কড়া অবস্থানে ইরান: পরমাণু বিষয়ে নতুন কিছু সিদ্ধান্ত ঘোষণা; ইউরোপকে আল্টিমেটাম
ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়নে ইউরোপ অনীহা দেখালেও এটিকে টিকিয়ে রাখার জন্য তেহরান অনেক ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। পরমাণু সমঝোতা একটি বহুপক্ষীয় চুক্তি এবং একতরফা কোনো পদক্ষেপ নিয়ে এ থেকে কাঙ্ক্ষিত কোনো ফলাফল পাওয়ার আশা করা যায় না।
ইউরোপের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সংসদ মজলিশে শূরায়ে ইসলামির পররাষ্ট্র নীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক কমিশন পাশ্চাত্যের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নিজেদের মতো করে পথ চলার জন্য পরমাণু বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। এই কমিশনের মুখপাত্র আবুল ফজল আমুই সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, নতুন সিদ্ধান্ত বা পরিকল্পনা অনুযায়ী ইউরোপ যদি পরমাণু বিষয়ে তাদের প্রতিশ্রুতি পালন না করে তাহলে আগামী দুই মাসের মধ্যে তেহরান পরমাণু বিষয়ে যে বাড়তি প্রটোকল মেনে চলতো তা থেকে বেরিয়ে যাবে। গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইরান বছরে ২০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধকৃত ১২০ কেজি ইউরেনিয়ামের মজুদ গড়ে তুলবে জানিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক কমিশনের মুখপাত্র আরো বলেন, এ ছাড়া মাসে স্বল্প মাত্রায় ৫০০ কেজি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা হবে এবং তা মজুদ করে রাখা হবে।
তিনি আরো বলেন, এ ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক আইআর-সিক্স এবং আইআর-টু-এম সেন্ট্রিফিউজ ব্যবহার করা হবে। এ ছাড়া, ইস্পাহানের ধাতব ইউরেনিয়াম উৎপাদন কারখানাও চালু করা হবে। ইরানের এ কর্মকর্তা জানান হাসপাতালে ব্যবহৃত রেডিও আইসোটোপ উৎপাদনের জন্য আরো ৪০ ম্যাগাবাইট ক্ষমতাসম্পন্ন হেভি ওয়াটার রিয়েক্টর চালু করা হবে।
বাস্তবতা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইউরোপ এটি বাস্তবায়নে গড়িমসি করায় এর জবাবে ইরানও ওই চুক্তির ২৬ ও ৩৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী পাঁচ দফায় পরমাণু সমঝোতায় দেয়া নিজের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন থেকে সরে আসে। এ থেকে বোঝা যায় ইরান নিজের অধিকারের ব্যাপারে সচেতন রয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে তারা কোনো আপোষ করবে না। রাশিয়ায় ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি কিছুদিন আগে পরমাণু সমঝোতার অতি ভঙ্গুর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র এ থেকে অন্যায়ভাবে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় এ চুক্তির ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
প্রকৃতপক্ষে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টারা ভেবেছিলেন, ইরানের ওপর সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে এ দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আঘাত হানা যাবে। এ কারণে তারা যে কোনো উপায়ে শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচি থেকে ইরানকে বিরত রাখার চেষ্টা করছে যাতে ইরান সব দিক থেকে পিছিয়ে থাকে। কিন্তু কোনো ক্ষেত্রেই মার্কিন সরকার সফল হয়নি। বর্তমানে ইরানের পরমাণু কার্যক্রম কোনো একজন ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়। এ অবস্থায় প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে পাশ্চাত্য ইরানের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। ইরান ততদিন পর্যন্ত পরমাণু সমঝোতার প্রতি সম্মান দেখাবে যতদিন পর্যন্ত প্রতিপক্ষও তাদের প্রতিশ্রুতি মেনে চলবে।#
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৩০