ট্রাম্পের সুরে ম্যাকরন যা বলছেন তাতে সংকট গভীর হবে: ইরান
-
ফ্রান্সের নরম্যান্ডিতে বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন ম্যাকরন
ইরান বলেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরন যে বক্তব্য দিয়েছেন তা পরমাণু সমঝোতা রক্ষায় সাহায্য করবে না বরং এর ফলে এতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর মধ্যে আস্থাহীনতা আরো গভীর হবে। ট্রাম্পের সঙ্গে বৃহস্পতিবার এক বৈঠকে ম্যাকরন পরমাণু সমঝোতার শর্ত বাড়ানোর লক্ষ্যে নতুন করে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
তার এ আহ্বানের ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্বাস মুসাভি ওই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “বর্তমান প্রেক্ষাপটে পরমাণু সমঝোতার বাইরে নতুন করে ইস্যু তৈরি করার চেষ্টা করা হলে এ সমঝোতাকে বাঁচানো যাবে না। উল্টো এর ফলে এ সমঝোতায় টিকে থাকার ক্ষেত্রে এতে স্বাক্ষরাকরী দেশগুলোর মধ্যে আস্থার সংকট আরো ঘনীভূত হবে।”
মুসাভি বলেন, এর ফলে মার্কিন সরকার পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গিয়ে এ সমঝোতাকে ধ্বংস করার যে কুপরিকল্পনা করেছিল তা সফল হবে।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে ম্যাকরন ইরানের আচরণে কথিত পরিবর্তন আনার জন্য ওয়াশিংটন ও প্যারিসের মধ্যে চারটি বিষয়ে মতৈক্য হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। ম্যাকরন বলেন, ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা, দেশটির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির লাগাম টেনে ধরা, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ইরানের প্রভাব কমানো এবং এ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে ট্রাম্পের সঙ্গে তিনি একমত হয়েছেন। এসব লক্ষ্য অর্জনের লক্ষ্যে পরমাণু সমঝোতায় নতুন কিছু ধারা সংযোজনের লক্ষ্যে নতুন করে আলোচনার প্রস্তাব দেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ সম্পর্কে তার প্রতিক্রিয়ায় আরো বলেন, আমেরিকা বেআইনিভাবে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর এটি রক্ষার লক্ষ্যে ইউরোপীয় দেশগুলো পদক্ষেপ নেয়ার কথা বললেও কার্যত কিছুই করেনি। এ অবস্থায় তাদের পক্ষ থেকে নতুন করে শর্ত আরোপ গ্রহণযোগ্য নয়।
ম্যাকরন এমন সময় ট্রাম্পের সঙ্গে সুর মিলিয়ে ইরানকে কথিত পরমাণু অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টা থেকে বিরত রাখার কথা বললেন যখন ২০১৫ সালে পরমাণু সমঝোতা স্বাক্ষরের মূল লক্ষ্য ছিল এটি এবং আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা গত চার বছরে তার সবগুলো প্রতিবেদনে একথার সত্যতা নিশ্চিত করেছে যে, ইরান পরমাণু সমঝোতা পুরোপুরি মেনে চলছে।#
পার্সটুডে/মো. মুজাহিদুল ইসলাম/৮