ইরানের ইন্টারনেট পরিসেবা নিয়ে কথা আমেরিকার মুখে মানায় না: মন্ত্রী
-
মোহাম্মাদ জাওয়াদ অযারি জাহরোমি
ইরানে ইন্টারনেট পরিসেবা বন্ধ থাকার সমালোচনা করে একজন সিনিয়র মার্কিন কূটনীতিক যে মন্তব্য করেছেন তার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইরানের টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ অযারি জাহরোমি। তিনি বলেছেন, ইরানি জনগণের জন্য অবাধ ইন্টারনেট সেবা চালু রাখার ব্যাপারে মার্কিনীদের মুখে যে উৎকণ্ঠা শোনা যায় তা ভণ্ডামি ছাড়া আর কিছু নয়।
মন্ত্রী গতকাল (সোমবার) তেহরানে বলেন, মার্কিনীদের উচিত অবাধ ইন্টারনেটের চিন্তা বাদ দিয়ে ক্যান্সার আক্রান্ত ইরানি রোগীদের জন্য অবাধে জরুরি ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা। যে আমেরিকা কঠোর অবরোধ আরোপ করে ইরানি জনগণের জীবন দুর্বিসহ করে তুলেছে তার মুখে ইন্টারনেট পরিসেবা নিয়ে বক্তৃতা মানায় না বলেও মন্ত্রী উল্লেখ করেন।
জার্মানিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রিচার্ড অ্যালেন গ্রেনেল রোববার এক টুইটার বার্তায় দাবি করেন, ইরানে ইন্টারনেট বন্ধ রাখার যেকোনো প্রচেষ্টা নস্যাত করে দেশটিতে এই পরিসেবা নিশ্চিত করার কারিগরি সক্ষমতা আমেরিকার রয়েছে।
ওই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী জাহরোমি। তিনি বলেন, শিগগিরই ইরানে ইন্টারনেট সেবা চালু হবে এবং এর গুণগত মান উন্নয়নের জন্যও তেহরান প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। অযারি জাহরোমি বলেন, আমেরিকার নিপীড়নমূলক নীতির স্বরূপ উন্মোচনের কাজে ইরানের ইন্টারনেট সেবাকে ব্যবহার করা হবে।
মার্কিন সরকার ২০১৮ সালের মে মাসে পাশ্চাত্যের সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যায় এবং একই বছরের নভেম্বর মাসে তেহরানের ওপর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করে। নিষেধাজ্ঞার ফলে বহির্বিশ্বের সঙ্গে ইরানের ব্যাংকিং লেনদেন ও বৈদেশিক বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় যারা সরাসরি প্রভাব পড়ে জরুরি খাদ্য ও ওষুধ আমদানির ওপর। ইরানের খাদ্য ও ওষুধ আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি বলে আমেরিকা দাবি করলেও বাস্তবতা হচ্ছে, নিষেধাজ্ঞার কারণে ব্যাংকিং চ্যানেল অর্থ পরিশোধ করা সম্ভব নয় বলে ইরানের পক্ষে ওষুধ আমদানি করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ক্যান্সারসহ অন্যান্য জটিল রোগে আক্রান্ত ইরানি রোগী মৃত্যুমুখে পতিত হচ্ছেন।#
পার্সটুডে/এমএমআই/এআর/১৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।