রেডিও তেহরানের একদিনের অনুষ্ঠান সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ মতামত
সালাম ও শুভেচ্ছা নিন। রেডিও তেহরান থেকে প্রচারিত বাংলা অনুষ্ঠান আমি নিয়মিত শুনি। সাপ্তাহিক বিভিন্ন অনুষ্ঠান দারুণভাবে উপভোগ করি। ২১/১১/২০২০ তারিখে রেডিও তেহরান বিশ্বসংবাদ, দৃষ্টিপাত, ইরান ভ্রমণ, কথাবার্তা এবং ইরান-ইরাক যুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে সাজানো পুরো পরিবেশনা দারুণভাবে উপভোগ করলাম।
আজকের বিশ্ব সংবাদ পরিবেশনার পর সংবাদ ভাষ্যের অনুষ্ঠান দৃষ্টিপাত শুনলাম। দৃষ্টিপাত অনুষ্ঠানে পরমাণু সমঝোতা নিয়ে ইউরোপের অভিযোগ এবং ইরানের প্রতিক্রিয়া নিয়ে ভাষ্যকারের বিশ্লেষণ পরিবেশিত হলো। আমরা অনুধাবন করেছি পরমাণু সমঝোতার বিনিময়ে ইউরোপ ইরানকে আর্থিক সুবিধা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা তারা বাস্তবায়ন না করায় প্রতিশোধ হিসেবে ইরান পাঁচ দফায় পরমাণু সমঝোতায় দেয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসে।
পরমাণু সমঝোতার নীতিমালা অনুযায়ী- ইরান পরমাণু কার্যক্রম কমিয়ে আনলেও মার্কিন চাপের মোকাবেলায় ইউরোপ এখন পর্যন্ত নিষ্ক্রিয় রয়েছে এবং উল্টো পরমাণু সমঝোতা লঙ্ঘনের জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করার চেষ্টা করছে। পরমাণু সমঝোতার ভবিষ্যত ইরান নয় বরং ইউরোপের ওপরই নির্ভর করছে। আসল বাস্তবতা হচ্ছে, ইউরোপ পরমাণু সমঝোতায় নিজেদের প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থ হয়ে সেটাকে ধামাচাপা দেয়ার জন্যই ইরানের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক অভিযোগ এনেছে যা কোনো যুক্তিতেই গ্রহণযোগ্য নয়।
দ্বিতীয় প্রতিবেদনে ‘দেশে এখন করোনার দ্বিতীয় ঢেউ চলছে' শিরোনামে পরিবেশনা শুনলাম। করোনা থেকে বাঁচতে হলে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে ও মাস্ক পরিধান করতে হবে। মানুষ অনেকেই এখনও স্বাস্থ্যবিধি ঠিকমতো মানছেন না। এভাবে যদি চলতে থাকে, তাহলে অবস্থা আরও ভয়াবহ হবে।
এর পর পরিবেশিত হলো আমার অন্যতম প্রিয় অনুষ্ঠান ‘ইরান ভ্রমণ'। আসলে বিশাল আয়তনের দেশ ইরান। ইতিহাস-ঐতিহ্য, পুরাতত্ত্ব আর সংস্কৃতির বিচিত্র উপাদানে সমৃদ্ধ দেশ ইরান। এই ইরানের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে দর্শনীয় অনেক নিদর্শন। এইসব নিদর্শনের সঙ্গে ‘ইরান ভ্রমণ' অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সুন্দর পরিচিতি ঘটছে। মনে হচ্ছে আমরা ঘুরে বেড়াই ইরানের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে। আজ বন্দর আব্বাস নিয়ে পরিবেশনা খুবই মুগ্ধ করল। যেকোনো ভ্রমণ রসিককেই আকৃষ্ট করবে বন্দর আব্বাস। বন্দর আব্বাস ইরানের বিখ্যাত ও ঐতিহাসিক শহর। পারস্য উপসাগরের উপকূলে অবস্থিত ইরানের বৃহত্তম বন্দর যা শিল্পকলায় সমৃদ্ধ অপরূপ পর্যটন কেন্দ্র। বন্দর আব্বাসেরা ভৌগোলিক অবস্থান, বর্তমানে ইরানের অর্থনীতিতে গুরুত্বসহ নানা বিষয়ে নিয়ে সোহেল আহমেদ এবং রেজওয়ান হোসেনের পরিবেশনা অত্যন্ত সুন্দর ছিল। আজকের সর্বশেষ পরিবেশনা ইরান-ইরাক যুদ্ধ। রমজান অভিযান এবং খুররম শহরের ঐতিহাসিক বিজয় আর যুদ্ধের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট মহলের বিশ্লেষণ শুনে অনেক বিষয়ে সমন্ধে অবগত হলাম।
১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লব বিজয়ের এক বছর পর ১৯৮০ সালে দেশটির ওপর ইরাকের মাধ্যমে চাপিয়ে দেয়া হয় এক দীর্ঘমেয়াদি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। ইরাকের তৎকালীন সাদ্দাম সরকারের আগ্রাসনের ফলে সৃষ্ট ওই যুদ্ধ তিন দশকেরও বেশি সময় আগে শেষ হয়ে গেলেও ওই যুদ্ধ সম্পর্কে আমাদের জানার আগ্রহ বরাবরই ছিল। নতুন এই ধারাবাহিক আলোচনায় ইরান-ইরান যুদ্ধের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস আমাদের জন্য তুলে ধরে আমাদের অনেকের সুপ্ত প্রত্যাশা পূরণ করছেন। আসলে ইরাক ও ইরানের মধ্যে সীমান্ত বিরোধ বহু বছরের পুরোনো এবং আমাদের ধারণা এটি এমন কোনো বিষয় ছিল না যা নিয়ে যুদ্ধ করা যায়। কিন্তু সাদ্দাম সরকার গোটা ইরান দখল করার প্রবল আকাঙ্ক্ষায় সীমান্ত বিরোধকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে। প্রকৃতপক্ষে ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লব হওয়ার পর বিশ্বব্যাপী যাতে এ বিপ্লবের প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে না পারে এবং অন্যান্য দেশের ইসলামি আন্দোলনগুলো যাতে এই বিপ্লব থেকে অনুপ্রেরণা না পায় সে লক্ষ্যে ইরানের ওপর ওই যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল। ইরানের ইসলামি বিপ্লব আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বহু হিসাব-নিকাশ ওলটপালট করে দিয়েছিল। এটা ঠিক যে পরাশক্তিগুলোর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার জের ধরে ইরাকের সরকার ইরানে আগ্রাসন চালায়।
আজকের সার্বিক পরিবেশনা ছিল অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর, যা রেডিও তেহরান থেকে আমাদের বরাবরের প্রত্যাশা। সুন্দর ও আকর্ষণীয় অনুষ্ঠানে উপহার দেওয়ার জন্য আমার প্রিয় বেতার রেডিও তেহরানকে অনেক অনেক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাই। সবাই ভালো থাকবেন। খোদা হাফেজ।
হাফিজুর রহমান
ইন্টারন্যাশনাল মিতালি লিসনার্স ক্লাব.
পোষ্ট ও গ্রাম: চুপী, জেলা: পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২৩
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।