ইসলামি বিপ্লব পরবর্তী ইরানের উন্নয়ন
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i67629-ইসলামি_বিপ্লব_পরবর্তী_ইরানের_উন্নয়ন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সিদ্দিকুর রহমান খানের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইরানের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলছিলাম আমরা। বিশেষ করে বিপ্লবের চার দশকে ইরান কতোটা উন্নতি করলো, কোন্ কোন‌্ ক্ষেত্রে অগ্রগতি অর্জন করলো সেসব নিয়ে গবেষণাধর্মী বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরছিলেন তিনি।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জানুয়ারি ২৬, ২০১৯ ১৭:২০ Asia/Dhaka

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সিদ্দিকুর রহমান খানের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইরানের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলছিলাম আমরা। বিশেষ করে বিপ্লবের চার দশকে ইরান কতোটা উন্নতি করলো, কোন্ কোন‌্ ক্ষেত্রে অগ্রগতি অর্জন করলো সেসব নিয়ে গবেষণাধর্মী বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরছিলেন তিনি।

ইতোপূর্বে আপনারা কয়েকটি পর্ব শুনেছেন। গত পর্বে আমরা জেনেছি যে ইরান জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ করে প্রযুক্তি ক্ষেত্রে অসামান্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। পারমাণবিক ক্ষেত্রে, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে, ন্যানো টেকনোলজিতেও ইরান ব্যাপক এগিয়ে গেছে। আজকের পর্বে আমরা তরুণ সমাজের আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠার বিষয় নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করবো।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বক্তব্য দিয়েই শুরু করা যাক। তিনি বলেছেন:

"আমি সুনিশ্চিতভাবে, দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে যতোটা তথ্য আমার কাছে আছে, তার ভিত্তিতে নিশ্চিতভাবে বলতে চাই: এই জাতি এবং এই নতুন ও তরুণ প্রজন্ম সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তারা আর অবজ্ঞার শিকার বা অপমানিত হতে চায় না।  

তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাচ্ছিল্য মেনে নেবে না। পরাশক্তিগুলোর পেছনে কিংবা শত্রুদের পদলেহন করবে না। সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা তাদের প্রিয় স্বদেশকে গর্ব, সম্মান ও মর্যাদার শিখরে নিয়ে যাবে"।

ইসলামি বিপ্লবের শ্রেষ্ঠ অর্জন হলো জাতীয় আত্মবিশ্বাস। নিজের ওপর দৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাস এবং তরুণদের প্রতিভার বিকাশের ফলে পশ্চিমা জগতের ওপর তরুণদের নির্ভরতার বিষয়টি চিন্তা চেতনা থেকে চলে গেছে।  বিপ্লবের আগে তরুণদের বদ্ধমূল বিশ্বাস ছিল পশ্চিমাদের সহযোগিতা ছাড়া কোনো কিছু করার সুযোগ নেই। বিপ্লবের ফলে এই ধারনা কেটে গেছে এবং তরুণরা বিশ্বাস করতে শিখেছে যে কারও সাহায্য ছাড়া আমরাও পারি। এই আত্মবিশ্বাসের ফলেই তরুণ সমাজ পেয়েছে নতুন প্রেরণা, নতুন কিছু করার উদ্দীপনা। ড. সিদ্দিক চমৎকার একটি কথা বলেছেন। তিনি বিপ্লব পূর্ববর্তী ইরানের আধুনিকতা এবং বিপ্লব পরবর্তীকালের আধুনিকতার মৌলিক একটি পার্থক্যের কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর উচ্চারণেই শোনা যাক।

ড. সিদ্দিকের এই বক্তব্যের সত্যতা প্রামাণ্য হয়ে ওঠে সর্বোচ্চ নেতার ছোট্ট অথচ অর্থঘন একটি বাক্যের মধ্যে। তিনি বলেছেন:

ইরানের সঙ্গে আমেরিকার সংকটটা হলো ইরানে তাদের ফিরে আসার চেষ্টা। আমেরিকা চায় ইসলামি বিপ্লবের আগে বা ইসলামি সরকার ব্যবস্থার আগে ইরানে তাদের যে আধিপত্য ছিল সে খানে ফিরে যেতে, সেই অবস্থার পুনর্গঠন বা পরিস্থিতি পুনর্নির্মাণ করতে, তারা এটাই চায়। কিন্তু সেটা তো বাস্তব নয়, সম্ভব নয়, হবার নয়। সর্বোচ্চ নেতা এই যে বললেন বিপ্লব-পূর্ব কালের ইরানে আর ফিরে যাওয়া সম্ভব নয় ইসলামের শত্রুদের পক্ষে। এই দৃঢ় আশা ও অঙ্গীকারই আজকের ইরানি তরুণদের নিভীর্ক হয়ে ওঠার নেপথ্য প্রেরণা। স্বয়ং রাহবারও বলেছেন সে কথা।                        

এদিকে ড. সিদ্দিকও তরুণ সমাজের ওপর বিপ্লবের ব্যাপক প্রভাবের কথা বললেন। তাঁর নিজের উচ্চারণেই শোনা যাক।

মার্কিন বিশিষ্ট ভাষাবিজ্ঞানী নওম চমস্কির মত বিশ্বখ্যাত বিশেষজ্ঞরাও মনে করেন ইরানের ইসলামী বিপ্লবের প্রভাবে  বিশ্বের মজলুম ও সংগ্রামী জাতিগুলোর স্বাধীনতা ও মুক্তিকামীতা এবং ন্যায়কামীতা জোরদার হয়েছে। আর এ জন্যই ইসলামী ইরানের বিরুদ্ধে নানা ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও নিষেধাজ্ঞা আরোপের নীতি ব্যবহার করছে মার্কিন সরকার যাতে অন্য কোনো দেশ বা জাতি ইরানের অনুসরণ না করে কিংবা মার্কিন আধিপত্যকামীতার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে না দাঁড়ায়। কিন্তু শত নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরানের সংগ্রামী ও বিপ্লবী নীতির সাফল্য বিশ্বের মুক্তিকামী জাতিগুলোর জন্য দিনকে দিন বড় ধরনের অনুপ্রেরণা ও সংগ্রামের আদর্শ বা মডেলে পরিণত হচ্ছে।

যাই হোক বন্ধুরা! তরুণদের মাঝে যে কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার চিন্তা জেগে উঠেছে, স্বৈরাচারী শক্তির বিরুদ্ধে যে অকুতোভয় হয়ে ওঠার স্পৃহা জেগেছে সেটা আসলে বিপ্লবেরই ইতিবাচক প্রভাব। সারা বিশ্বেই এই বিপ্লবের প্রভাব বিস্তৃতি লাভ করুক। বিশ্ব আধিপত্যবাদী অপশক্তির ছোবল থেকে মুক্তি লাভ করুক নির্যাতিত নিপীড়িত জনতা। মজলুমেরা ফিরে পাক স্বাধীনতা। #

পার্সটুডে/নাসির মাহমুদ/মো.আবুসাঈদ/২৬                    

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন