বিশ্লেষণ | ইরান ও আমেরিকা কি নতুন এক সংঘাতের মুখে?
https://parstoday.ir/bn/news/world-i162328-বিশ্লেষণ_ইরান_ও_আমেরিকা_কি_নতুন_এক_সংঘাতের_মুখে
পার্সটুডে: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী সংঘাতের সাম্প্রতিক ঘটনাবলী শুধু কূটনীতির পথকেই অন্ধকার করেনি, বরং অঞ্চলে সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
(last modified 2026-08-19T14:25:32+00:00 )
আগস্ট ১৯, ২০২৬ ২০:০১ Asia/Dhaka
  • হরমুজকে ঘিরে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সংঘাতের শঙ্কা
    হরমুজকে ঘিরে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সংঘাতের শঙ্কা

পার্সটুডে: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী সংঘাতের সাম্প্রতিক ঘটনাবলী শুধু কূটনীতির পথকেই অন্ধকার করেনি, বরং অঞ্চলে সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

পার্সটুডে'র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক এই পরিস্থিতি একটি গভীর ও বহুমুখী অচলাবস্থা তুলে ধরেছে, যা দুই পরাশক্তির মুখোমুখি হওয়ার এক বিপজ্জনক নতুন ধাপ নির্দেশ করে।

তিনটি বিষয় একই সঙ্গে এই জটিল পরিস্থিতি তৈরি করেছে: হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার জন্য তেহরানের স্পষ্ট শর্তাবলি ঘোষণা, সামরিক নীতি ‘প্রতিরক্ষামূলক’ থেকে ‘আক্রমণাত্মক’-এ পরিবর্তনের বিষয়ে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার গম্ভীর সতর্কবার্তা এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ইরানের সাথে সমস্ত আলোচনা অবিলম্বে বন্ধ করার আকস্মিক নির্দেশ।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফ সম্প্রতি তেহরানের কূটনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, সামুদ্রিক অবরোধ প্রত্যাহার, বাজেয়াপ্ত সম্পদ ফেরত, তেল নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং সমস্ত ফ্রন্টে সামরিক হুমকি ও হামলা বন্ধনা হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না।

একই সময়ে, রয়টার্স এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় ইরান তার সামরিক নীতি পরিবর্তন করে "সম্পূর্ণ আক্রমণাত্মক" করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই কর্মকর্তা আরও জানান, সমুদ্র অবরোধ ভাঙতে ইরান প্রয়োজনে "যথাসময়ে এবং নিখুঁত সামরিক হামলা" চালাতে প্রস্তুত।

অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ইরানের সাথে সব ধরনের আলোচনা বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি জানান, ইরানের সাথে কোনো আলোচনা চলছে না এবং সামরিক ও সমুদ্র অবরোধ পূর্ণ শক্তিতে বহাল থাকবে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, আমেরিকা তাৎক্ষণিক সামরিক আঘাতের চেয়ে "ধীরে ধীরে শ্বাসরোধ" করার অর্থনৈতিক কৌশল বেছে নিয়েছে।

ইসলামাবাদের ৬০ দিনের সমঝোতা চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মতভেদের কারণে দুই দেশের কূটনৈতিক পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ইরান সামরিক নীতি পরিবর্তনের মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, তারা আর কেবল প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে থাকবে না; বরং অবরোধ ভাঙতে সামরিক পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত। এর ফলে অঞ্চলটির ভূ-রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ এখন এক অনিশ্চিত মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে।#

পার্সটুডে/এমএআর/১৯