রেডিও তেহরানের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
'এক অজানা রহস্যের দ্বার উন্মোচন করে চলেছে রেডিও তেহরান'
রেডিও তেহরান বাংলা বিভাগের সকলকে আন্তরিক সালাম, শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানাই। আমরাও ভালো আছি এবং আধুনিকতার স্পর্শে রেডিও তেহরানের বাংলা অনুষ্ঠান শুনছি ও ওয়েব পেজ, রেডিও, ইউটিউব এবং ফেসবুকের মাধ্যমে নিয়মিত দেখছি ও শুনছি।
৯০-এর দশকের একেবারে প্রথম দিকে আমার সাথে রেডিও তেহরানের পরিচয়। তখন আমি নবম শ্রেণীর ছাত্র। পড়াশোনার পাশাপাশি রেডিও শোনা আমার শখ। খুঁজে বেড়াতাম শর্টওয়েভ বিভিন্ন বাংলা অনুষ্ঠান। একদিন রেডিও'র নব ঘোরাতে ঘোরাতে রেডিও তেহরান চলে আসে। সেই থেকেই রেডিও তেহরানের সাথে ৩০ বছরেরও বেশি এই সুমধুর পথ চলা।
রেডিও তেহরান শ্রোতাদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে শ্রোতাদের চাহিদা মতো নানান স্বাদের অনুষ্ঠান উপহার দিয়ে আসছে। বর্তমান যুগ তথ্য প্রযুক্তির যুগ। রেডিও তেহরান তাই কেবল শর্টওয়েভ সীমাবদ্ধ না থেকে আধুনিকতার ছোঁয়ায় ইউটিউব, ওয়েবপেজ, ফেসবুকে সরাসরি অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে চলেছে যা একেবারেই নতুন সংযোজন। তাছাড়া আর্কাইভে এক মাসের অনুষ্ঠানও পাই। রেডিও তেহরানের ওয়েব পেজ অবশ্যই আন্তর্জাতিক মানের। এখানে বিভিন্ন বিভাগ অত্যন্ত গঠনমূলক এবং সুন্দরভাবে সাজানো।
রেডিও তেহরানের বৈশিষ্ট্যের কথা বলতে গেলে প্রথমেই যে কথা বলা দরকার তা রেডিও তেহরানের সত্যনিষ্ঠ ও তরতাজা বিশ্বসংবাদ। অন্যান্য বেতার যেখানে নির্দিষ্ট কিছু সংস্থার আঙ্গুলিহেলনে কাজ করে সেখানে রেডিও তেহরান নিরপেক্ষ। সত্য খবর প্রকাশ করা রেডিও তেহরানের স্বতন্ত্র্য বৈশিষ্ট। এছাড়া বিশেষ বিশেষ দিন উপলক্ষে আকর্ষণীয় ও তথ্যসমৃদ্ধ পরিবেশনা অবশ্যই মুগ্ধ করে। ভারত ও বাংলাদেশের পত্র পত্রিকার উপর বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত আলোকপাত অন্য কোনো বেতার থেকে কখনোই করে না। সেই সঙ্গে আছে ধর্মীয় অনুশাসন এবং ইসলামী ভাবধারা। ইসলাম যে অবশ্যই শান্তির বার্তাবাহক তার প্রতিফলন দেখতে পাই রেডিও তেহরানের পরিবেশনায়। ইসলাম প্রচারে রেডিও তেহরানের বিশেষ ভূমিকা খুবই ভালো লাগে।
আমি রংধনু আসরের অত্যন্ত ভক্ত শ্রোতা। আমার লেখা একটি গল্প রংধনুর আসরে প্রচার করা হয়েছিল আজ থেকে প্রায় ২০ বছর আগে। এই স্মৃতি কখনোই ভোলার নয়। আবার ১৯৯৫ সালে মহরম উপলক্ষ্যে আয়োজিত কবিতা প্রতিযোগিতায় আমি দ্বিতীয় পুরস্কার পাই। এটাও একটা পুরোনো স্মৃতি।
বর্তমানে শ্রোতা বৃদ্ধিতে রেডিও তেহরান বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এগুলো সবই যথাযথ। শ্রোতাদের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার যে উন্নতি রেডিও তেহরান গ্রহণ করেছে তা বেশ লক্ষণীয়।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের জাতীয় সম্প্রচার সংস্থা (আইআরআইবি) বাংলা বিভাগের অর্থাৎ রেডিও তেহরানের বাংলা অনুষ্ঠান আমাদের কেবল প্রিয় অনুষ্ঠানই নয় বরং আমাদের সুহৃদ, স্বজন, শিক্ষক আর পথ-প্রদর্শক। প্রতিদিন এই বেতারের বাংলা অনুষ্ঠানের সঙ্গে নিয়মিতভাবে আনন্দময় ও প্রয়োজনীয় সময় কাটানোতে এতোটাই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি যে, রেডিও তেহরানের বাংলা অনুষ্ঠান ছাড়া আমাদের কোনো একটি পূর্ণাঙ্গ দিনও ভাবতে পারি না। বিশ্ব তথা আমাদের স্বপ্নের ভূমি ইরান সমন্ধে আমাদের জ্ঞানলাভ ও জানা-শোনা যা হয়েছে, তা কেবল রেডিও তেহরান নামক অনুপম বন্ধুর কারণেই সম্ভব হয়ে উঠেছে। তাই এই বেতারের কাছে আমাদের অশেষ ঋণ। এক সঙ্গে এতো বিপুল অথচ আকর্ষণীয় অনুষ্ঠান ও ওয়েব সাইটের মাধ্যমে তথ্য ও বর্ণনা আর অন্য কোন মাধ্যমে আছে বলে বলে আমার জানা নেই।
রেডিও তেহরান বাংলা বিভাগের এ অনবদ্য প্রয়াস ইরান, মুসলিম ইতিহাস, চলমান বিশ্ব পরিস্থিতি সম্পর্কে আমাদের কৌতূহল মিটিয়ে চলেছে এবং আশা রাখব ভবিষ্যতেও তার কোনো ব্যতিক্রম হবে না। রেডিও তেহরান যেন আমাদের সামনে এক অজানা রহস্যের দ্বার উন্মোচন করে চলেছে, প্রতিদিন, প্রতিমুহূর্ত। এমন আন্তরিকতা ও নিরলস কর্মতৎপরতাকে প্রশংসা করার ভাষা খুঁজে পাওয়া সত্যিই দুঃসাধ্য। এই বেতার সব সময়েই প্রমাণ করে চলেছে, বাংলা ভাষায় এটি সবচেয়ে আকর্ষণীয়, সমৃদ্ধ ও শিক্ষণীয় রেডিও অনুষ্ঠান যা গোটা দুনিয়াকে সুন্দর ও বস্তুনিষ্ঠরূপে তার বিপুল শ্রোতাদের সামনে উপস্থাপন করছে।
বস্তুত, জাতীয় সম্প্রচার সংস্থা (আইআরআইবি) বাংলা বিভাগের অনুষ্ঠান আর ওয়েব পেজের মাঝে যে জ্ঞানের সোনা লুকিয়ে আছে, তা খুঁজে খুঁজে বের করার কি যে আনন্দ- তা বলে বা লিখে ঝুঝানোর যুত্সই ভাষা অভিধানে আছে কিনা তা নিয়ে আমার যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। সার্বিক অনুষ্ঠান এক কথায় অনবদ্য, দারুণ আকর্ষণীয়।
সুন্দর ও আকর্ষণীয় অনুষ্ঠান এবং তথ্য সমৃদ্ধ ওয়েব সাইট উপহার দেবার জন্য ইসলামী প্রজাতন্ত্র'র জাতীয় সম্প্রচার সংস্থা অর্থাৎ রেডিও তেহরান (আইআরআইবি) বাংলা বিভাগের সবাইকে অনেক অনেক আন্তরিক ধন্যবাদ এবং সেই সাথে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। ভালো থাকবেন, সুন্দর ও সুস্থ থাকবেন। খোদা হাফেজ।
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।