হরমুজ ‘আমেরিকার’ হলে ক্যালিফোর্নিয়া ‘ইরানের’: ট্রাম্পের দাবির জবাবে তেহরান
https://parstoday.ir/bn/news/event-i162316-হরমুজ_আমেরিকার’_হলে_ক্যালিফোর্নিয়া_ইরানের’_ট্রাম্পের_দাবির_জবাবে_তেহরান
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসেবে ঘোষণা করার হুমকি দেওয়ার পর ব্যঙ্গাত্মক জবাব দিয়েছে ইরান। ভারতে ইরানের হায়দারাবাদ কনস্যুলেটের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে যুক্তরাষ্ট্রের একটি মানচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে ক্যালিফোর্নিয়াকে ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
(last modified 2026-08-19T11:53:44+00:00 )
আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১৭:৪৬ Asia/Dhaka
  • হরমুজ ‘আমেরিকার’ হলে ক্যালিফোর্নিয়া ‘ইরানের’: ট্রাম্পের দাবির জবাবে তেহরান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসেবে ঘোষণা করার হুমকি দেওয়ার পর ব্যঙ্গাত্মক জবাব দিয়েছে ইরান। ভারতে ইরানের হায়দারাবাদ কনস্যুলেটের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে যুক্তরাষ্ট্রের একটি মানচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে ক্যালিফোর্নিয়াকে ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পরই ইরানি কূটনীতিকদের পক্ষ থেকে এই ব্যঙ্গাত্মক মানচিত্র প্রকাশ করা হয়। এর মাধ্যমে মূলত ট্রাম্পের একতরফাভাবে কোনো ভূখণ্ডকে নিজের দেশের অংশ ঘোষণা করার দাবির অসারতা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার নিউইয়র্কের একটি পুলিশ একাডেমিতে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান ‘শোচনীয়ভাবে হারছে’ এবং দেশটিকে পুরোপুরি পরাজিত করার পর তিনি ‘খুব শিগগির’ হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসেবে ঘোষণা করবেন।

ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের অংশে পরিণত হয়েছে। তাঁর ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র না চাইলে কোনো জাহাজ ওই জলপথ দিয়ে চলাচল করতে পারবে না।

তবে ইরান ট্রাম্পের এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেছেন, টুইট করে, বিমানবাহী রণতরি পাঠিয়ে কিংবা কোনো আদেশ জারি করে হরমুজ প্রণালি দখল করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি ইরানের ছিল, আছে এবং থাকবে।’

গারিবাবাদি আরও বলেন, ট্রাম্প যেমন ‘পারস্য উপসাগর’ নামটি সঠিকভাবে লিখেছেন, তেমনি শিগগিরই হরমুজ প্রণালি নিয়ে তাঁর ‘ভ্রান্ত ধারণাও’ সংশোধন করা হবে।

ইরানের পক্ষ থেকে ক্যালিফোর্নিয়াকে ‘নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখানো মানচিত্র প্রকাশের ঘটনাটি মূলত এই বক্তব্যেরই ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া। তবে এর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের দাবিটি বাস্তবে কতটা কার্যকর করা সম্ভব, তা নিয়েও আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।

হরমুজ কি যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে পারে?

আল-জাজিরার এক্সপ্লেইনার অনুযায়ী, শুধু মার্কিন প্রেসিডেন্টের একতরফা ঘোষণার মাধ্যমে কোনো ভূখণ্ডের সার্বভৌমত্ব পরিবর্তন করা যায় না।

মার্কিন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্রুস ফেইনের মতে, ট্রাম্পের এককভাবে কোনো অঞ্চল যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার সাংবিধানিক ক্ষমতা নেই। তাঁর মতে, কোনো অঞ্চল অধিগ্রহণ করতে হলে সিনেটের অনুমোদিত চুক্তি বা আইনের প্রয়োজন হবে।

আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ নাটালি ক্লেইনও মনে করেন, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হলে আগে সামরিক শক্তির মাধ্যমে এর নিয়ন্ত্রণ নিতে হবে। অর্থাৎ ইরান বা অন্তত এর উপকূলীয় এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এমন পরিস্থিতি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সঙ্গে তুলনীয় হতে পারে।

জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশন বা ইউএনসিএলওএস অনুযায়ী, উপকূলীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক জলসীমা উপকূল থেকে সর্বোচ্চ ১২ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক জলপথে জাহাজ চলাচলের অধিকারও স্বীকৃত।

হরমুজ প্রণালির সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশের প্রস্থ প্রায় ২১ নটিক্যাল মাইল। ফলে সেখানে ইরান ও ওমানের ১২ নটিক্যাল মাইলের আঞ্চলিক জলসীমা একে অপরের সঙ্গে মিলে যায়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কেউই ইউএনসিএলওএস-এর পক্ষভুক্ত না হলেও আন্তর্জাতিক প্রণালিসংক্রান্ত এসব নীতি বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত নিয়ম হিসেবে বিবেচিত হয়।#

পার্সটুডে/এমএআর/১৯