গ্রামের রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে রেডিও তেহরান শোনার মজার অভিজ্ঞতা
-
এই রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে টানা চারদিন অনুষ্ঠান শুনেছেন শাহাদত হোসেন।
আমি রেডিও তেহরানের একজন নিয়মিত শ্রোতা। রেডিও তেহরানের বাংলা অনুষ্ঠান শোনা একটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তাই রাত আটটা বাজলেই অপেক্ষা করতে থাকি অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার জন্যে। কুড়ি-পঁচিশটা মিনিট কাটে অস্থিরতায়। অনুষ্ঠান শুরু হলে স্বস্তি আসে। ডিএক্সারের নেশা যাকে বলে! অতি জরুরি অসুবিধা না থাকলে আপনাদের অনুষ্ঠান শোনা মিস করি না।
গত পাঁচটা দিন বাসায় ছিলাম না, বেড়াতে গিয়েছিলাম শ্বশুরবাড়িতে। সেখানেও অনুষ্ঠান শুনেছি। শ্বশুরবাড়িতে রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠান শুনতে গিয়ে কিছু নতুন ও মজার অভিজ্ঞতাও হয়েছে। সে কথাই বলতে চাই আজকের চিঠিতে।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনটি পরিবারের সবাই কিশোরগঞ্জ থেকে ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার খাড়েরা গ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই। ভৈরব সেতু পার হয়ে লালশালুক হোটেলে চা খাওয়া শেষ করা মাত্রই রেডিও তেহরানের বাংলা অনুষ্ঠান শুরু হয়। মাইক্রোবাসে বসে সবাই মিলে শুনেছি সে অনুষ্ঠান। গাড়িতে চলতে চলতে ওয়েবসাইটে এগারোজনে মিলে অনুষ্ঠান শোনার মজাই আলাদা। অনুষ্ঠান শুনতে শুনতে একেকজন অনুষ্ঠান সম্পর্কে মজার মজার মন্তব্য করছিল। অন্যেরা তার পাল্টা জবাব দিচ্ছিল। চমৎকার উপভোগ্য ছিল সময়টা।
তবে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ০৩ অক্টোবর পর্যন্ত চারদিন অনুষ্ঠান শুনেছি ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার খাড়েরা গ্রামের দারোগা বাড়ির রাস্তায় হাঁটাহাঁটি করতে করতে। খাড়েরা দারোগা বাড়ি থেকে সরু একটি পাকা রাস্তা গিয়েছে কসবা পর্যন্ত। সাধারণত সন্ধ্যার পর এ রাস্তায় তেমন কোন যানবাহন চলে না। এই ফাঁকা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে চারদিন রেডিও তেহরানের বাংলা অনুষ্ঠান শুনেছি।
আমার রেডিও বাতিক দেখে কেউ কেউ মজা পেয়েছে, কেউ কেউ অনুষ্ঠান শুনায় যোগ দিয়েছে। আবার কোন পথিক হেঁটে যেতে যেতে কান পেতে শুনত। তবে শেষদিন একজন পথিক অনুষ্ঠান শুনে দাঁড়িয়ে পড়ল। কিছুক্ষণ মন দিয়ে শুনে কাছে এল, পাশে দাঁড়িয়ে শুনল। রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠান শুনায় তার আগ্রহ দেখে নিজে যেচে আলাপ করলাম। ইরানের তেহরান থেকে বাংলা অনুষ্ঠান প্রচার হয় জেনে তিনি খুব অবাক হলেন। আমার সাথে থেকে পুরো অনুষ্ঠান শুনলেন।
ওইদিন ছিল শনিবার। বিশ্বসংবাদের পর প্রচারিত হয় দৃষ্টিপাত, ইরান ভ্রমণ, কথাবার্তা ও ইরান-ইরাক যুদ্ধের ইতিহাস। অনুষ্ঠান শোনা শেষ হলে তিনি জানালেন, রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠান তার খুব ভালো লেগেছে। তিনি নিয়মিত এ অনুষ্ঠান শুনতে চান। আমি তাকে মোবাইলে পার্সটুডে ওয়েবসাইট, রেডিও তেহরান ফেসবুক পেইজ বের করে দেখালাম এবং কিভাবে শুনতে পারবেন তা জানালাম। রেডিওতে শর্টওয়েভে শোনার বিষয়েও পরামর্শ দিলাম। রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে অনুষ্ঠান শুনতে শুনতে এমন মজার একটি অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হওয়া সত্যিই আনন্দের।
ধন্যবাদান্তে,
মোঃ শাহাদত হোসেন
সহকারী অধ্যাপক, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ
গুরুদয়াল সরকারি কলেজ, কিশোরগঞ্জ- ২৩০০, বাংলাদেশ।
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৭
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।