পরমাণু সমঝোতা নিয়ে ইউরোপীয় পক্ষগুলোর বিবৃতি ও ইরানের প্রতিক্রিয়া
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i87334-পরমাণু_সমঝোতা_নিয়ে_ইউরোপীয়_পক্ষগুলোর_বিবৃতি_ও_ইরানের_প্রতিক্রিয়া
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ পরমাণু সমঝোতার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত অঙ্গিকার ভঙ্গ করেছে। তারাই এখন ইরানের সাথে নতুন চুক্তি করার কথা ভাবছে।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২১ ১৭:৪১ Asia/Dhaka

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ পরমাণু সমঝোতার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত অঙ্গিকার ভঙ্গ করেছে। তারাই এখন ইরানের সাথে নতুন চুক্তি করার কথা ভাবছে।

পরমাণু সমঝোতায় নতুন রঙ লাগিয়ে নতুন ঝলক দিয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে আসার সুযোগ নিতে চাচ্ছে। পরমাণু সঝোতায় স্বাক্ষরকারী তিন ইউরোপীয় দেশ এ প্রসঙ্গে গতকাল একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছে। যারা নিজেরাই অঙ্গিকার ভঙ্গ করেছে তারাই উল্টো ইরানকে অঙ্গিকার ভঙ্গের জন্য দায়ী করে সমঝোতা মেনে চলার জন্য ওই বিবৃতিতে তেহরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। ইরান অবশ্য শুরু থেকেই বলে আসছে আমেরিকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেই পরমাণু সমঝোতায় ফেরার বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করা হবে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ ব্যক্তিগত টুইটার পেইজে ওই বিবৃতির প্রতিক্রিয়া জানিয়ে একটি পোস্ট দিয়েছেন। আমেরিকা যেখানে এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে গিয়ে পুরো সমঝোতাই লঙ্ঘন করেছে যেখানে ইউরোপীয় ওই তিন দেশ সমঝোতায় দেওয়া নিজেদের অঙ্গিকারগুলোর বাস্তবায়নে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে তাদের পক্ষে এ ধরনের বিবৃতি প্রদানের কোনো যুক্তি নেই বলে ড. জারিফ মন্তব্য করেন।

যে সমঝোতাটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে অনুমোদিত হয়েছে সেটির বর্তমান অবস্থাটা কী-এ প্রশ্নটি আগে উঠে আসবে। সমঝোতার সকল পক্ষ কি নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করেছে যে এখন তাতে নতুন করে কোনো বিষয়ে নেতুন কোনো ধারা সংযুক্তির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে? বাস্তবতা হলো আমেরিকা ওই সমঝোতায় ফিরে এলো কি এলো না তা নিয়ে ইরানের কোনো মাথাব্যথা নেই। ইরান বরং চায় তাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা যেন তুলে নেয়া হয় এবং তাদের যেসব অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছিল সেইসব অধিকার যেন ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এইসব অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার দায়িত্ব নি:সন্দেহে আমেরিকা ও ইউরোপের।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতাও সম্প্রতি এ বিষয়ে ইঙ্গিত করে বলেছেন: "আমেরিকা যখন মৌখিকভাবে বা কাগজে নয় বরং বাস্তবে ইরানের ওপর আরোপিত সকল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেবে কেবল তখনই ইরান পুনরায় সমঝোতায় ফিরে আসবে। ইরান তখন পরিস্থিতি যাচাই বাছাই করে দেখবে। এটি ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের সরকার ও জনগণের অকাট্য নীতি। এই অভিন্ন নীতি থেকে কেউই পিছু হটবে না। আমেরিকা পরমাণু সমঝোতা থেকে একতরফাভাবে বেরিয়ে গিয়ে ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের নীতি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। প্রেসিডেন্ট বাইডেনও মনে হচ্ছে সেই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ না করে বরং একইভাবে আগের ভ্রান্ত পথেই অগ্রসর হচ্ছে। যদি তাই হয় তাহলে আমেরিকা যে চার বছরের মধ্যে আবারও চুক্তি বাতিল করবে না, তার গ্যারান্টি কে দেবে?-এই প্রশ্নের উত্তরই এখন সময়ের দাবি।#

পার্সটুডে/এনএম/১৩

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।