ইয়েমেনি কার্টুনিস্ট কামাল শরাফ সম্পর্কে কিছু কথা
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i145770-ইয়েমেনি_কার্টুনিস্ট_কামাল_শরাফ_সম্পর্কে_কিছু_কথা
ইয়েমেনি কার্টুনিস্ট যিনি বিশ্বের বিখ্যাত কার্টুনিস্টদের একজন অধিকৃত ইসরাইলি ভূখন্ডে আল আকসা তুফান অভিযানের পর থেকে গত পনের মাসে ফিলিস্তিন এবং প্রতিরোধ ফ্রন্টের জন্য প্রায় ৫০০টি শিল্পকর্ম তৈরি করেছেন।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জানুয়ারি ০৯, ২০২৫ ১১:১৭ Asia/Dhaka
  • ইয়েমেনি কার্টুনিস্ট কামাল শরাফ সম্পর্কে কিছু কথা

ইয়েমেনি কার্টুনিস্ট যিনি বিশ্বের বিখ্যাত কার্টুনিস্টদের একজন অধিকৃত ইসরাইলি ভূখন্ডে আল আকসা তুফান অভিযানের পর থেকে গত পনের মাসে ফিলিস্তিন এবং প্রতিরোধ ফ্রন্টের জন্য প্রায় ৫০০টি শিল্পকর্ম তৈরি করেছেন।

৪৭ বছর বয়সী ইয়েমেনি কার্টুনিস্ট কামাল শরাফের কাজগুলো একটি বিশেষ রাজনৈতিক রঙ ধারণ করেছে এবং এতে ইসরাইল, আমেরিকা এবং এমনকি এ অঞ্চলের কিছু দেশে আমেরিকান ইসলামের নীতিগুলো প্রকাশ পেয়েছে। পার্সটুডের খবর অনুযায়ী অবশ্যই তাঁর রচনার বিষয়ভিত্তিক হাস্যরসের মূল অংশটি পশ্চিমা নীতি এবং আমেরিকান ইসলামের দ্বন্দ্ব আবিষ্কারের চেষ্টা করেছে।

কামাল শরাফের বেশিরভাগ কার্টুন চরিত্র-নির্ভর এবং এতে গল্প আছে। গল্পগুলো সহজ এবং প্রতীকী ভাষায় এমনভাবে লেখা হয়েছে  তা যেকোনো দর্শকের পক্ষেই তা অনুধাবন করা সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ তার কার্টুনে ইসরাইলি এবং আমেরিকান সৈন্যদের চোখ ঢেকে যুদ্ধের হেলমেট দিয়ে হালকা রঙ এবং পাথরের অভিব্যক্তি প্রকাশ করা হয়েছে যেন তারা রোবট ছাড়া আর কিছুই নয়।

অথবা আমরা কিছু আরব শাসক এবং শেখদেরকে আরব পোশাকে মোটা পেটের চরিত্রের আকারে দেখতে পাই যাদেরকে তেল এবং অর্থের ব্যারেলগুলোকে টেনে নিয়ে  যেতে দেখা যায়। 

তার রচনায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত প্রতীকগুলির মধ্যে একটি হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের চরিত্র এবং ইসরাইলি সৈন্যদের ট্যাঙ্ক এবং ইউনিফর্মে ইউএসএ অক্ষর দেখা যায়। তার কার্টুন অঙ্কনে যেখানেই আমেরিকার চিহ্ন থাকে সেখানে সাধারণত ইসরাইলের প্রতীকও থাকে এবং তিনি দুটিকে আলাদাভাবে দেখেন না।

রাজনৈতিক কার্টুনগুলোর একটি কাজ হল বাস্তবতার এমন একটি অংশ দেখানো যা বিশ্বের মানুষের চোখ থেকে আড়াল হয়ে গেছে অথবা মিডিয়ার প্রতারণা এবং বাস্তবতা থেকে মানুষের দূরত্বের কারণে উপেক্ষিত হয়ে আছে।

কামাল শরাফ তার কার্টুনে বাস্তবতার লুকানো অংশ দেখানোর চেষ্টা করেন। তার কাজে বস্তুগুলো কখনও কখনও জীবন্ত হয়ে ওঠে এবং সেগুলো চরিত্রে পরিণত হয়। শৈল্পিক কল্পনার ব্যবহার তার কাজগুলোকে ব্যঙ্গাত্মক এবং মজার করে তোলে। যেমন হিজবুল্লাহর মাথায় বাঁধা ক্ষেপণাস্ত্রের মতো অথবা ঘুমানোর মতো।

কামাল শরাফ যেকোনো অজুহাত বা উপলক্ষ্যকে কেন্দ্র করে দর্শকদের কাছে তার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন। বড়দিন এবং সান্তা ক্লজের চরিত্রকে সম্বোধন করা থেকে শুরু করে ইসরাইলি পণ্য বর্জন করা এবং এমনকি ত্রিভুজ এবং মাথার স্কার্ফের মতো ফিলিস্তিনি প্রতীক ব্যবহার করা পর্যন্ত সব কিছুই সাধারণ জনগণের দৃষ্টিতে আনার চেষ্টা করেন শারাফ।

কামাল শরাফ তার নিজের সংজ্ঞা অনুসারে তিনি নিপীড়িত ও নির্যাতিতদের একজন শিল্পী। তিনি কেবল অহংকারী ও বলদর্পীদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য এবং নিপীড়িতদের সাহায্য করার জন্য কার্টুন শিল্প ব্যবহার করেন।#

 

পার্সটুডে/এমবিএ/৯

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।