'মজলুমের আহাজারি শুধু রেডিও তেহরানই তুলে ধরছে'
https://parstoday.ir/bn/news/letter-i109830-'মজলুমের_আহাজারি_শুধু_রেডিও_তেহরানই_তুলে_ধরছে'
মহাশয়, আসসালামু আলাইকুম। শুরুতেই প্রীতি ও শুভেচ্ছা নেবেন। দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জন্য মোবাইল চার্জজনিত কারণে ইমেইল করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। আলহামদুলিল্লাহ বর্তমান সে সমস্যার অবসান হয়েছে। তাই আবার লেখা শুরু করলাম আমার প্রিয় বেতার রেডিও তেহরান-এর বাংলা অনুষ্ঠান সম্পর্কে।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
জুন ২৮, ২০২২ ০৫:৪৪ Asia/Dhaka
  • 'মজলুমের আহাজারি শুধু রেডিও তেহরানই তুলে ধরছে'

মহাশয়, আসসালামু আলাইকুম। শুরুতেই প্রীতি ও শুভেচ্ছা নেবেন। দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জন্য মোবাইল চার্জজনিত কারণে ইমেইল করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। আলহামদুলিল্লাহ বর্তমান সে সমস্যার অবসান হয়েছে। তাই আবার লেখা শুরু করলাম আমার প্রিয় বেতার রেডিও তেহরান-এর বাংলা অনুষ্ঠান সম্পর্কে।

আসলে রেডিও তেহরানকে মনে প্রাণে ভালোবাসি। তাই প্রায় দু'মাস ছন্দ পতনের বিরহ- ভুক্তভোগী ব্যতীত আর কাউকে বোঝাতে পারব না। এ দু'মাসে অনেকেই প্রশ্ন করেছেন অনুষ্ঠান শোনা ও চিঠি লেখা ছেড়ে দিলাম নাকি? আমার প্রিয় শুভাকাঙ্ক্ষীদের আশ্বস্ত করে বলছি- আল্লাহ যতদিন বাঁচিয়ে রাখবে ততদিন রেডিও তেহরান-এর সাথেই থাকব- ইনশাআল্লাহ।

আমি গভীরভাবে লক্ষ্য করছি এ দু'মাসে রেডিও তেহরান বাংলা বিভাগে অনেক পরিবর্তন এসেছে ও জনপ্রিয়তা বেড়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের আইআরআইবি ফ্যান ক্লাব আয়োজিত রেডিও তেহরান বাংলা অনুষ্ঠানের ৪০তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠান রেডিও তেহরান বাংলাকে আপামর জনগণের দৌরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে। সফল অনুষ্ঠান আয়োজকমণ্ডলীকে এই অবসরে সাধুবাদ ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। অনুষ্ঠানটির মাধ্যমে রেডিও তেহরানের প্রতি মানুষের ধ্যান-ধারণা পাল্টে দিয়েছে। দিন দিন নতুন নতুন শ্রোতার যোগদান ও আগমন ত্বরান্বিত করেছে। বিশেষ করে পুরাতন শ্রোতা বন্ধু যারা এতোদিন অনুষ্ঠান শোনা ও লেখালেখি থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন তাদের আবার প্রত্যাগমনে রেডিও তেহরান নতুন মাত্রা লাভ করেছে। সেই সাথে নতুন নতুন মুখের সমাবেশ ঘটেছে। এরকম অনুষ্ঠান আমাদের ভারতেও একটি আয়োজন করতে পারলে আমার মনে হয় রেডিও তেহরান-এর রেনেসাঁ বা নব জাগরণের সূচনা হবে।

রেডিও তেহরানের জনপ্রিয়তার কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠান ভালো লাগা সম্পর্কে কোনটা ছাড়ব, কোনটা ধরব। সবগুলো অনুষ্ঠানই মন কাড়ে। কী বিশ্বসংবাদ, কী সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান, কী কুরআন-হাদিসের আলোচনা, কী বিশ্বের সমসাময়িক ঘটনা প্রবাহের বিশ্লেষণ, কোনটাকে প্রাধান্য দেবো- সবগুলোই সময়োপযোগী, তথ্যসমৃদ্ধ, নিরপেক্ষ, তরতাজা ও জ্ঞানবর্ধক। প্রিয়জন, রংধনু আসর, 'গল্প ও প্রবাদের গল্প'র কথা নাইবা বললাম।

আজকে সারাবিশ্বে বিশেষ করে মুসলিমদের ওপরে ইহুদিবাদী, যায়নবাদী, হিন্দুত্ববাদী ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো যেভাবে নির্যাতনের স্ট্রিম রোলার চালিয়ে যাচ্ছে তাঁর  খবরা-খবর ও প্রতিবাদ শুধুমাত্র রেডিও তেহরানই জোড়ালোভাবে করে যাচ্ছে। অন্য কোনো বেতার করার সাহসী হচ্ছে না। মজলুমের আহাজারি শুধু রেডিও তেহরানই তুলে ধরছে।

রেডিও তেহরান জনপ্রিয়তার আরো একটি কারণ হলো- বিভিন্ন মাধ্যমে যেমন- ফেসবুক, ইউটিউব, ইন্টারনেট ইত্যাদির মাধ্যমে বিশ্ববাসীর নিকট অনুষ্ঠান পৌঁছে দেওয়া ও লাইভ প্রচার করা। তাছাড়া রেডিও তেহরান শ্রোতাদের সাথে সুসম্পর্ক  গড়ে তোলা, যোগাযোগ রক্ষা করা, নিয়মিত বিভিন্ন কুইজ প্রতিযোগিতা, মাসিক শ্রেষ্ঠ শ্রোতা নির্বাচন, বার্ষিক শ্রেষ্ঠ শ্রোতা নির্বাচন, ফেসবুকে টপটেন মাসিক শ্রোতা নির্বাচন ইত্যাদি বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে শ্রোতাদেরকে আকৃষ্ট করে পুরস্কার ও মানপত্র দেবার ব্যবস্থা করেছে।

রেডিও তেহরান পুরাতন ও নতুন শ্রোতার মিলন সেতু গড়ার এক নতুন ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হয়েছে। সেই সাথে সামাজিক, রাজনৈতিক অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয়ভাবে সচেতন এবং জ্ঞানের আলো বিতরণে সফল হয়েছে। পারস্য থেকে বঙ্গোপসাগর অবধি যে দিকে তাকাই সেদিকেই রেডিও তেহরানের সুনাম, জয়যাত্রা ও জয়গান শুনতে পাই।

রেডিও তেহরান তুমি চির দিন গোটা বিশ্বের মানুষের মননে, চিন্তা ও চেতনায় অমর হয়ে থাকো- এই কামনা করে আজকের মতো এখানেই চিঠির পরিসমাপ্তি। আল্লাহ হাফেজ।

 

ধন্যবাদান্তে,

আব্দুস সালাম সিদ্দিক,

সভাপতি, সকাল- সন্ধ্যা রেডিও লিসেনার্স ক্লাব

কান্দুলিয়া, বড়পেটা, আসাম, ভারত।

 

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২৮