কায়রোতে ফিলিস্তিনি সংগঠনগুলোর বৈঠক: দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীকে গাজা ত্যাগ করতে হবে
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i153366-কায়রোতে_ফিলিস্তিনি_সংগঠনগুলোর_বৈঠক_দখলদার_ইসরায়েলি_বাহিনীকে_গাজা_ত্যাগ_করতে_হবে
পার্সটুডে- ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ সংগঠনগুলো গাজা পুনর্গঠন, যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন এবং দখলদার ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের ওপর জোর দিয়েছে।
(last modified 2026-02-17T13:30:44+00:00 )
অক্টোবর ২৫, ২০২৫ ১৫:১৭ Asia/Dhaka
  • কায়রোতে ফিলিস্তিনি সংগঠনগুলোর বৈঠক
    কায়রোতে ফিলিস্তিনি সংগঠনগুলোর বৈঠক

পার্সটুডে- ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ সংগঠনগুলো গাজা পুনর্গঠন, যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন এবং দখলদার ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের ওপর জোর দিয়েছে।

পার্সটুডে’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা মিশরের রাজধানী কায়রোতে দুই দিনব্যাপী বৈঠক শেষে (২৪ অক্টোবর, শুক্রবার) এক যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন। এই বৈঠকটি মিশর সরকারের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণে এবং প্রেসিডেন্ট আবদুল ফাত্তাহ আস-সিসির সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে নেতারা গাজায় যুদ্ধবিরতি পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন, দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার, অবরোধ তুলে নেওয়া এবং পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু করার আহ্বান জানান।

এছাড়া, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় ধাপের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয় এবং ফিলিস্তিনের জাতীয় ঐক্য ও রাজনৈতিক প্রকল্প সংরক্ষণের লক্ষ্যে একটি জাতীয় সংলাপ আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। সংগঠনগুলো একই সঙ্গে গাজা, পশ্চিম তীর ও বায়তুল মুকাদ্দাসে (জেরুজালেম) যেকোনো ধরনের দখল, সংযুক্তি পরিকল্পনা বা জোরপূর্বক স্থানান্তর পরিকল্পনার কঠোর নিন্দা জানায়।

প্রতিরোধ আন্দোলনের শর্ত: ইসরায়েলকেও প্রতিশ্রুতি মেনে চলতে হবে

ফিলিস্তিনের ইসলামি জিহাদ আন্দোলনের মহাসচিব জিয়াদ আন-নাখালা বলেছেন,

“গাজায় যুদ্ধবিরতি বজায় থাকবে কেবল তখনই, যখন দুই পক্ষ—ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল—তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করবে। ইসরায়েল যদি চুক্তি ভঙ্গ না করে, আমরাও যুদ্ধবিরতিতে অটল থাকব।”

হামাস: আমরা যুদ্ধবিরতিতে অটল

ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোরন হামাসের মুখপাত্র হাযেম কাসেম বলেছেন, “আমরা মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টায় অর্জিত যুদ্ধবিরতির প্রতিটি ধাপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা দখলদার ইসরায়েলকে আহ্বান জানাই তারা যেন তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে বিশেষকরে বিমান হামলা বন্ধ, অবরোধ প্রত্যাহার এবং মানবিক সহায়তার প্রবেশের বিষয়টি যেন নিশ্চিত করা হয়।”

তিনি আরও জানান, হামাস একটি সর্বজনীন ফিলিস্তিনি ঐক্যমত্য অর্জনে আগ্রহী, যা যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার শাসন কাঠামো নির্ধারণের পাশাপাশি অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধানে ভূমিকা রাখবে।

হামাস: পুনর্গঠনের খরচ দেবে ইসরায়েল

হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মুসা আবু মারযুক বলেন, “গাজার ধ্বংসযজ্ঞের দায় দখলদার ইসরায়েলের। তাই তাদেরই এই পুনর্গঠনের পূর্ণ খরচ বহন করতে হবে।” তিনি স্পুটনিক-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “গাজা পুনর্গঠন শুধু জরুরি নয়, বরং এটি বিশ লাখেরও বেশি মানুষের অধিকার, যারা তাদের ঘর, আশ্রয় এবং জীবিকা হারিয়েছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবেও গাজা পুনর্গঠনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। যেহেতু ধ্বংসের দায় ইসরায়েলের, তাই পুনর্গঠনের ব্যয় তাদেরই বহন করতে হবে।”

ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ: ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি মানছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করছি

ইয়েমেনের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ আলী আল-হুথি বলেছেন, “ইসরায়েল গাজা যুদ্ধবিরতি কতটা মানছে তা ইয়েমেন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। আমাদের বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে আছে, যাতে ইসরায়েলের যেকোনো উসকানি বা রেড লাইন অতিক্রমের জবাব দেওয়া যায়।”

আনসারুল্লাহ আন্দোলনের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-বুখাইতি এর আগেই ঘোষণা দিয়েছেন, “সব পরিস্থিতিতে ইয়েমেন গাজার পাশে থাকবে।”#

পার্সটুডে/এসএ/২৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।