ইসরায়েলের জন্য নয়া হুমকি; বয়কটের পরিকল্পনা করছে ইহুদিদেরই হারেদি সম্প্রদায়
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i153894-ইসরায়েলের_জন্য_নয়া_হুমকি_বয়কটের_পরিকল্পনা_করছে_ইহুদিদেরই_হারেদি_সম্প্রদায়
পার্সটুডে- ইহুদিবাদী ইসরায়েলের অতি রক্ষণশীল ইহুদি (আলট্রা–অর্থোডক্স) বা হারেদি নেতারা সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক যোগদানের আইনের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদের অংশ হিসেবে প্রধান কিছু কোম্পানিকে বয়কট করার বিষয়টি বিবেচনা করছেন।
(last modified 2026-01-18T14:26:52+00:00 )
নভেম্বর ১০, ২০২৫ ১৯:৫৪ Asia/Dhaka
  • ইসরায়েলের জন্য নয়া হুমকি; নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছে ইহুদিদেরই হারেদি সম্প্রদায়
    ইসরায়েলের জন্য নয়া হুমকি; নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছে ইহুদিদেরই হারেদি সম্প্রদায়

পার্সটুডে- ইহুদিবাদী ইসরায়েলের অতি রক্ষণশীল ইহুদি (আলট্রা–অর্থোডক্স) বা হারেদি নেতারা সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক যোগদানের আইনের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদের অংশ হিসেবে প্রধান কিছু কোম্পানিকে বয়কট করার বিষয়টি বিবেচনা করছেন।

ইসরায়েলি টেলিভিশন চ্যানেল ১৩ জানিয়েছে, হারেদি নেতারা বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা এবং তাদের সম্প্রদায়ের সদস্যদের সেনাবাহিনীতে পাঠানোর জন্য গ্রেফতারের প্রতিবাদে বড় বড় ইসরায়েলি কোম্পানির পণ্য বয়কটের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, যা ইসরায়েলি অর্থনীতিতে বড় ধরনের আঘাত হানতে পারে।

পার্সটুডে জানিয়েছে, হারেদি সম্প্রদায়ের শীর্ষস্থানীয় র‍্যাবাইরা এবং তওরাত পরিষদের সদস্যরা এক মাসের জন্য তাদের অনুসারীদেরকে ‘স্ট্রাউস’, ‘তেনুভা’ ও ‘ওসেম’-এর মতো বৃহৎ খাদ্য ও দুগ্ধজাত পণ্যের কোম্পানির পণ্য ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে পারেন।

ইহুদি আদালতের একজন কর্মকর্তা চ্যানেল থার্টিন-কে বলেছেন, “হারেদি জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ। আমরা চাইলে বড় বড় কোম্পানিকে অর্থনৈতিকভাবে বড় ক্ষতির মুখে ফেলতে পারি এবং এতে সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে চাপের মুখে পড়তে হবে। সেনাবাহিনীতে পাঠানোর জন্য হারেদি সদস্যদের বিরুদ্ধে গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত  থাকলে আমরা নিশ্চুপ থাকব না।”

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এমন পদক্ষেপ ইসরায়েলি অর্থনীতিতে ক্ষতি ডেকে আনবে, তবে ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এখনও পরিষ্কার নয়।

এর আগে ২০২৩ সালে হারেদিরা ‘অ্যাঞ্জেল’ নামের একটি বেকারি কোম্পানিকে বয়কট করেছিল, কারণ ওই কোম্পানির প্রতিনিধি হারেদিদের সেনাবাহিনীতে পাঠানোর দাবিতে অনুষ্ঠিত এক বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। বয়কটের পর কোম্পানিটি হারেদিদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চায়।

চ্যানেল ১৩-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হারেদি নেতাদের বয়কট পরিকল্পনা থেকে বিরত রাখার একমাত্র উপায় হলো তাদের বিশেষ সুবিধায় রাখার খসড়া আইন উপস্থাপন করা, যা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বর্তমান সরকার গঠনের আগে তাদের অনুমোদনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

এদিকে হারেদিরা প্রতি বৃহস্পতিবার তেলআবিব ও জেরুজালেমে বড় বিক্ষোভ করছে, যাতে সংসদ (নেসেট)-এর ওপর চাপ সৃষ্টি করা যায়। তারা নেতানিয়াহুকে এই বলে সতর্ক করেছে যে, যদি তাদের ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি না দেওয়া হয়, তবে তারা তার জোট সরকার ভেঙে দিতে পারে।

এর আগে হারেদি নেতা র‍্যাবাই মোশে হির্শ সতর্ক করে বলেছিলেন, সরকার যদি অব্যাহতি আইন পাস না করে, তবে নেসেট ভেঙে দেওয়া ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না।

হারেদিদেরকে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার আওতায় আনার ইস্যুটি এখন ইসরায়েলি রাজনীতির অন্যতম বড় সংকটে পরিণত হয়েছে। হারেদিরা দাবি করছে, ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের যুদ্ধ ও সেনাসেবার বাধ্যবাধকতা থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি দিতে হবে। কিন্তু বহু ইসরায়েলি বিশেষ করে বিরোধী দলগুলো বলছে, সামরিক সেবায় সবাইকে সমানভাবে অংশ নিতে হবে। এর পাশাপাশি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীও মানবসম্পদের তীব্র ঘাটতিতে ভুগছে।

শনিবার রাতে বিরোধী দলগুলোর নেতারা বৈঠকে ঘোষণা এই দেন যে, তারা সেনাসেবা থেকে হারেদিদের অব্যাহতি দেওয়ার আইন পাস ঠেকাতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবেন এবং এমন আইন পাসে বাধা দিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন।

পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, হারেদি ইস্যুতে ইসরায়েলি সমাজ নতুন এক রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।#

পার্সটুডে/এসএ/১০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।