কাশ্মির ইস্যুতে পাকিস্তানে বিক্ষোভ: সংকট সৃষ্টির মূল হোতা আমেরিকা ও ইসরাইল
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i72581-কাশ্মির_ইস্যুতে_পাকিস্তানে_বিক্ষোভ_সংকট_সৃষ্টির_মূল_হোতা_আমেরিকা_ও_ইসরাইল
ভারতের নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার কাশ্মিরের বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ সুবিধা সম্বলিত সংবিধানের ৩৭০ ধারা ও ৩৫-এ ধারা বাতিল এবং একইসঙ্গে জম্মু-কাশ্মির থেকে লাদাখকে আলাদা করে দেয়ার পর ওই অঞ্চলে এখন তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
আগস্ট ০৬, ২০১৯ ১৪:১১ Asia/Dhaka
  • কাশ্মিরিদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে পাকিস্তানে বিক্ষোভ
    কাশ্মিরিদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে পাকিস্তানে বিক্ষোভ

ভারতের নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার কাশ্মিরের বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ সুবিধা সম্বলিত সংবিধানের ৩৭০ ধারা ও ৩৫-এ ধারা বাতিল এবং একইসঙ্গে জম্মু-কাশ্মির থেকে লাদাখকে আলাদা করে দেয়ার পর ওই অঞ্চলে এখন তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এদিকে, কাশ্মিরি জনগণের বিরুদ্ধে ভারত সরকারের এ পদক্ষেপের প্রতিবাদ জানিয়ে পাকিস্তানে ব্যাপক বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। রাজধানী ইসলামাবাদ ও করাচি, লাহোরসহ বিভিন্ন শহরের জনগণ ভারত বিরোধী শ্লোগান দিয়ে কাশ্মিরি জনগণের ন্যায্য অধিকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। একদিকে জম্মু-কাশ্মিরের বিরুদ্ধে ভারত সরকারের এ পদক্ষেপ অন্যদিকে পাকিস্তান জুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ও সমালোচনা গোটা ওই অঞ্চলকে উত্তপ্ত করে তুলেছে। ভারত সরকার জম্মু-কাশ্মিরের জনগণের ওপর দমনপীড়ন তীব্রতর করার পাশাপাশি ওই অঞ্চলের স্বায়ত্বশাসন কেড়ে নেয়া থেকে বোঝা যায় কাশ্মির ইস্যুতে নরেন্দ্র মোদি সরকার চরম দমনপীড়ন ও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছে।

সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল হওয়ায় ভারতের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় সাতদশক ধরে পেয়ে আসা বিশেষ মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হলো জম্মু-কাশ্মীরের জনগণ। এই ধারা অনুযায়ী প্রতিরক্ষা, বৈদেশিক সম্পর্ক ও যোগাযোগ ছাড়া অন্যকোনও বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার হস্তক্ষেপ করতে পারতো না। একইসাথে, নতুন আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রেও কেন্দ্র সরকারের কোনও ভূমিকা রাখার অধিকার ছিলো না। কিন্তু এখন থেকে সেই নিয়ম আর থাকছে না। ৩৭০ ধারার অধীনেই ছিল ৩৫-এ ধারা। এই ৩৫-এ ধারা অনুযায়ী কাশ্মীরের স্থায়ী বাসিন্দারা বিশেষ সুবিধা পেতেন। স্থায়ী বাসিন্দা ছাড়া অন্য রাজ্যের কেউ সেখানে স্থাবর সম্পত্তি কিনতে ও চাকরির আবেদন করতে পারত না। গত প্রায় ৭০ বছর ধরে এ নিয়ম বলবত থাকলেও এখন থেকে এসব আইন আর কার্যকর হবে না। জম্মু-কাশ্মিরের জনগণ দিল্লীর এ পদক্ষেপকে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা হিসেবে অভিহিত করেছে। 

কাশ্মিরিদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে পাকিস্তানে বিক্ষোভ

পাকিস্তান সরকার এবং ওআইসিসহ আন্তর্জাতিক কয়েকটি জোট ভারতের এ পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। কাশ্মিরের মালিকানা নিয়ে গত প্রায় ৭০ দশক ধরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। পাকিস্তানের জনগণ কাশ্মির ইস্যুতে খুবই আবেগপ্রবণ এবং তারা সেখানকার স্থানীয় জনগণের ইচ্ছার বাইরে অন্য কোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেবে না। এ অবস্থায় তাদের বিক্ষোভ শুধু একদিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বলেই মনে হয়।

কাশ্মির ইস্যুটি পাকিস্তানের জনগণসহ আন্তর্জাতিক সমাজ বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলোর কাছে অন্যতম প্রধান গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। এ অবস্থায় ভারত সরকার কাশ্মিরিদের জন্য রাখা বিশেষ মর্যাদা কেন কেড়ে নিল তাই বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। যদিও মনে করা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাশ্মিরের ব্যাপারে এ পদক্ষেপ নিয়েছেন কিন্তু ধারণা করা হচ্ছে, আমেরিকা ও দখলদার ইসরাইলসহ বাইরের কয়েকটি মহলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভারত সরকার এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। কারণ দীর্ঘদিন ধরে কাশ্মিরি জনগণের ওপর জুলুম নির্যাতন ও ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টিতে ওই দেশগুলোর ভূমিকা রয়েছে।

বাইরের উস্কানির কারণে একেবারে হঠাত ও অপ্রত্যাশিতভাবেই কাশ্মির ইস্যুটি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই ভারতের অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছে। #           

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৬