রেডিও তেহরান সম্পর্কে মূল্যায়ন ও অনুষ্ঠানের মানোন্নয়নে ৫ প্রস্তাব
https://parstoday.ir/bn/news/letter-i110586-রেডিও_তেহরান_সম্পর্কে_মূল্যায়ন_ও_অনুষ্ঠানের_মানোন্নয়নে_৫_প্রস্তাব
সুপ্রিয় শ্রদ্ধাভাজনেষু, আসসালামু আলাইকুম। সবাইকে প্রীতি ও ভালোবাসা জানিয়ে সূচনা করছি আজকের মেইলটি। আশা করি সবাই ভালো ও সুস্থ আছেন‌। সেই সাথে আনন্দ ও খুশির মাধ্যমে ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর ঈদ-উল আযহা উদযাপন করেছেন।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
জুলাই ১৫, ২০২২ ১২:৩৩ Asia/Dhaka
  • রেডিও তেহরান সম্পর্কে মূল্যায়ন ও অনুষ্ঠানের মানোন্নয়নে ৫ প্রস্তাব

সুপ্রিয় শ্রদ্ধাভাজনেষু, আসসালামু আলাইকুম। সবাইকে প্রীতি ও ভালোবাসা জানিয়ে সূচনা করছি আজকের মেইলটি। আশা করি সবাই ভালো ও সুস্থ আছেন‌। সেই সাথে আনন্দ ও খুশির মাধ্যমে ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর ঈদ-উল আযহা উদযাপন করেছেন।

রেডিও তেহরানের সাথে আমার সম্পর্ক সেই জন্ম লগ্ন থেকেই। চার দশক ধরে অনুষ্ঠান শুনছি ও নিরবচ্ছিন্নভাবে মতামত জানিয়ে আসছি। মতামতগুলো সবই অনুষ্ঠান সম্পর্কিত ও প্রশংসাসূচক। কিন্তু আজকের ইমেইলে একটি ভিন্ন প্রসঙ্গ তুলে ধরব।

আমরা জানি যে, রেডিও তেহরানের শ্রোতাদের চিঠিপত্রের আসর প্রিয়জন অনুষ্ঠানটি সবার একটি প্রিয় অনুষ্ঠান। এটি রেডিও তেহরান বাংলা অনুষ্ঠানের সকল আয়োজনের সার নির্যাস। অনুষ্ঠান ভালোলাগা না লাগার বিভিন্ন অভিব্যক্তি প্রকাশ পায় এই অনুষ্ঠানটির মাধ্যমে। তাইতো সবাই সপ্তাহভর অপেক্ষা করে থাকে তাদের প্রিয় অনুষ্ঠান প্রিয়জনের জন্য- এতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।

বিগত চার দশক ধরে শ্রোতারা প্রিয়জন আসরে শুধু প্রশংসাসূচক একঘেয়েমি চিঠিই লিখে যাচ্ছিল। রেডিও তেহরানকে প্রশংসার সাগরে ভাসিয়ে দিচ্ছিল। তাইতো গত ১১ জুলাই প্রিয়জন অনুষ্ঠান থেকে জনৈক এক শ্রোতার চিঠির জবাবে কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করল- শুধু প্রশংসাসূচক পত্র না লিখে গঠনমূলক সমালোচনা করে অনুষ্ঠানকে আরও সমৃদ্ধ করতে। আহ্বানটি আমার নিকট খুব ভালো লাগলো ও মনঃপুত হলো। এহেন আহ্বান শুনে আমরা আস্বস্ত হলাম। কেননা এ যাবত বিশ্বের কোনো বেতার থেকেই সমালোচনামূলক চিঠি লেখে কেউই উত্তর পায়নি বলে আমার বিশ্বাস। এ ক্ষেত্ৰে রেডিও তেহরান ব্যতিক্রম ক্রিয়া প্রদর্শন করল, যা নজিরবিহীন।

রেডিও তেহরান হয়তো অনুধাবন করতে পেরেছেন যে, শুধু একঘেয়েমি প্রশংসা ও তোষামোদ মানুষের সৃজনশীলতা বিনষ্ট করে, নতুন চিন্তা চেতনার প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করে, উন্নত মানের সময়োপযোগী কোনো অনুষ্ঠান তৈরি করা সম্ভব নয়। তাই আহ্বান জানিয়েছেন প্রশংসার পাশাপাশি গঠনমূলক সমালোচনা ও পরামর্শের। রেডিও তেহরানের এটা উদার ও আত্মবিশ্বাসের পরিচায়ক। যা অনুষ্ঠানকে আরো সুন্দর, সাবলীল, জীবনমুখী, বাস্তবধর্মী, তথ্যপূর্ণ ও জীবনঘনিষ্ঠ হতে সহায়তা করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

এবারে রেডিও তেহরানের এই আহ্বানের আলোকে অনুষ্ঠান সম্পর্কে কয়েকটি পরামর্শ তুলে ধরছি গ্রহণযোগ্য হলে অবশ্যই বাস্তবায়নের চেষ্টা করবেন।

 (১) রেডিও তেহরান বাংলা অনুষ্ঠানে কর্মরত সকল কর্মকর্তা, কলা-কুশলী, উপস্থাপক উপস্থাপিকা, প্রযোজক ও পরিচালকসহ সকলের পরিচিতিমূলক অনুষ্ঠান প্রচার করে তাদের কর্মজীবন, সাহিত্য ও অন্যান্য বিষয়ে শ্রোতাদের অবহিত করলে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা আরো বেড়ে যাবে।

(২) বর্ধিত শ্রোতাদের প্রতি লক্ষ্য রেখে প্রিয়জন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠান সপ্তাহে দুদিন প্রচারিত হলে শ্রোতাদের চাহিদা পূরণ হবে।

(৩) প্রিয়জন অনুষ্ঠানে এক ওই বিষয়ের ওপরে অনেক চিঠি আসলে দু’একটার জবাব দিয়ে বাকিগুলো প্রাপ্তিস্বীকার করলে শ্রোতাদের অনুষ্ঠানের পেছনে চিঠি লেখার পরিশ্রম ও সময়ব্যয় সার্থক হবে।

(৪) বিশ্ব সংবাদে প্রতিবেদন ও সংবাদের উৎস উল্লেখ করলে সংবাদের গ্রহণযোগ্যতা আরো বাড়বে।

(৫) ইসলাম ধর্মের পাশাপাশি সকল ধর্মের একটি তুলনামূলক আলোচনার অনুষ্ঠান চালু করলে সর্ব ধর্মের মানুষের নিকট রেডিও তেহরানের জনপ্রিয়তা ও চাহিদা বাড়বে, সেই সঙ্গে ধর্ম নিয়ে বর্তমান সময়ের বিভেদের অবসান হবে।

আশা করি বিষয় গুলো বিবেচনায় রাখবেন।

সর্বশেষ রেডিও তেহরান সকল বাংলা ভাষাভাষী মানুষ তথা জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলের প্রাণের বেতার কেন্দ্র হয়ে উঠুক এই কামনা করে আজকের মতো এখানেই চিঠির পরিসমাপ্তি টানছি। খোদা হাফেজ।

  

ধন্যবাদান্তে,

আব্দুস সালাম সিদ্দিক,

সভাপতি, সকাল-সন্ধ্যা রেডিও লিসেনার্স ক্লাব,

কান্দুলিয়া, বড়পেটা, আসাম, ভারত।

 

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৪

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।