ফিলিস্তিনি নারীদের ওপর ইসরাইলি পাশবিকতায় জাতিসংঘের উদ্বেগ
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i134692-ফিলিস্তিনি_নারীদের_ওপর_ইসরাইলি_পাশবিকতায়_জাতিসংঘের_উদ্বেগ
জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের নতুন প্রতিবেদনে গাজা ও পশ্চিম তীরের নারী ও মেয়েদের বিরুদ্ধে ধর্ষণসহ ইহুদিবাদী সামরিক বাহিনীর নৃশংস ও অমানবিক আচরণের নতুন কিছু দিক উন্মোচিত হয়েছে।
(last modified 2026-03-01T10:43:34+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৪ ১৪:৩৯ Asia/Dhaka

জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের নতুন প্রতিবেদনে গাজা ও পশ্চিম তীরের নারী ও মেয়েদের বিরুদ্ধে ধর্ষণসহ ইহুদিবাদী সামরিক বাহিনীর নৃশংস ও অমানবিক আচরণের নতুন কিছু দিক উন্মোচিত হয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের বিশেষজ্ঞরা ইহুদিবাদী সেনাদের দ্বারা ফিলিস্তিনি নারীদের ধর্ষণ, হত্যা এবং খাবার না দিয়ে খাঁচায় আটকে রাখাকে মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন হিসাবে বিবেচনা করেছেন। প্রতিবেদনে ওই বিশেষজ্ঞরা ঘোষণা করেছেন যে আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন অনুযায়ী এই অপরাধগুলি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আইনের আওতায় ও রোম চুক্তির অধীনে এসব অপরাধের বিচার হতে পারে জঘন্য অপরাধ হিসেবে।

এই প্রতিবেদনের একটি অংশে বলা হয়েছে: আটক ফিলিস্তিনি নারী ও মেয়েদের বিরুদ্ধে ইসরাইলি সেনাদের দ্বারা ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতা ঘটার বহু সংখ্যক প্রতিবেদন পেয়ে আমরা গভীরভাবে দুঃখিত। এটা মর্মান্তিক যে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুদের লক্ষ্য করে তাদেরকে সপরিবারে হত্যা করছে নির্বিচারে, অথচ তারা আশ্রয় খুঁজছিল বা পালিয়ে যাচ্ছিল। ইসরাইলি সেনাবাহিনী বা তার সহযোগী বাহিনীর হাতে নিহত হওয়ার সময় এইসব নারী ও মেয়েরা সাদা পতাকা বহন করছিলেন। 

এই বিবৃতি অনুসারে, কমপক্ষে দু'জন ফিলিস্তিনি নারী বন্দীকে যৌন নির্যাতন করা হয়েছে এবং আরও কয়েকজনকে যৌন নিপীড়ন ও সহিংসতার হুমকি দেয়া হয়েছে।

তাদের প্রতিবেদন আরও বলা হয়েছে যে ফিলিস্তিনি নারী বন্দীদের ছবি ইসরাইলি সেনারা অপমানজনক অবস্থায় তুলে ইন্টারনেটে শেয়ার করেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে: ইসরাইলি সেনাবাহিনীর মাধ্যমে অজানা সংখ্যক ফিলিস্তিনি নারী, মেয়ে ও শিশু নিখোঁজ হয়েছে এবং অন্তত একজন ফিলিস্তিনি নবজাতক মেয়েকে জোরপূর্বক ইসরাইলি সেনাবাহিনী  ইসরাইলে স্থানান্তরিত করেছে বলে খবর রয়েছে। ইসরাইলি সেনারা অনেক ফিলিস্তিনি শিশুকে তাদের পিতামাতার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে এবং তাদের অবস্থান এখনও অজানা।

জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞদের মধ্যে রয়েছেন রিম আলসালেম। তিনি নারী ও মেয়েদের বিরুদ্ধে বৈষম্য-বিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপ নারী ও মেয়েদের বিরুদ্ধে সহিংসতা-বিষয়ক স্পেশাল র‌্যাপোটিয়ার। এছাড়া আছেন ফ্রানসেসকা আলবানিস। তিনি ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক স্পেশাল র‌্যাপোটিয়ার।

তারা ৭ অক্টোবর থেকে গাজা ও পশ্চিম তীরে মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক, মানবিক সহায়তাকর্মীসহ শত শত ফিলিস্তিনি নারী ও মেয়েকে নির্বিচারে আটকেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাদের সাথে 'অমানবিক ও অমর্যাদাপূর্ণ আচরণ করা হয়, স্যানিটারি প্যাড, খাবার ও ওষুধ দেয়া হয় না, ভয়াবহভাবে প্রহার করা হয়।' তারা একটি উদাহরণ উল্লেখ করে বলেন যে নারী বন্দীদের খাঁচায় আটকে রেখে বৃষ্টি ও ঠাণ্ডার মধ্যে খাবার-বিহীন ফেলে রাখা হয়েছিল।
জাতিসঙ্ঘ বিশেষজ্ঞরা নগ্ন করে প্রহার করা, পুরুষ ইসরাইলি সৈন্য দিয়ে দেহ তল্লাসি চালানোসহ ফিলিস্তিনি নারী বন্দীদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের যৌন আক্রমণের খবরেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। #

পার্সটুডে/২০