ইয়েমেনের ক্ষেপণাস্ত্র অভিযানে পাশ্চাত্য ও ইসরাইলের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i145510-ইয়েমেনের_ক্ষেপণাস্ত্র_অভিযানে_পাশ্চাত্য_ও_ইসরাইলের_জন্য_কিছু_গুরুত্বপূর্ণ_বার্তা
পার্সটুডে-বিশেষজ্ঞদের মতে ইসরাইলের গভীর অভ্যন্তরে ইয়েমেনি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো যে প্রবেশ করছে ওই ঘটনা আমেরিকা এবং ইহুদিবাদী ইসরাইলি নেতাদের জন্য রাজনৈতিক ও সামরিক অনেক বার্তা রয়েছে।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জানুয়ারি ০১, ২০২৫ ১৬:৩৫ Asia/Dhaka
  • ইয়েমেনের ক্ষেপণাস্ত্র অভিযানে পাশ্চাত্য ও ইসরাইলের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

পার্সটুডে-বিশেষজ্ঞদের মতে ইসরাইলের গভীর অভ্যন্তরে ইয়েমেনি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো যে প্রবেশ করছে ওই ঘটনা আমেরিকা এবং ইহুদিবাদী ইসরাইলি নেতাদের জন্য রাজনৈতিক ও সামরিক অনেক বার্তা রয়েছে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে, ইসরাইলে অনেকবার বিপদ ঘণ্টা বেজেছে। ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠি ইসরাইলের গভীর অভ্যন্তরে 'প্যালেস্টাইন-২' ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রবেশের ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। মজলুম ফিলিস্তিনি জনগণের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী ওই রকেট নিক্ষেপ করে। মেহর নিউজ এজেন্সির উদ্ধৃতি দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনীর ছোঁড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনগুলো ২০৪০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে ইসরাইলের কেন্দ্রস্থলে পৌঁছে গেছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো রাজনৈতিক এবং সামরিক অনেক বার্তা বহন করে। গাজা উপত্যকায় যুদ্ধের উত্তাল পরিস্থিতির ওপর এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা দুর্দান্ত প্রভাব ফেলে। কয়েকটি প্রভাবশালী বার্তার কথা আমরা এখানে উল্লেখ করছি:

প্রথম বার্তা: ইয়েমেনি ক্ষেপণাস্ত্র নেতানিয়াহুর গর্ব চূর্ণ করে দিয়েছে; নেতানিয়াহু প্রতিরোধ শক্তির বিরুদ্ধে নিজেকে বিজয়ী হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছিলেন। অন্যদিকে, তেলআবিব দাবি করেছে যে হামাস একা হয়ে গেছে এবং তাদেরকে আলোচনার টেবিলে আনা যেতে পারে। ইহুদিবাদীরা যেসব সাফল্য অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে আলোচনার টেবিলে তাদের কাছ থেকে সেসব আদায় করে নেওয়া সম্ভব।

দ্বিতীয় বার্তা: ইয়েমেন তার সশস্ত্র বাহিনীর মাধ্যমে প্রমাণ করেছে যে তারা হাইপারসনিক মিসাইল দিয়ে যথাযথ টার্গেটে হামলা চালাতে সক্ষম। এমন এক সময় ইয়েমেন এই হামলা চালালো যখন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন যে ইসরাইলের অভ্যন্তরে আর কোনও বিপদঘণ্টা শোনা যাবে না।

তৃতীয় বার্তা: ইয়েমেনি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরাইলের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতা নতুন করে প্রমাণ করেছে। 'থাড' নামে পরিচিত ওই অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রকে বাধা দেওয়ার জন্যই তৈরি করা হয়েছিল।

চতুর্থ বার্তা: আগ্রাসন এবং অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ এবং গাজা উপত্যকার মজলুম জনগণকে সমর্থন করার ওপর জোর দেওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে ইয়েমেন এমন একটি প্রতিরোধী ব্যবস্থা যারা বিমান হামলা কিংবা হুমকিকে ভয় পায় না এবং শেষ পর্যন্ত গাজার প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখবে।

পঞ্চম বার্তা: আমেরিকাকে সুস্পষ্টভাবে এই বার্তাটি জানিয়ে দিচ্ছে যে এই ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমীকরণের ভাষা হল আগুনের ভাষা। ইয়েমেনে হামলা হলে কোনও রেডলাইন থাকবে না এবং আমেরিকার স্বার্থই হবে ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনীর বৈধ লক্ষ্যবস্তু।

ষষ্ঠ বার্তা: সপ্তাহজুড়ে এ ধরণের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ এবং তার পরে ইয়েমেনের অবস্থান প্রমাণ করে কোনোরকম সীমারেখা ছাড়াই ইসরাইলের সাথে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। এটি সেই বার্তা, ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ আন্দোলনের সরকারি মুখপাত্র যা স্পষ্টভাবে জোর দিয়ে বলেছিলেন। তিনি বলেছেন: আমরা ইসরাইলের অভ্যন্তরে সংবেদনশীল বিভিন্ন স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করছি। শত্রুদের আগ্রাসনের জবাবে আমাদের কোনও রেডলাইন নেই এবং কোনও নিয়মও মানা হবে না।

অন্যদিকে, এ অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতিতে সুস্পষ্ট বাস্তবতা হলো ইহুদিবাদী সেনাবাহিনীর প্রাক্তন মুখপাত্রের স্বীকারোক্তি। তিনি স্বীকার করেছিলেন এইসব ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করুক বা না করুক, তারা ইসরাইলকে পঙ্গু করে দেবে এবং লক্ষ লক্ষ ইসরাইলি অধিবাসীকে আশ্রয় শিবিরে লুকাতে বাধ্য করবে।

ইহুদিবাদী দৈনিক ইয়েদিউত অহরোনুতের রাজনৈতিক বিশ্লেষক রান বেন ইশাই'ও এ প্রসঙ্গে বলেছেন: ইয়েমেনকে মোকাবিলা করা খুবই কঠিন, বিশেষ করে ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে। তাছাড়া, গোয়েন্দা ও সামরিক বাহিনীর সীমাবদ্ধতা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন ধ্বংস করার জন্য দক্ষ ও সফল অভিযান পরিচালনা করার ক্ষেত্রে অক্ষমতাও অন্যতম কারণ। আরেকটি প্রধান সমস্যা হল, ইয়েমেনিরা আগ্রাসনের মোকাবেলায় রুখে দাঁড়ায়, কোন কিছুই তাদেরকে যুদ্ধের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।#

পার্সটুডে/এনএম/১

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।