সিরিয়ায় তুর্কি সেনা মোতায়েন: উদ্দেশ্য নিয়ে নানা মত
তুরস্কের সেনারা সিরিয়ায় প্রবেশ করেছে এবং তাদেরকে সিরিয়ার এজাজ ও অফারিন এলাকার উপকণ্ঠে মোতায়েন করা হয়েছে। পাশ্চাত্যের কয়েকটি গণমাধ্যম এ খবর জানিয়েছে। সিরিয়ার ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়ন দলের নেতা আহমাদ আরাক বলেছেন, তুরস্কের শত শত সেনা সীমান্ত অতিক্রম করে মারে ও এজাজের কাছেই বাব আল ইসলামে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে।
আহমাদ আরাক আরো বলেছেন, তুর্কি সেনারা মারে ও এজাজ এলাকায় হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ওই এলাকায় বর্তমানে দায়েশ সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সিরিয়ার সরকারী ও গণবাহিনীর প্রচণ্ড যুদ্ধ চলছে। তিনি তুর্কি বাহিনীর সিরিয়ায় প্রবেশের খবর দেয়ার আগে সিরিয়া বিরোধী একটি টিভি চ্যানেল জানায়, সেদেশে সামরিক হস্তক্ষেপের জন্য তুরস্ক আমেরিকাকে প্রস্তাব দিয়েছিল। বলা হচ্ছে, তুরস্ক সরকারের মুখপাত্র ও উপ প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন, দায়েশ সন্ত্রাসীদের দমনের জন্যই আঙ্কারা সিরিয়ায় সেনা পাঠিয়েছে। তিনি বলেন, সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে বিশেষ সামরিক পরিকল্পনা ওয়াশিংটনের কাছে তুলে ধরা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সিরিয়ার সরকারী ও গণবাহিনীর পাল্টা আঘাতের মুখে দায়েশ সন্ত্রাসীরা যখন পরাজিত হচ্ছে এবং পালিয়ে যাচ্ছে ঠিক তখন তুরস্ক সিরিয়ায় সেনা পাঠিয়েছে। তাদের মতে, তুর্কি সেনারা সিরিয়ার প্রায় ৭০০ মিটার অভ্যন্তরে আলেপ্পোর উত্তরে অবস্থান করায় সিরিয়ার কুর্দি গ্রুপের কাছে এ আশঙ্কাই জোরদার হয়েছে যে, দায়েশকে মোকাবেলা করা তুরস্কের উদ্দেশ্য নয় বরং তাদের আসল লক্ষ্য সিরিয়ার মাটিতে সন্ত্রাসীদের পতন ঠেকানো।
সিরিয়ার মাটিতে সামরিক অভিযান চালানোর জন্য আমেরিকাকে তুরস্কের প্রস্তাবে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়েছে। সিরিয়ার কর্মকর্তারা বলছেন, তার দেশের মাটিতে প্রবেশের ব্যাখ্যা দিতেই তুরস্ক এমন প্রস্তাব দিয়েছে। দায়েশকে মোকাবেলার জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক জোটের তালিকায় সিরিয়ার সরকার বিরোধী সশস্ত্র গ্রুপ ও দায়েশকে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও তাদের প্রতি আবার আঙ্কারার প্রকাশ্য কিংবা গোপন সমর্থনকে এরই আলোকে মূল্যায়ন করা যায়। কারণ এভাবে তুরস্ক দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করেছে। তুর্কি কর্মকর্তারা দায়েশকে মোকাবেলার কথা বলে সিরিয়ায় সেনা পাঠানোর কথা জানিয়েছেন অথচ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, সাধারণ মানুষ হত্যা করে দায়েশকে পরাজিত করা যাবে না। এ থেকেই সিরিয়া পরিস্থিতির ব্যাপারে তুরস্কের দ্বিমুখী নীতির পরিচয় পাওয়া যায়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সিরিয়ায় তুরস্কের সেনা পাঠানো থেকে বোঝা যায়, সিরিয়ার ঘটনাবলীতে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চাইতে তুর্কি নেতৃবৃন্দ বর্তমানে দায়েশ বিরোধী কথিত জোটের সদস্য দেশগুলোর তুলনায় নিজেদের পিছিয়ে পড়ার বিষয়ে বেশি চিন্তিত। এমন কি নিজের নিরাপত্তা নিয়েও চিন্তিত। কারণ অনেকের মতে, সিরিয়ায় যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর দায়েশ সন্ত্রাসীরা যাতে তুরস্কের মাটিতে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্যই তুরস্ক সিরিয়ায় সেনা পাঠিয়ে থাকতে পারে।#
পার্সটুডে/মোহাম্মদ রেজওয়ান হোসেন/২