নিউইয়র্কে জারিফের ওপর নিষেধাজ্ঞা: কূটনৈতিক ক্ষেত্রে ইরানের শক্তিমত্তা প্রমাণ
-
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
মার্কিন কর্মকর্তারা নিউইয়র্কে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অবাধ সফরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তিনি জাতিসংঘের অর্থনৈতিক বিষয়ক বার্ষিক সেমিনারে যোগ দেয়ার জন্য নিউইয়র্ক সফরে গেছেন। জারিফ টুইট বার্তায় বলেছেন, তিনি ও তার প্রতিনিধি দলকে নিউইয়র্কের মাত্র তিনটি জায়গা ছাড়া অন্য কোথাও যাওয়ার অনুমতি দেয়নি কর্তৃপক্ষ।
মার্কিন সরকার তাকে নিউইয়র্ক সফরের ভিসা দিলেও জারিফকে জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, জাতিসংঘের সদরদপ্তর, ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধির বাসভবন ও ইরানের কূটনৈতিক মিশনের মধ্যে যাতায়াত ছাড়া অন্য কোথাও যেতে নিষেধ করা হয়েছে। জারিফ বলেন, তার সফরের ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে তিনি জাতিসংঘে ইরানি প্রতিনিধির বাসভবনে টেলিভিশনে সাক্ষাতকার দিতে বাধ্য হয়েছে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে মার্কিন সরকারের এ ধরণের আচরণ অবশ্য অপ্রত্যাশিত কিছু নয়। যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ তা হচ্ছে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ওয়াশিংটন পোস্টকে দেয়া সাক্ষাতকারে স্বীকার করেছেন, "আমেরিকাসহ সারা বিশ্বের জনমতের ওপর জাওয়াদ জারিফের অবাধ সফর ও বিভিন্ন বক্তব্যের প্রভাবের বিষয়ে আমরা চিন্তিত।"
তার এ বক্তব্য থেকেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের ওপর বিধিনিষেধের কারণ ফুটে উঠে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বহু আইন লঙ্ঘন করেছেন। জাওয়াদ জারিফের সফরের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করেও তিনি কূটনৈতিক অধিকার লঙ্ঘন করেছেন। এমনকি এ আচরণে জাতিসংঘ পর্যন্ত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘ মহাসচিবের উপ মুখপাত্র ফারহান হক বলেছেন, “স্বাগতিক দেশের পক্ষ থেকে নিউ ইয়র্কস্থ ইরানের কূটনৈতিক মিশনের কর্মকর্তাদের ওপর যে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে সে সম্পর্কে অবগত হয়েছে জাতিসংঘের সচিবালয়। স্বাগতিক দেশের কূটনৈতিক মিশনের মাধ্যমে এ বিষয়ে জাতিসংঘের উদ্বেগের বিষয়টি মার্কিন সরকারকে জানানো হয়েছে।"
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মার্কিন কর্মকর্তাদের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরান। কারণ ইরানের কর্মকর্তারা যতবার নিউইয়র্কে গেছেন ততবার তারা গণমাধ্যমগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছেন। এর ফলে ইরানের কর্মকর্তারা আরো ভালভাবে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার সুযোগ পান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এর আগেও নিউইয়র্ক সফরে গিয়ে ব্যাপক গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
তিনি সম্প্রতি বি-টিমের যুদ্ধকামী তৎপরতার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, এই টিম যেভাবেই হোক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করছে। তিনি মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও আমিরাতের যুবরাজ বিন জায়েদকে বি-টিমের সদস্য হিসেবে উল্লেখ করেন।
যাইহোক, পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মার্কিন সরকার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কূটনীতিকদের ভ্রমণের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা থেকে বোঝা যায় ইরানের প্রভাবে তারা বেশ শঙ্কিত।#
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৭