'গাজার বিজয়ের মধ্য দিয়েই এ যুদ্ধ শেষ হবে'
হাসান নাসরুল্লাহ'র ঐতিহাসিক ভাষণের গুরুত্বপূর্ণ ক'টি দিক
লেবাননের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর প্রধান সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ গতকাল এক ভাষণে গাজার যুদ্ধ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রেখেছেন।
তিনি এটা স্পষ্ট করেছেন যে আল-আকসা তুফান' অভিযান ফিলিস্তিনিদের সিদ্ধান্তেই হয়েছে। ফিলিস্তিনিরাই সব কিছু করেছে, তারাই এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছে। অভিযানের বিষয়টি অত্যন্ত গোপনীয় ছিল বলেই তা সফল হয়েছে। এ অভিযান এতই গোপন ছিল যে গাজার অন্যান্য সংগ্রামী দলগুলোর কেউই এ বিষয়ে কিছুই জানতে পারেনি। তাই ইসলামী ইরানই সংগ্রামী ফিলিস্তিনি দলগুলোকে দিয়ে আল-আকসার তুফান শীর্ষক অভিযান চালিয়েছে এমন দাবি বা প্রচারণা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ফিলিস্তিনের সংগ্রামী দলগুলো তাদের সিদ্ধান্ত নেয়ার ব্যাপারে পুরোপুরি স্বাধীন। ইরান কেবল এইসব দল বা আন্দোলনকে সমর্থন যুগিয়ে চলে, কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত তাদের ওপর চাপিয়ে দেয় না বা তাদেরকে কোনো পদক্ষেপ নিতে চাপ দেয় না।
হিজবুল্লাহর প্রধান এটাও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন যে ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর ৭৫ বছর ধরে চলে আসা ইসরাইলি অপরাধযজ্ঞের জবাবেই আল-আকসা তুফান অভিযান চালিয়েছে ফিলিস্তিনিরা। ৭৫ বছর ধরে ফিলিস্তিনি জনগণ ইসরাইলি অপরাধযজ্ঞ সয়ে আসলেও সাম্প্রতিক সময়ে ইসরাইলের উগ্র ইহুদিবাদী সরকার ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতার মাত্রা তীব্রতর করায় অবরুদ্ধ গাজার অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে পড়ে। এ বিষয়ে আঞ্চলিক সরকারগুলো ও বিশ্ব সমাজের উদাসীনতায় হতাশ হয়ে ফিলিস্তিনিরা আল-আকসার তুফান শীর্ষক অভিযান চালিয়েছে।
'আল-আকসা তুফান' অভিযান প্রমাণ করেছে দখলদার ইসরাইল মাকড়সার জালের চেয়েও দুর্বল। ইসরাইলের অবস্থা খুবই নড়বড়ে হয়ে পড়ায় তাকে আবারও শক্তি যোগাতে সর্বশক্তি প্রয়োগের চেষ্টা করছে মার্কিন সরকার ও তার সামরিক বিভাগ। কিন্তু ইসরাইল এখনও আগের অবস্থায় ফিরে আসতে পারছে না, সামরিক, গোয়েন্দা ও মনোবলসহ সব দিকেই। আল-আকসা তুফান অভিযান ইসরাইলে নিরাপত্তা, সামরিক এবং মনস্তাত্ত্বিক ভূমিকম্প সৃষ্টি করেছে। এই সরকার যাই করুক না কেন, এই ধ্বংসাত্মক অভিযানের বিশাল প্রভাব থেকে রক্ষা পাবে না
হিজবুল্লাহর প্রধান এটাও তুলে ধরেছেন যে ইসরাইল গাজার ওপর জাতিগত শুদ্ধি অভিযান চালাচ্ছে অথচ আরব সরকারগুলো গাজার জনগণের সহায়তায় কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। নারী ও শিশুসহ বেসামরিক কাউকেই রেহাই দিচ্ছে না ইসরাইল ও নির্বিচারে সবখানে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। কেবল মৌখিক নিন্দা যথেষ্ট নয়। ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা ও ইসরাইলে নানা পন্য রপ্তানি বন্ধ করা উচিত। এই আরব সরকারগুলো গাজার রাফাহ ক্রসিং পয়েন্ট পর্যন্ত খুলে দেয়ার শক্তি রাখে না?
সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ এটাও তুলে ধরেছেন যে হিজবুল্লাহ ইসরাইলের উত্তর সীমান্তে হামলা চালিয়ে দখলদার এই গোষ্ঠীর শক্তির একটা বড় অংশকে সেইদিকে ব্যস্ত রাখতে সক্ষম হয়েছে, ফলে ইসরাইল ওই শক্তি গাজার ওপর কাজে লাগাতে পারছে না।
হিজবুল্লাহ প্রধান আরও বলেছেন, আল-আকসা অভিযানের পর ইসরাইলি বাহিনী নিজেরাই নিজেদের লোকদের হত্যা করেছে। তারা হামাসের কাছ থেকে ইহুদি উপশহরগুলো পুনরুদ্ধারের জন্য তাড়াহুড়োমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে, পাগলামি করেছে। তারাই নিজেদের লোকদের ওপর তাণ্ডব চালিয়েছে, তাদের অস্ত্রের আঘাতে উপশহরে অনেক ইহুদিবাদী প্রাণ হারিয়েছে। এখন ইসরাইলে প্রকাশিত বিভিন্ন নিবন্ধে এসব তথ্য আসছে। ভবিষ্যতে তা আরও পরিষ্কার হবে।
তিনি আরও বলেছেন ইহুদিবাদীদের সাথে যুদ্ধের চেয়ে মানবিক, নৈতিক এবং পবিত্র যুদ্ধ আর নেই। ইসরাইলের বিরুদ্ধে আল-আকসা তুফান অভিযান একাধিক ফ্রন্টে এবং একাধিক অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন দেশ এবং লাতিন আমেরিকা থেকে যারা একাত্মতা প্রকাশ করেছেন তাদের সবাইকে আমরা শুভেচ্ছা জানাই। আমরা ধন্যবাদ এবং অভিবাদন জানাই ইরাক এবং ইয়েমেনের সেনাবাহিনীকে যারা এই যুদ্ধে জড়িয়ে গেছে। লেবাননের জনপ্রিয় প্রতিরোধ আন্দোলনের নেতা আরও বলেছেন, গাজা যুদ্ধের জন্য আমেরিকা পুরোপুরি দায়ী, যুদ্ধবিরতি না হওয়ার জন্যও দেশটি দায়ী। তারা বলছে কখন হিজবুল্লাহ যুদ্ধে নামবে? আমরা ৮ অক্টোবর থেকে একটি সত্যিকারের যুদ্ধে প্রবেশ করেছি এবং যারা সত্যিই সীমান্তে উপস্থিত তারাই এটি অনুভব করতে পারেন। আমরা এই পরিমাণ লড়াইয়ে সন্তুষ্ট হব না এবং ইহুদিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে হামলা বাড়াব। আমরা আমেরিকার নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজও মোকাবেলায় প্রস্তুত। ৮০'র দশকে লেবাননের যে বিপ্লবী যুবকরা মার্কিন বাহিনীকে বিপর্যস্ত করেছিল তারা এখনও জীবিত ও তাদের সন্তান ও নাতিরা একই কাজ করতে প্রস্তুত। তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, গাজার বিজয়ের মাধ্যমেই এই যুদ্ধের অবসান ঘটবে, ইনশাআল্লাহ।#
এমএএইচ/০৪
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।