‘উদ্ধার অভিযান ব্যর্থ’: ইস্ফাহানে বেশ কয়েকটি মার্কিন বিমান ধ্বংস করল ইরান
https://parstoday.ir/bn/news/event-i158254-উদ্ধার_অভিযান_ব্যর্থ’_ইস্ফাহানে_বেশ_কয়েকটি_মার্কিন_বিমান_ধ্বংস_করল_ইরান
ইরানের খাতামুল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দফতরের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট-কর্নেল ইব্রাহিম জুলফাকারি জানিয়েছেন, ইরানি বাহিনী দুটি মার্কিন সি-১৩০ পরিবহন বিমান ও দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। এই বিমানগুলো একটি ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধারের অভিযান চালাচ্ছিল।
(last modified 2026-04-09T15:13:27+00:00 )
এপ্রিল ০৫, ২০২৬ ১৬:০৬ Asia/Dhaka
  • ‘উদ্ধার অভিযান ব্যর্থ’: ইস্ফাহানে বেশ কয়েকটি মার্কিন বিমান ধ্বংস করল ইরান

ইরানের খাতামুল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দফতরের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট-কর্নেল ইব্রাহিম জুলফাকারি জানিয়েছেন, ইরানি বাহিনী দুটি মার্কিন সি-১৩০ পরিবহন বিমান ও দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। এই বিমানগুলো একটি ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধারের অভিযান চালাচ্ছিল।

আজ (রোববার) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, "ইস্ফাহানের দক্ষিণে একটি পরিত্যক্ত বিমানবন্দরে ভূপাতিত নিজেদের বিমানের পাইলট উদ্ধারের অজুহাতে প্রতারণাপূর্ণ ও দ্রুত পলায়নের পরিকল্পনা নিয়ে মার্কিন সেনাবাহিনীর উদ্ধার অভিযান সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে, কারণ ইরানি সশস্ত্র বাহিনী সঠিক সময়ে উপস্থিত হয়ে তা নস্যাৎ করে দিয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, ইরানি বাহিনীর অভিযানে দুটি সি-১৩০ সামরিক পরিবহন বিমান ও দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ধ্বংস করা হয়েছে। এতে সবার কাছে প্রমাণিত হয়েছে যে, এই চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে জঘন্য ও দেউলিয়া মার্কিন সেনাবাহিনী ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে বিবেচিত নয়।"

লেফটেন্যান্ট-কর্নেল ইব্রাহিম জুলফাকারি বলেন, “এই গর্বিত ও বিজয়ী অভিযানের পর, পরাজিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট মিথ্যা ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের মাধ্যমে ব্যর্থতা থেকে বাঁচতে তাড়াহুড়ো করছেন। অতীতের মতো, তিনি তাঁর মিথ্যা দাবি এবং দোষারোপের খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন, অথচ ময়দানের বাস্তবতা ইরানের শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন করছে।"

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে দাবি করেছিলেন, একটি অভিযানে তাঁর দেশের সামরিক বাহিনী পাইলটকে 'পেয়ে গেছে'। তবে ইসলামি ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ট্রাম্পের সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।

আইআরজিসি’র পাবলিক রিলেশনস বিভাগ বলেছে, "ভূপাতিত যুদ্ধবিমানের পাইলট উদ্ধারের জন্য মার্কিনদের মরিয়া পদক্ষেপ এবং দেশের কেন্দ্রীয় অংশে উড়ন্ত বস্তুর অনুপ্রবেশের পর, শত্রুর উড়ন্ত বস্তুগুলো ধ্বংস করা হয়েছে এবং একটি যৌথ অভিযানে (যেখানে মহাকাশ বাহিনী, স্থল বাহিনী এবং জনসাধারণ, বাসিজ ও পুলিশ ইউনিট অংশ নেয়) মার্কিনিরা আবারও লজ্জাজনক পরাজয়ের সম্মুখীন হয়েছে।"

এতে আরও জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, এই ঘটনাটি ১৯৮০ সালের ২৫ এপ্রিলের ঘটনার মতো, যখন ইরানে আটক মার্কিন জিম্মিদের মুক্ত করতে মার্কিন বাহিনী তাবাস শহরে প্রবেশ করেছিল কিন্তু একটি বড় বালি-ঝড়ের কারণে ব্যর্থ হয়েছিল।

এছাড়া, আজ ইস্ফাহান প্রদেশের আকাশে দুটি অনুপ্রবেশকারী ড্রোন—একটি এমকিউ-৯ এবং একটি হার্মেস-৯০০—ইরানের সমন্বিত বিমান প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের অধীনে পরিচালিত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা ধ্বংস করা হয়েছে।

১০০ মিলিয়ন ডলারের বিমান ধ্বংস করল ইরান

ইরানে ভূপাতিত এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধার করতে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইরানে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা ওই উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া দুটি মার্কিন বিমান ধ্বংস করেছে। প্রতিটি বিমানের দাম ছিল ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি।

এই বিমান দুটি ছিল এমসি-১৩০জে মডেলের। এগুলো অত্যাধুনিক প্রযুক্তির, যা শত্রু এলাকায় সেনা নামানো এবং তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য তৈরি। এতে তাপ-সন্ধানী ব্যবস্থার মতো প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি আছে এবং আকাশেই জ্বালানি নিতে পারে।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র যদি এভাবে আরও তিনটি ‘জয়’ পায়, তাহলে তাদের অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যাবে।”

বিমান হামলার মাধ্যমে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরাইলি অপরাধী জোটের আগ্রাসন শুরু হয়, যা ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও কমান্ডারদের হত্যা করে। জবাবে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী প্রায় প্রতিদিন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে ইসরাইল-অধিকৃত অঞ্চল এবং সারা অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সম্পদ লক্ষ্য করে। তারা বেশ কয়েকটি শত্রু যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনও ভূপাতিত করেছে, যা ইরানের আকাশসীমা রক্ষার প্রস্তুতিকে প্রতিফলিত করে।#

পার্সটুডে/এমএআর/৫