ইসরাইলের সাথে আরব দেশগুলোর সম্পর্ক স্থাপনের ব্যাপারে তেহরানে সেমিনার
হত্যা ও জবর দখলের মাধ্যমে ইসরাইল নামক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় অবৈধ এই রাষ্ট্র এখনো বৈধতার সঙ্কটে ভুগছে। এটা ইসরাইলের জন্য এমন এক তিক্ত বাস্তবতা যে, কোন আপোষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এই অবস্থা থেকে তারা আজও বেরিয়ে আসতে পারেনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর জানুয়ারিতে ‘ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি’ নামক বিতর্কিত ও ষড়যন্ত্রমূলক একটি পরিকল্পনা তুলে ধরে। ওই পরিকল্পনা উত্থাপনের অনুষ্ঠানে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ছাড়াও আমিরাত, বাহরাইন ও ওমানের রাষ্ট্রদূতরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এ অনুষ্ঠানে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ওই তিন দেশের রাষ্ট্রদূতকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, এটা অত্যন্ত খুশির ব্যাপার এ কারণে যে, এ ধরণের অনুষ্ঠানে আপনাদের উপস্থিতি অনেক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।
ইসরাইলের সঙ্গে আপোষ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ১৩ আগস্ট ইসরাইল ও আমিরাতের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ঘোষণা দেয়ার পর এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে তিনি ১১ সেপ্টেম্বর বাহরাইনের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার খবর দিয়েছেন। ষড়যন্ত্রমূলক মার্কিন পরিকল্পনা ‘ডিল অফ দা সেঞ্চুরি’ উত্থাপন এবং ইসরাইলের সঙ্গে এ অঞ্চলের কোন কোন আরব দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পদক্ষেপ এমন একটা ষড়যন্ত্র যে সম্পর্কে সারা বিশ্বের মানুষের সচেতন হওয়া জরুরী যাতে করে ফিলিস্তিনিদের ওপর জুলুম-নির্যাতনকারী ইসরাইলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমাজ এক হতে পারে। এ উদ্দেশ্যে আজ তেহরানের উদ্যোগে ইসলামি পুনর্জাগরণ বিষয়ক সংসদের ১৩তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই সংসদের সভাপতি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ডঃ আলী আকবর বেলায়েতি এবং করোনা পরিস্থিতির কারণে অনলাইনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই সেমিনারে বিশ্বের ৫০ টি মুসলিম দেশের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা যোগ দেবেন। এ সেমিনারের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আলী আকবর বেলায়েতি বলেছেন, ইসলামি পুনর্জাগরণ বিষয়ক সংসদ তাদের দায়িত্বের বিষয়ে ভালোভাবে অবহিত আছে এবং সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আমিরাত, সৌদি আরব ও বাহরাইনসহ আরো যেসব আরব দেশ দখলদার ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের যে স্বপ্ন দেখছে তাদের এটা জেনে রাখা উচিত যে এই সম্পর্ক স্থাপনের ফলে তারা ফিলিস্তিনিদের অধিকার পদদলিত করবে। ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের এই উদ্যোগ শুধু যে ফিলিস্তিনিদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে তাই নয় একই সাথে হাজার হাজার ফিলিস্তিনির রক্ত ঝরানোর অপরাধে ইসরাইলের সঙ্গে আরব দেশগুলোও শরিক হবে।
দৈনিক রাই আল ইয়াওম পত্রিকার সম্পাদক আব্দুল বারি আতাওয়ান ইসরাইলের সাথে আমিরাতের সম্পর্ক স্থাপনের পর আবুধাবির উদ্দেশ্যে তেলআবিব থেকে সরাসরি প্রথম ফ্লাইট উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, ‘সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহার করে ওই বিমান উড়ে এসেছে যা কিনা এ অঞ্চলের আরব জনগণের জন্য বেদনাদায়ক ব্যাপার। অতীতে স্বশাসন কর্তৃপক্ষ, মিশর ও জর্দানের সাথে ইসরাইলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার মত এবার জর্দান, আমিরাত ও বাহরাইনের এই পদক্ষেপও ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে’।
মজলুম ফিলিস্তিনি জনগণের সংগ্রামের ইতিহাস লক্ষ্য করলে দেখা যাবে ইসরাইল ও আমেরিকার অসংখ্য ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধে আন্দোলন থেমে যায়নি বরং পশ্চিম এশিয়াসহ সারা বিশ্বে ইসরাইল বিরোধী মনোভাব আরো জোরদার হয়েছে। অন্যান্য জাতির মত ফিলিস্তিনি জাতির নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণের অধিকার রয়েছে এবং সবারই এটা বোঝা উচিত ইসরাইলের সঙ্গে আপোষ করে অবৈধ এ রাষ্ট্রের আগ্রাসী নীতিতে পরিবর্তন আনা সম্ভব না। #
পার্সটুডে/পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৬