সিরিয়ার ব্যাপারে এবার তুরস্কের নরম সুর
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান সিরিয়ার ব্যাপারে নতুন নীতি গ্রহণ করতে যাচ্ছেন।
এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে তুর্কি দৈনিক জামান পত্রিকা গতকাল (শুক্রবার) পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে প্রেসিডেন্টের শুভেচ্ছার কথা জানিয়েছে লিখেছে, প্রেসিডেন্ট এরদোগান তার বাণীতে বলেছেন, আঙ্কারা এমন একটি সমস্যা নিরসনের চেষ্টা করছে যে সমস্যার কারণে সিরিয়া সংকট শুরু হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট এরদোগান রাশিয়া এবং দখলদার ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য তুরস্কের চেষ্টার কথা জানিয়ে বলেছেন, তার সরকার সিরিয়া সমস্যা সমাধানের জন্য পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে যাতে দামেস্কের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া সম্পর্ক জোড়া লাগানো যায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করার জন্য তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগানের আগ্রহ থেকে বোঝা যায়, সিরিয়ার ব্যাপারে তুরস্ক সরকারের নীতিতে পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। এর আগে এরদোগান সরকার প্রতিবেশী দেশ সিরিয়ায় হস্তক্ষেপ করে সেখানে সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়ে গোলযোগ বাধায় যাতে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আসাদকে উৎখাত করা যায়। অনেকের মতে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের দায়ভার সাবেক প্রধানমন্ত্রী আহমদ দাউদ ওগলুর ওপর চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন।
তুরস্কের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে আহমদ দাউদ ওগলুকে সরিয়ে দেয়ার পর তুরস্ক সরকার রাশিয়া ও সিরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার দিকে ঝুঁকে পড়েছে। এ থেকে বোঝা যায়, এরদোগান এটাই প্রমাণ করতে চান যে, আজকে তুরস্কে নিরাপত্তাহীনতা কিংবা সিরিয়ায় সংকট সৃষ্টির জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রীই দায়ী। অথচ এটা সবারই জানা যে, অভ্যন্তরীণ কিংবা আঞ্চলিক যে কোনো বিষয়ে মূল সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন খোদ প্রেসিডেন্ট এরদোগান।
অনেকের মতে, তুরস্কের প্রেসিডেন্টের মধ্যপ্রাচ্য নীতি ব্যর্থ হওয়ার কারণে প্রেসিডেন্ট এরদোগান মধ্যপ্রাচ্য বিশেষ করে সিরিয়ার ব্যাপারে তার নীতিতে পরিবর্তন আনার কথা ভাবছেন। এ ছাড়া, সিরিয়ার আকাশ সীমায় রাশিয়ার বিমান ভূপাতিত করার বিষয়ে তুরস্কের ক্ষমা চাওয়ার সাম্প্রতিক ঘটনায়ও এরদোগানের নীতিতে পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যায়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনাবলীর ব্যাপারে তুরস্কের ভুল নীতি এবং সিরিয়ার ব্যাপারে রাজতন্ত্র শাসিত আরব সরকারগুলোর অন্যায় কর্মকাণ্ডের প্রতি তুরস্কের অন্ধ সমর্থন ও এর পরিণতি থেকে এ শিক্ষাই পাওয়া যায় যে, তুরস্কের মতো একটি দেশের জাতীয় স্বার্থ যেন একটি দলের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির ভুল নীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়ে নিজস্ব লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন। এ ছাড়াও দেশের অভ্যন্তরে তার দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির মান মর্যাদাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির জন্য তুরস্কের ক্ষমতাসীন দলের নেতারাই দায়ী।
সব দিক থেকে ব্যর্থ হওয়ার পর তুরস্কের ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির মধ্যেই তীব্র মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে দলটির অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে নীতি নির্ধারণের বাইরে রাখা হয়েছে। এ কারণে আগামী এক বছরে তুরস্কের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আরো বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়তে যাচ্ছে বলে অনেকে মনে করছেন। #
পার্সটুডে/মোহাম্মদ রেজওয়ান হোসেন/৯