সৌদি আরব হচ্ছে উগ্র চিন্তাদর্শন ও সন্ত্রাসবাদের মূল উৎস: ইরান
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাঈদ খাতিবযাদেহ বলেছেন, 'সৌদি আরব হচ্ছে সন্ত্রাসবাদী ও উগ্র চিন্তাদর্শনের মূল উৎস এবং তারাই পশ্চিম এশিয়ায় সন্ত্রাসীদেরকে আর্থিক ও কারিগরি সব রকম সমর্থন দিয়ে আসছে। নিজের অপরাধী কর্মকাণ্ডের জবাব এড়িয়ে যাবার জন্য নানান রকমের ফন্দি ফিকির ও ষড়যন্ত্র করছে সৌদি সরকার।'
পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি ও সন্ত্রাসীদেরকে সমর্থন দেয়ার অভিযোগ তুলে ইরানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সৌদি রাজার দেয়া ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় সাঈদ খাতিবযাদেহ এ কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির মার্কিন পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ায় সৌদি সরকার এখন যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় দখলদার ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সৌদি রাজার এ ধরনের অভিযোগ অবশ্য নতুন কিছু নয়। সৌদি রাজা সালমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে দেয়া ভাষণে এ অঞ্চলে অস্থিতিশীলতার দায় ইরানের উপর চাপিয়ে দিয়ে ইয়েমেন যুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ, সন্ত্রাসীদের প্রতি সমর্থন দান, দখলদার ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পদক্ষেপ এবং ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার দায় সৌদি আরব এড়াতে পারবে না।
গত কয়েক দশক ধরে সৌদি পররাষ্ট্রনীতির দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে এ দেশটি পশ্চিম এশিয়ায় ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে মূল ভূমিকা রেখে চলেছে। ইরানের বিরুদ্ধে ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দামের চাপিয়ে দেয়া ৮ বছরের যুদ্ধে সাদ্দামের প্রতি সৌদি আরবের সমর্থনের বিষয়টি সবারই জানা আছে। কয়েকটি আরব দেশের সহযোগিতায় সাদ্দাম সরকার ইরানের বিরুদ্ধে ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধের লিপ্ত হয়েছিল। এমনকি ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরাক ও সিরিয়ায় তৎপর সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশ বা আইএসসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সৌদিআরব সমর্থন জুগিয়ে এসেছে যাকিনা পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির প্রধান কারণ। এছাড়া আমেরিকাসহ পাশ্চাত্যের বেশ কয়েকটি দেশের অস্ত্র দিয়ে সৌদি সরকার ইয়েমেনে হামলা চালিয়ে নারী-পুরুষসহ এ পর্যন্ত হাজার হাজার নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করেছে যা কিনা এ অঞ্চলে সৌদি আরবের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির আরেকটি দৃষ্টান্ত। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র কিনে সৌদি আরব সমগ্র এ অঞ্চলে নিরাপত্তাহীন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। কিন্তু তারপরও সৌদি রাজা সালমান জাতিসংঘে দেয়া ভাষণে ইরানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে এ অঞ্চলে নিজের অপকর্ম ঢাকার চেষ্টা করেছেন।
সম্প্রতি কয়েকটি আরব দেশ ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার যে পদক্ষেপ নিয়েছে তার প্রতি সৌদি সমর্থনের প্রতিবাদে এ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের জনগণ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। আরব দেশগুলোকে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিককরণে সৌদি রাজা সহযোগিতা করলেও তিনি ইরানকে এ অঞ্চলের জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরেছেন যা খুবই বিস্ময়কর।
যাইহোক, পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করতে হলে সমন্বিত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। কিন্তু আমেরিকা ও ইসরাইলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সৌদি আরব ইরানের বিরুদ্ধে যেভাবে উঠেপড়ে লেগেছ তাতে এ অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।#
পার্সটুডে/আরএইচ/২৫