শ্রোতা আলোচনায় রেডিও তেহরানের বিশ্লেষণ ও প্রশংসা
'রেডিও তেহরান যেন আমাদেরকে স্বপ্ন-সুখের সাগরে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল'
-
(বাম থেকে) মো. শাহাদত হোসেন, মোঃ আফজাল আলী খান ও এম এম গোলাম সারওয়ার
প্রিয় মহোদয়, আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানবেন। রেডিও তেহরান এক অসাধারণ বেতার কেন্দ্রের নাম। যেসব আন্তর্জাতিক বেতার কেন্দ্র বাংলাদেশের শ্রোতাদের জন্য অনুষ্ঠান প্রচার করছে, তাদের মধ্যে সেরা বেতার কেন্দ্র রেডিও তেহরান। নিরপেক্ষ ও নির্মোহ খবর তো আছেই, সেই সাথে আছে জীবনকে সুন্দর করে গড়ে তোলার প্রয়াস।
বৈচিত্রময় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি শ্রোতাদের সাথে ডাকযোগে, ইমেইলে, ফেসবুকে, মেসেঞ্জারে ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ রক্ষা করে এক অনন্য নজীর স্থাপন করেছে রেডিও তেহরান। এক্ষেত্রে রেডিও তেহরানের তুলনা শুধুই রেডিও তেহরান।
১৪ আগস্ট (রোববার) বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলায় প্রয়োজনীয় কিছু কাজ থাকায় আগেরদিন অর্থাৎ শনিবার রাত দশটায় সেখানে পৌঁছে একটি হোটেলে উঠি। যেহেতু আমি একজন বেতার শ্রোতা, ডিএক্সার ও রেডিও তেহরানের মনিটর, তাই আমার আসার বিষয়টি আগেই কয়েকজন শ্রোতাকে জানিয়েছিলাম। তাদের মধ্যে ফরিদপুরের বিখ্যাত দু জন ডিএক্সার আড্ডা দিতে সকালে আমার হোটেল কক্ষে চলে আসেন। তাদের একজন হলেন সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা, বর্ষীয়ান শ্রোতা ও ডিএক্সার মোঃ আফজাল আলী খান ও অপরজন হলেন স্বনামধন্য শিক্ষক, ডিএক্সার ও রেডিও তেহরানের একনিষ্ঠ শ্রোতা এম এম গোলাম সারওয়ার। দেশখ্যাত দুজন ডিএক্সারকে কাছে পেয়ে আমার হৃদয় আনন্দে ভরে উঠল। তাদের সান্নিধ্য আমাকে ধন্য করেছে, আপ্লুত করেছে, মহিমান্বিত করেছে।
উক্ত দুজন ডিএক্সার বন্ধুর সাথে প্রায় ঘণ্টাখানেক আড্ডা দিয়েছি। বিষয় ছিল বেতার, ডিএক্সইং ও রেডিও তেহরান। তাদের সাথে বেতার বিষয়ক আড্ডা দিতে গিয়ে অবাক বিস্ময়ে লক্ষ্য করেছি, তারা দু' জনই রেডিও তেহরানের একনিষ্ঠ ভক্ত শ্রোতা। সুতরাং আলোচনার ৮০% জুড়েই ছিল রেডিও তেহরানের প্রসঙ্গ।
উক্ত ডিএক্সার দুজন শুধু যে রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠান নিয়মিত শুনেন, তাই নয়, তারা প্রতিটি অনুষ্ঠানের খুঁটিনাটি মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য করেন। সেগুলো আবার অন্য শ্রোতাদের সাথে আলোচনা করেন। অধিকন্তু তারা দুজনই রেডিও তেহরানের বিভিন্ন অনুষ্ঠান বিষয়ে তাদের স্বজন ও পরিচিতজনদের অবহিত করেন। ফলে সেসব স্বজন ও পরিচিতজনদের মাঝে একদিকে যেমন রেডিও তেহরানের প্রতি ভালোবাসা জন্ম হচ্ছে, তেমনি অন্যদিকে তাদের মনে ইসলাম ও ইসলামী আদর্শ অনুসরণের তাগিদও সৃষ্টি হচ্ছে। আলাপচারিতায় এসব তথ্য জেনে আমি মুগ্ধ হয়ে গেলাম।
ডিএক্সার মোঃ আফজাল আলী খান ভাই রেডিও তেহরানের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নাম ধরে ধরে সেসবের খুটিনাটি তুলে ধরছিলেন। তিনি জানালেন যে, নতুন ধারাবাহিক 'সুন্দর জীবন' অনুষ্ঠানটি সবার হৃদয় কেড়ে নিয়েছে। সকল তরুণের উচিত এ অনুষ্ঠানটি শোনা ও সেভাবে নিজের জীবন পরিচালিত করা। এছাড়া দৃষ্টিপাত অনুষ্ঠানটিরও তিনি ভূয়সী প্রশংসা করলেন। অন্যদিকে শ্রোতাদের মধ্যে গোলাম সারওয়ার ভাই ও নাজিম উদ্দিন ভাইয়ের চিঠিগুলো তার খুব ভালো লাগে বলেও জানালেন। তিনি আরও বললেন যে, রেডিও তেহরান শুধু নিজের আদর্শ ও উদ্দেশ্য প্রচার করছে না, মানুষকে সঠিক পথে চালিত করতে এবং দেশ ও সমাজের জটিল বিষয়গুলো শ্রোতাদের কাছে স্পষ্ট করতেও কাজ করে যাচ্ছে। সেজন্য আমরা রেডিও তেহরানের প্রতি কৃতজ্ঞ।
অপর ডিএক্সার এম এম গোলাম সারওয়ার যেন একজন রেডিও বিশেষজ্ঞ, একজন রেডিও তেহরান বিশেষজ্ঞ। বাংলা, ইংরেজি ও আরবি ভাষা ছাড়াও তিনি ফার্সি ভাষা জানেন। আর তাই রেডিও তেহরান ও ইরানের প্রতি তার দুর্বলতা বহুদিনের। ইরান-চর্চা তার প্রধান শখ। এ শখের বড় অংশীদার রেডিও তেহরান। তার সাথে কথা বলতে বলতে আমি ভুলেই গিয়েছিলাম যে, আমি একজন ডিএক্সারের সাথে কথা বলছি। আমার মনে হচ্ছিল, আমি বুঝি রেডিও তেহরানের স্টুডিওতে বসে রেডিও তেহরানের কোন কর্মকর্তার সাথে কথা বলছি। রেডিও তেহরান থেকে কোন অনুষ্ঠান কেন প্রচারিত হয়, তার চমৎকার ব্যাখ্যা দিলেন তিনি। শিয়া ও সুন্নী সম্প্রদায়কে কাছাকাছি আনার ব্যাপারে রেডিও তেহরানের ভূমিকার কথা অসংকোচে জানালেন আমাদের। তিনি দ্বিধাহীন কণ্ঠে বললেন যে, আসলে ভবিষ্যতে ইরান বিশ্ব-মুসলিমকে নেতৃত্ব দেবে, আর তার মুখপাত্র হিসেবে কাজ করবে রেডিও তেহরান।
রেডিও তেহরানের প্রতি এ দুজন ডিএক্সার বন্ধুর ভালোবাসা ও জ্ঞানের গভীরতা দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। তাদের কাছ থেকে শিখলাম অনেক কিছুই। আমি নিছক একটা আড্ডা ও সাধারণ কিছু আলোচনার জন্য প্রস্তুত ছিলাম। রেডিও তেহরান যে আমাদের তিনজনকে এমন এক নস্টালজিয়ায় ফেলে দেবে তা ভাবিনি। আলোচনা যেন আর থামছিলই না। রেডিও তেহরান যেন আমাদেরকে এক স্বপ্ন-সুখের সাগরে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। তাই এমন মধুময় স্মৃতির কথা রেডিও তেহরানের পাঠক-শ্রোতাদের সাথে শেয়ার করার লোভ সামলাতে পারিনি।
সবশেষে আমরা তিনজনেই বললাম, রেডিও তেহরান দীর্ঘজীবী হোক। জয় হোক মানবতার, জয় হোক ইসলামের। জয় হোক ইরানের।
ধন্যবাদান্তে,
মোঃ শাহাদত হোসেন
সহকারী অধ্যাপক, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ
গুরুদয়াল সরকারি কলেজ, কিশোরগঞ্জ- ২৩০০, বাংলাদেশ।
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৭