ইরান বিরোধিতার আড়ালে রিয়াদের গোপন পরমাণু তৎপরতা: তেহরানের প্রতিক্রিয়া
-
সৌদি আরবের একটি পরমাণু স্থাপনা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সুর মিলিয়ে সৌদি আরবের কর্মকর্তারাও ভিত্তিহীন নানা অভিযোগ তুলে ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচিকে এ অঞ্চলের জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।
এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সৌদি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আদেল আল-জুবায়ের সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, 'যদি ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করা না হয় তাহলে নিজেকে পরমাণু বোমায় সজ্জিত করার অধিকার সৌদি আরব সংরক্ষণ করবে।' এ বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে ভিয়েনায় জাতিসংঘের দপ্তরে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি কাজেম গরিবাবাদি বলেছেন, 'সৌদি আরব যদি পরমাণু বোমা বানানোর পরিকল্পনা করে থাকে কিংবা নিজের গোপন পরমাণু কর্মসূচির ব্যাপারে আইএইএ’কে সহযোগিতা না করার জন্য অজুহাত খুঁজতে থাকে তাহলে তাকে সাহস দেখাতে হবে এবং এর জন্য মূল্য পরিশোধ করতে হবে। তিনি নিজের অফিসিয়াল টুইটার পেজে দেয়া এক পোস্টে আরো বলেন, 'নিজের অপরাধ থেকে অন্যের দৃষ্টিকে দূরে সরিয়ে রাখা এবং ভীতি ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে বিশ্বজনমতকে ধোঁকা দেয়ার ক্ষেত্রে প্রতারকদের দু’টি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল।' গরিবাবাদি আল-জুবায়েরকে উদ্দেশ করে আরো বলেন, 'নিজের অপরাধী কার্যকলাপের দায় অন্যের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করবেন না।'
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচির নিয়ে সৌদি আরবের অপপ্রচারের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, এসব অভিযোগের আড়ালে তারা আসলে নিজেদের পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচির বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করছে যা সমগ্র এ অঞ্চলের নিরাপত্তাকে হুমকিগ্রস্ত করে তুলেছে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ'র পরিদর্শক দলের সাবেক প্রধান আওয়ালি হাইনান এ ব্যাপারে বলেছেন, 'সৌদি সরকারের পরমাণু কর্মসূচিতে কোনো ধরনের স্বচ্ছতা নেই। যেমন তারা এখনো আইএইএ'র সম্পূরক প্রটোকলে সই করেনি। কয়েকটি পরমাণু রিয়েক্টর ছাড়া এ বিষয়ে রিয়াদ আর কি করছে সে ব্যাপারে আমাদের কারোরই সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানা নেই।'
নিউইয়র্ক টাইমস গত আগস্টে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, 'সৌদি আরবের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে প্রত্যন্ত একটি এলাকায় দেশটির সরকার পরমাণু স্থাপনা তৈরি করেছে যার একটিতে ইয়েলো কেক তৈরি করা হতে পারে।'
দুই বছর আগে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান একটি পরমাণু রিয়েক্টরসহ সাতটি পরমাণু কেন্দ্র উদ্বোধন করেন। তিনি সিবিএস নিউজ চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাতকারে দাবি করেছেন, তার দেশ পরমাণু বোমা বানানোর চেষ্টা করছে না কিন্তু ইরান যদি এ ধরনের পদক্ষেপ নেয় তাহলে সৌদি আরবও একই পদক্ষেপ নেবে। আইএইএর তৎকালীন প্রধান ইউকিয়া আমানো তার দায়িত্বের শেষের দিকে বলেছিলেন, পরমাণু রিয়েক্টরে জ্বালানি ভরার আগে সৌদি আরবকে অবশ্যই আইএইএর পরিদর্শকদের পরিদর্শনের অনুমতি দিতে হবে।
এ অবস্থায় সৌদি আরব কেন হঠাৎ করে বিচলিত হয়ে পড়েছে এবং কেনইবা ইরানের পরমাণু তৎপরতার বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে সেটাই বড় প্রশ্ন। অনেকে এর সঙ্গে এ অঞ্চলে মার্কিন প্রভাব দুর্বল হয়ে পড়ার সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করছেন।#
পার্সটুডে/১৮