যুক্তরাষ্ট্রের বলদর্পী আচরণের পরিণতির বিষয়ে সতর্ক করলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i83293-যুক্তরাষ্ট্রের_বলদর্পী_আচরণের_পরিণতির_বিষয়ে_সতর্ক_করলেন_ইরানের_প্রেসিডেন্ট
এ বছর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশন এমন সময় অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন করোনা মহামারিতে সরা বিশ্ব বিপর্যস্ত। এ কারণে এবার অনলাইনে বিশ্বের নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মতামত তুলে ধরছেন।
(last modified 2026-07-21T05:57:31+00:00 )
সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২০ ১১:৫৩ Asia/Dhaka

এ বছর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশন এমন সময় অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন করোনা মহামারিতে সরা বিশ্ব বিপর্যস্ত। এ কারণে এবার অনলাইনে বিশ্বের নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মতামত তুলে ধরছেন।

ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি গতরাতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৫তম বৈঠকে ভিডিও কনফারেন্সে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয়ে ইরানের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। প্রেসিডেন্ট রুহানি যুক্তরাষ্ট্রের স্বেচ্ছাচারী আচরণের নানা দিক এবং এর পরিণতির বিষয়ে বক্তব্য তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, 'ইরানের মুসলিম জাতি কখনো মার্কিন বলদর্পিতার কাছে মাথা নত করবে না এবং কথায় নয় বরং কাজের মাধ্যমে আমরা তা দেখিয়ে দিয়েছি। গত কয়েক হাজার বছরের ইতিহাস লক্ষ্য করলে দেখা যাবে ইরানি জাতি কখনো কোন বলদর্পী শক্তির কাছে আত্মসমর্পণ করেনি।' আমেরিকা আমাদের কাছে না আলোচনার টেবিলে না যুদ্ধের মাধ্যমে কোন দিক দিয়েই কুলিয়ে উঠতে পারছে না উল্লেখ করে তিনি আরো বলেছেন আজ বলদর্পী শক্তিগুলোকে 'না' বলার সময় এসেছে।' তিনি বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিমুখী নীতির কারণে সারা বিশ্বের নিরাপত্তা আজ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।'

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বহুদিন ধরে মানবাধিকারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পাশ্চাত্য দ্বিমুখী আচরণ করছে। খোদ মার্কিন সমাজে যে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে তা ওই দেশের সরকারের দ্বিমুখী আচরণেরই ফল। আমেরিকার জনগণ সেদেশের নেতাদের বর্ণবাদী আচরণ, দুর্নীতি ও অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং সারা বিশ্বের মানুষ তাদের প্রতিবাদ প্রত্যক্ষ করছে।

পরমাণু ক্ষেত্রে ইরানের বিশেষজ্ঞরা বছরের পর বছর ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের জন্য এ সংক্রান্ত প্রযুক্তি ও জ্ঞান অর্জন করেছে। কিন্তু এক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে মার্কিন কর্মকর্তারা। আমেরিকার এ পদক্ষেপের যেমন আইনগত কোনো ভিত্তি নেই তেমনি জাতিসংঘে গৃহীত প্রস্তাবেরও লঙ্ঘন।

বাস্তবতা হচ্ছে, পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারকারী যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করনের পথের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে আছে। দখলদার ইহুদিবাদী ইসরাইলের পরমাণু অস্ত্র ভাণ্ডার গড়ে তোলার ক্ষেত্রে হোয়াইট হাউজের যেমন ভূমিকা রয়েছে তেমনি সৌদি আরবের গোপন পরমাণু তৎপরতার বিরুদ্ধেও তারা কোনো কথা বলছে না। খ্যাতনামা মার্কিন চিন্তাবিদ নওম চমস্কি বিভিন্ন ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের দ্বিমুখী নীতির কথা উল্লেখ করে বলেছেন, ইসলামি ইরান পশ্চিম এশিয়ায় তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশ বা আইএসের  বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলেও যুক্তরাষ্ট্র এটাকে ওই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি কারি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। কিন্তু আমেরিকা ইরাক ও সিরিয়ায় হামলা চালাচ্ছে এবং এতে সেসব দেশের হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে, লক্ষ লক্ষ মানুষ শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে, সাম্প্রদায়িক সংঘাত ছড়াচ্ছে, ইরাককে খণ্ড-বিখণ্ড করার চেষ্টা করছে এবং সারা বিশ্বে সন্ত্রাস ছড়িয়ে দিয়েও এটাকে তার স্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী পদক্ষেপ বলে প্রচার চালাচ্ছে।

এই অবস্থায় আমেরিকার এসব স্বেচ্ছাচারী নীতি মোকাবেলার জন্য প্রয়োজন এমন এক বিশ্ব বা আন্তর্জাতিক সমাজের যারা এর বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেবে, রুখে দাঁড়াবে। এ বিষয়টির ওপর গুরুত্বারোপ করে ইরানের প্রেসিডেন্ট তার বক্তব্যে মার্কিন একক আধিপত্যের পরিণতির বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করে দিয়েছেন।#

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৩