ইরাকে মার্কিন সেনা অবস্থানে উপর্যুপরি হামলার রহস্য
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i102188-ইরাকে_মার্কিন_সেনা_অবস্থানে_উপর্যুপরি_হামলার_রহস্য
ইরাকে নতুন খ্রিষ্টিয় বছর শুরুতেই দেশটিতে মোতায়েন মার্কিন সেনা-অবস্থানগুলোয় বার বার হামলা হয়েছে। ইরাকের প্রতিরোধকামী ও সংগ্রামী নানা গোষ্ঠী এইসব হামলা চালিয়েছে।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জানুয়ারি ০৬, ২০২২ ১৬:৫১ Asia/Dhaka

ইরাকে নতুন খ্রিষ্টিয় বছর শুরুতেই দেশটিতে মোতায়েন মার্কিন সেনা-অবস্থানগুলোয় বার বার হামলা হয়েছে। ইরাকের প্রতিরোধকামী ও সংগ্রামী নানা গোষ্ঠী এইসব হামলা চালিয়েছে।

গতকাল বুধবার ৫টি ক্ষেপণাস্ত্র আইনুল আসাদ নামক মার্কিন সেনা ঘাঁটিতে আঘাত হানলে -সি-র‍্যাম নামক মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী ব্যাটারি সক্রিয় হয়ে ওঠে।

ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আইনুল আসাদ ঘাঁটিতে ড্রোন আঘাত হানে। মধ্য-ইরাকের বাবেল প্রদেশে একটি মার্কিন গাড়ি বহরে ও দক্ষিণ ইরাকের সামাভেহ অঞ্চলে অন্য এক মার্কিন গাড়ি-বহরেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। কাসেম আলজাব্বারিন নামের একটি গ্রুপ এই হামলাগুলোর বেশিরভাগেরই দায়িত্ব স্বীকার করেছে। 

ইরাকে দুই বছর আগে মার্কিন সন্ত্রাসী হামলায় পপুলার মবিলাইজেশন ফ্রন্ট বা হাশদ্ আশ শাবি নামক স্বেচ্ছাসেবী সশস্ত্র বাহিনীর তৎকালীন উপপ্রধান আবু মাহদি আলমুহানদিস ও ইরানের কুদস্‌ ব্রিগেডের তৎকালীন প্রধান জেনারেল কাসেম সুলায়মানি শহীদ হলে দেশটি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের দাবি জোরদার হয়ে ওঠে। ইরাকি সংসদ (২০২০ সনের ৫ জানুয়ারি) দেশটি থেকে সব মার্কিন সেনা সরিয়ে নেয়ার আইন পাশ করে। কিন্তু মার্কিন সরকার সেনা-উপদেষ্টা বা প্রশিক্ষক রাখার অজুহাত দেখিয়ে ইরাকে মার্কিন সেনা মোতায়েন অব্যাহত রেখেছে, যদিও অনেক মার্কিন সেনাকে ইরাক থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।।

২০২১ সালের জুলাই মাসে স্বাক্ষরিত বাগদাদ-ওয়াশিংটন চুক্তি অনুযায়ী ওই বছরের শেষ নাগাদ মার্কিন সেনারা ইরাক ত্যাগ করবে এবং একদল সেনা প্রশিক্ষণ দেয়ার কাজে সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে ইরাকে থেকে যাবে। 

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা আলকাযেমি তার দেশ থেকে ২০২১ সালের শেষ নাগাদ সব মার্কিন সেনা  সরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দিলেও এখনও ২৪০০ মার্কিন সেনা উপদেষ্টা হিসেবে ইরাকে রয়ে গেছে। অবশ্য ইরাকের অজ্ঞাত কয়েকটি ঘাঁটিতে ৫ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে বলে ত্বারিক আররাবিয়ি নামের একজন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ উল্লেখ করেছেন।

ওদিকে ইরাক থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেয়া না হলে দখলদার সেনা হিসেবে তাদের ওপর হামলা চালানো হবে বলে বার বার হুঁশিয়ারি দিয়ে এসেছে ইরাকি প্রতিরোধ সংগঠনগুলো। দৃশ্যত তাদের সেই হুঁশিয়ারি বাস্তবায়নই শুরু হয়েছে।

ইরাকের মধ্য, দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলে মার্কিন সেনা অবস্থানে হামলার ঘটনা ঘটলেও বেশিরভাগ হামলা আইনুল আসাদ ঘাঁটির ওপরই কেন্দ্রীভূত। এই ঘাঁটি ইরাকি সেনাদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে বলে মার্কিন সরকার দাবি করলেও বাস্তবে বেশিরভাগ মার্কিন সেনা এখানেই রয়েছে বলে জানা গেছে। 

এটা স্পষ্ট ইরাকের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হওয়ার কারণেই আইএস বা দায়েশসহ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর প্রধান সহযোগী মার্কিন সেনাদের ইরাক থেকে বিতাড়নের সংগ্রাম দিনকে দিন জোরদার হয়ে উঠবে।   #

পার্সটুডে/এমএএইচ/৬