করোনার থাবায় ইইউ'র অস্তিত্ব হুমকির মুখে: স্পেনের হুঁশিয়ারি
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i78854-করোনার_থাবায়_ইইউ'র_অস্তিত্ব_হুমকির_মুখে_স্পেনের_হুঁশিয়ারি
করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে গোটা ইউরোপ আজ বিপর্যস্ত। ওষুধ ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে তারাও গভীর সংকটে নিমজ্জিত। করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এ অবস্থায় ইউরোপের নেতৃবৃন্দ ও বিশেষজ্ঞরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভবিষ্যত এবং এর ঐক্যবদ্ধ অবস্থান টিকে থাকার ব্যাপারে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা ইউরোপীয় ইউনিয়ন আদৌ টিকে থাকবে কিনা সে ব্যাপারে সবাইকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন।
(last modified 2026-06-05T12:08:31+00:00 )
এপ্রিল ০৬, ২০২০ ১২:৪৬ Asia/Dhaka
  • স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেয
    স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেয

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে গোটা ইউরোপ আজ বিপর্যস্ত। ওষুধ ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে তারাও গভীর সংকটে নিমজ্জিত। করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এ অবস্থায় ইউরোপের নেতৃবৃন্দ ও বিশেষজ্ঞরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভবিষ্যত এবং এর ঐক্যবদ্ধ অবস্থান টিকে থাকার ব্যাপারে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা ইউরোপীয় ইউনিয়ন আদৌ টিকে থাকবে কিনা সে ব্যাপারে সবাইকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেয করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য ও সংহতির আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, 'করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। তাই এখনই যদি আমরা পদক্ষেপ না নেই তাহলে এই ইউনিয়নকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।'

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী এমন সময় এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করলেন যখন প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এবং ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর স্বল্পতার কারণে সমগ্র ইউরোপ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতিমালার পরিপন্থী সিদ্ধান্ত গ্রহণ পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। ইউরোপীয় দেশগুলোর কোয়ারান্টাইন ঘোষণা, সীমান্ত বন্ধ করে দেয়া, পরস্পরকে আর্থিক সহায়তা না করা, স্পেন ও ইতালির মতো দুর্বল দেশগুলোকে ওষুধ ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে সহযোগিতা না করা প্রভৃতি কারণে করোনার ভয়াবহ বিস্তার ঘটেছে। এ পরিস্থিতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে এবং বিষয়টি গুরুতর।

জার্মানি ও ফ্রান্সে করোনার বিস্তার ঘটায় এ দুই দেশের সরকার মাস্ক, ভেন্টিলেটরসহ যে কোনো চিকিৎসা সরঞ্জাম রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছে। ফলে ইতালি সাহায্য চাইলেও এ ক্ষেত্রে দেশটি কোনো সহযোগিতা পায়নি। তবে চীন ও রাশিয়া ইতালিকে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। দুর্দিনে সহযোগিতা না পাওয়ায় একদিকে ইতালির কর্মকর্তারা ইউরোপের অন্য দেশগুলোর ওপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়েছেন। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ  ব্যাপারে বিদেশিদের হস্তক্ষেপে এই ইউনিয়নের কর্মকর্তারা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। ইতালির কর্মকর্তাদের অভিযোগ ইউ'র নীতিমালা অনুযায়ী এর সদস্য দেশগুলো তাদের কর্তব্য পালন করেনি এবং এ মহাদুর্দিনে তারা ইতালিকে একা ফেলে রেখেছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, করোনা পরবর্তীতে ইউরোপের অর্থনৈতিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে। কিন্তু তার আগেই বর্তমান অসহযোগিতামূলক আচরণ ও অনৈক্য ইউরোপের কর্মকর্তাদেরকে চিন্তিত করে তুলেছে যে আদৌ এ ইউনিয়ন টিকে থাকবে কিনা। কেননা তাদের মতে, ফ্রান্স ও জার্মানির মতো শক্তিশালী দেশগুলোর অসহযোগিতার কারণে ইতালি ও স্পেনের মতো দুর্বল দেশগুলোতে উগ্রপন্থার বিস্তার ঘটতে পারে যারা কিনা ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যেতে চায়। আর এটাই এ ইউনিয়নের জন্য সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয়।

জার্মানির সাবেক দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী করোনার থাবায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনৈক্যের সুযোগ উগ্র গোষ্ঠীগুলো নিতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন। তারা অবিলম্বে ইতালি ও স্পেনকে সহযোগিতায় হাত বাড়িয়ে দেয়ার জন্য জার্মান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

যাইহোক, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর করোনা ভাইরাস ইউরোপের জন্য কঠিন বিপদ হয়ে দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় তারা নিজেদের মধ্যকার ঐক্য ধরে রাখতে পারবে নাকি ধসে পড়বে তা সময়ই বলে দেবে।#

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৬