‘রেডিও তেহরান অসত্য আর অন্ধকারের মাঝে আলোর উৎস’
https://parstoday.ir/bn/news/letter-i95826-রেডিও_তেহরান_অসত্য_আর_অন্ধকারের_মাঝে_আলোর_উৎস’
রেডিও তেহরানের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে 'আইআরআইবি ফ্যান ক্লাব বাংলাদেশ' আয়োজিত প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পাশাপাশি মানসম্মত লেখাগুলো ধারাবাহিকভাবে পার্সটুডে ডটকমে প্রকাশিত হচ্ছে। আজ প্রকাশিত হলো বাংলাদেশের ঝিনাইদহ জেলার শ্রোতাবন্ধু মোঃ ফিরোজ মাহমুদের লেখা।
(last modified 2026-04-22T07:21:27+00:00 )
আগস্ট ১২, ২০২১ ০৮:৩৯ Asia/Dhaka
  • ‘রেডিও তেহরান অসত্য আর অন্ধকারের মাঝে আলোর উৎস’

রেডিও তেহরানের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে 'আইআরআইবি ফ্যান ক্লাব বাংলাদেশ' আয়োজিত প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পাশাপাশি মানসম্মত লেখাগুলো ধারাবাহিকভাবে পার্সটুডে ডটকমে প্রকাশিত হচ্ছে। আজ প্রকাশিত হলো বাংলাদেশের ঝিনাইদহ জেলার শ্রোতাবন্ধু মোঃ ফিরোজ মাহমুদের লেখা।

আধুনিক বিশ্বে প্রচার মাধ্যম হিসেবে রেডিও তথা বেতার যন্ত্র একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এটি আবিস্কারের পর থেকে আজ পর্যন্ত ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পূর্ব পর্যন্ত ব্রিটিশ সম্রাজ্য এককভাবে বিশ্ব শাসন করেছে। এরপর রুশ মার্কিন সম্রাজ্যের আবির্ভাব ঘটে। শুরু হয় বিশ্বব্যাপী দুই পরাশক্তির ঠাণ্ঠা লড়াই। এই লড়াইয়ে মাঝে পড়ে বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের ওপর বিশেষ করে মুসলমানদের উপর নেমে আসে নানা অত্যাচা্‌র, জুলুম, জবরদখল আর যুদ্ধের কালো মেঘ। বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ প্রচার করে নিজ বলয়ভুক্ত করা, সম্পদ লুট ও নিজেদের গোলাম সরকার প্রতিষ্ঠা করাসহ হেন কাজ নেই তারা করেনি। আর এভাবেই বিশ্বের সকল প্রচার মাধ্যম গুলো দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে। সকল প্রচার মাধ্যম সাম্রাজ্যবাদীদের স্বার্থ হাসিলের যুদ্ধাস্ত্রে পরিণত হয়। বিশ্বে ঘটে যাওয়া  ঘটনার সঠিক তথ্য থেকে বঞ্চিত হতে থাকে সত্য-সন্ধানী শান্তিকামী জনতা। বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বে ঘটে যাওয়া ঘটনার সঠিক কোন খবর বিশ্ববাসী বিশেষ করে মুসলমানদের পক্ষে জানা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

ইতিমধ্যে ১৯৭৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি বিশ্বের পরাশক্তিসমূহের নাগপাশ ছিন্ন করে পৃথিবী আকাশে আবির্ভূত হয় ইরানের ইসলামী বিপ্লব। এই বিপ্লবে বলীয়ান হয়ে বিশ্ব মুসলমানদের কাছে সঠিক তথ্য পৌছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে থাকে রেডিও তেহরান। রেডিও তেহরান অন্যান্য ভাষায় প্রচার হলেও তখনও পর্যন্ত বাংলা ভাষাভাষী মানুষের জন্য কোন ব্যবস্থা ছিল না। ১৯৮২ সালের ১৭ই এপ্রিল বাংলা বিভাগ প্রতিষ্ঠার পর নতুন যুগের সূচনা হয়।

বাংলা বিভাগ চালু হওয়ার পর থেকে একটি সত্যনিষ্ঠ ও শক্তিশালী সংবাদ মাধ্যম বা গণমাধ্যম হিসাবে দক্ষিণ এশিয়ার কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেয়।

চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের বিরুদ্ধে রেডিও তেহরানের সংগ্রাম

পশ্চিমা তথা মার্কিনিদের গোলাম ইরাকের স্বৈরশাসক সাদ্দাম হোসেনকে দিয়ে ইরানের ইসলামি বিপ্লবকে ধংস করার জন্য ১৯৮০ সালের ২২ সেপ্টম্বার ইরান আক্রমণ করে। সাদ্দামের মানবতা বিরোধী অপরাধের বিষয়টি রেডিও তেহরান ব্যাপকভাবে তুলে ধরে যদিও পশ্চিমা প্রচার মাধ্যমগুলো সাদ্দামকে সমর্থন দিয়ে যায়।

মার্কিন চক্রান্ত আর মুনাফেকিতে পড়ে সাদ্দাম হোসেন কুয়েত দখল করে ইতিহাসের চরম ঘৃণিত কাজ করে এবং মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার ঘাঁটি করতে সাহায্য করে। পরবর্তীতে ইরাক-আমেরিকা যুদ্ধের মাধ্যমে সাদ্দাম হোসেনের চূড়ান্ত পরাজয়, গ্রেফতার আর হত্যার মাধ্যমে সাদ্দাম যুগের অবসান হয়।

আফগানিস্তানে মার্কিন ষড়যন্ত্র ফাঁস

মার্কিন সরকার কর্তৃক অর্থ আর অস্ত্রের মদদে চলমান আফগান যুদ্ধের প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরে মার্কিন ষড়যন্ত্র ফাঁস করে দেয় রেডিও তেহরান। আফগানে তালেবানদের আত্মপ্রকাশ নিয়ে মুসলমানদের মধ্যে সব থেকে বেশি বিভ্রান্তি দেখা দেয়। রেডিও তেহরান তাদেরকে মুখোশধারী হিসেবে তুলে ধরে। তালেবানরা আফগানিস্তানের মাজার-ই শরীফে ইরানি দুতাবাসে হামলা করে অনেককে হত্যা করে। ইরান বিষয়টি বিশ্ব দরবারে তুলে ও সঠিক তদন্ত ও বিচার দাবি করে।

শান্তির বার্তা নিয়ে রেডিও তেহরান

ফিলিস্তিন, লেবানন, বসনিয়া-হার্জেগোভিনা, পূর্ব তিমুর, সিরিয়া, ইরাক, ইয়েমেন, ফিলিপাইন, আরাকান, কাশ্মিরসহ পৃথিবীর যেখানেই মুক্তিকামী মানুষের লড়াই সেখানেই রেডিও তেহরান।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অপরাজেয় ইসলামী শক্তি ইরানকে শেষ করার জন্য সর্বকালের বৃহত্তম ইহুদী মার্কিন চক্রান্ত আইএস নামক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সম্পর্কে রেডিও তেহরান সঠিক সংবাদ তুলে ধরে জনমত গঠনে সফলতা লাভ করে ও তাদের পতনের পথ সুগম করে।

অনন্য উচ্চতায় রেডিও তেহরান

শুধু মাত্র চলমান বিশ্ব নয়। মুসলমানদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সভ্যতা, সংস্কৃতি শিল্প, সাহিত্য অর্থনীতিসহ এমন কোন দিক নেই যেখানে রেডিও তেহরানের পদচারণা নেই। প্রায় অর্ধ শতাব্দীর অবরোধ মোকাবেলা করে বিশ্বের প্রায় ৩০ টি ভাষায় রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠান প্রচার হয়। এটা শুধু প্রচার মাধ্যম নয়। আমাদের হৃদয়ের স্পন্দন, ভালোবাসার নিদর্শন, আস্থার প্রতীক, অসত্য আর অন্ধকারের মাঝে আলোর উৎস।

 

লেখক:

মোঃ ফিরোজ মাহমুদ

সাং- বেজপাড়া, উপজেলা- কালীগঞ্জ, জেলা- ঝিনাইদহ

 

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১২

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।