় ধরে রাখার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন যখন দেশটিকে প্যাকেজ প্রস্তাব দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ঠিক তখন ইউরোপের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা এলো। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান যাতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য ওই প্যাকেজ প্রস্তাব দেবে ইউরোপ। ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখলে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে বলে আমেরিকা যে হুমকি দিয়ে রেখেছে ইরানকে প্যাকেজ প্রস্তাব দেয়ার মাধ্যমে ইউরোপ তা উপেক্ষা করতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে ফেডেরিকা মোগেরিনির মুখপাত্র মায়া কুচিয়ানচিক বলেছেন, "ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও তাদের আন্তর্জাতিক মিত্ররা পরমাণু সমঝোতা টিকিয়ে রাখা ও এর সুফল পাওয়ার জন্য নানা পদক্ষেপ নিয়েছে।"
ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা বলবত করার সময় যতই ঘনিয়ে আসছে ততই ইউরোপের কোনো কোম্পানি যাতে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করতে না পারে সেজন্য ট্রাম্প প্রশাসন ইউরোপের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে চলেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতি নির্ধারণী পরিষদের সদস্য ব্রায়ান হুক দাবি করেছেন, "আগামী ৪ আগস্ট ইরান বিরোধী কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের প্রাথমিক পর্যায় বাস্তবায়নের প্রাক্কালে এখন পর্যন্ত ৫০টি দেশ ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক কমিয়ে আনতে সম্মত হয়েছে।" তিনি আরো দাবি করেন, "ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্য সরকার পরিবর্তন করা নয় বরং বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশটির নীতিতে পরিবর্তন আনাই ওয়াশিংটনের প্রধান উদ্দেশ্য।"
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ৮মে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য দেশটির তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি অন্য কোনো দেশ যাতে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা বাণিজ্য করতে না পারে সেজন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, "ইরান বিরোধী তেল নিষেধাজ্ঞার কারণে যাতে বিশ্ব বাজারে তেলের ঘাটতি না পড়ে সে লক্ষ্যে তিনি তেলের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।"

তবে, আমেরিকার এসব প্রচারণা ও আতঙ্ক সৃষ্টি এবং বিভিন্ন দেশকে আমেরিকার নীতি মেনে নিতে বাধ্য করার চেষ্টা সত্বেও ভারত, চীন ও তুরস্ক ইরানের কাছ থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নও ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক, বাণিজ্য ও ব্যাংকিং সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে ঘোষণা করেছে। ইউরোপের মতে পরমাণু সমঝোতাকে অবশ্যই টিকিয়ে রাখতে হবে। কারণ এটা ইউরোপসহ সারা বিশ্বের নিরাপত্তা ও শান্তির জন্য খুবই জরুরি।
ইউরোপের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা ফেডেরিকা মোগেরিনি যেমনটি বলেছেন, "আন্তর্জাতিক সমাজ পরমাণু সমঝোতা টিকিয়ে রাখার পক্ষে। কারণ এই চুক্তির কোনো বিকল্প নেই এবং মধ্যপ্রাচ্যে পরমাণু অস্ত্র প্রতিযোগিতা রোধে তা কার্যকর ভূমিকা রাখবে।"
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পরমাণু সমঝোতার কারণে ইরানের সঙ্গে ইউরোপের বাণিজ্য সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশের সঙ্গে বাণিজ্য সুবিধা হাত ছাড়া করতে ইউরোপ রাজি নয়। #
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৩