ইসরায়েল ইরানকে দুর্বল করতে ব্যর্থ হয়েছে: আল জাজিরার প্রতিবেদন
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i155388-ইসরায়েল_ইরানকে_দুর্বল_করতে_ব্যর্থ_হয়েছে_আল_জাজিরার_প্রতিবেদন
পার্সটুডে- আল জাজিরার গবেষণা কেন্দ্র ঘোষণা করেছে যে একসাথে বেশ কয়েকটি সামরিক ফ্রন্ট খোলা সত্ত্বেও, ইহুদিবাদী ইসরায়েল শুধু যে টেকসই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে তাই নয়, একইসাথে ইরানকে একটি আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে দুর্বল করার মূল লক্ষ্য অর্জনেও ব্যর্থ হয়েছে এবং আগের চেয়ে আরো বেশি রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পথে রয়েছে।
(last modified 2026-03-08T13:29:51+00:00 )
ডিসেম্বর ২৩, ২০২৫ ১৭:৪৫ Asia/Dhaka
  • • ইরানের প্রতিরক্ষামূলক শক্তি প্রদর্শন
    • ইরানের প্রতিরক্ষামূলক শক্তি প্রদর্শন

পার্সটুডে- আল জাজিরার গবেষণা কেন্দ্র ঘোষণা করেছে যে একসাথে বেশ কয়েকটি সামরিক ফ্রন্ট খোলা সত্ত্বেও, ইহুদিবাদী ইসরায়েল শুধু যে টেকসই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে তাই নয়, একইসাথে ইরানকে একটি আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে দুর্বল করার মূল লক্ষ্য অর্জনেও ব্যর্থ হয়েছে এবং আগের চেয়ে আরো বেশি রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পথে রয়েছে।

পার্সটুডে জানিয়েছে, আল জাজিরা গবেষণা কেন্দ্র ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর যুদ্ধের পরিণতি বা ফলাফল পরীক্ষা করে এক বিশ্লেষণে লিখেছে: "অপারেশন "আল-আকসা স্টর্ম"-এর পর, ইসরায়েল গাজা থেকে লেবানন, ইয়েমেন, সিরিয়া এমনকি ইরানেও যুদ্ধের পরিধি প্রসারিত করে আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্যকে নিজের পক্ষে পুনর্বিন্যাস করার চেষ্টা করেছিল; এই প্রচেষ্টাকে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু "নয়া মধ্যপ্রাচ্য" বলে অভিহিত করেছিলেন; তবে, তেল আবিবের অর্জনগুলি তার শত্রুদের সাময়িকভাবে দুর্বল করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে এবং টেকসই কৌশলগত সুবিধা অর্জন করতে পারেনি।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে: "গাজা যুদ্ধ শুধু যে ইসরায়েলের প্রতিরোধ ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়েছে তাই নয় একইসাথে তাদের ব্যাপক নিরাপত্তা দুর্বলতাও প্রকাশ করেছে। ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এবং মানবিক বিপর্যয় সত্ত্বেও, ইসরায়েল হামাসকে সম্পূর্ণরূপে পরাজিত করতে বা গাজা উপত্যকার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়নি বরং ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ শক্তিই সমীকরণের প্রধান খেলোয়াড় ছিল।"

আল জাজিরা অন্যান্য যুদ্ধ ফ্রন্টের কথা উল্লেখ করে লিখেছে: লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ যদিও ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, কিন্তু তারপরও তারা পুনর্গঠন, তাদের সামাজিক ভিত্তি এবং আঞ্চলিক ভূমিকা পালন চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা বজায় রেখেছে। এই পরিস্থিতি থেকে বোঝা যায় যে সর্বাধিক সামরিক চাপ প্রয়োগ করেও ইসরায়ের তার ইচ্ছা অনুযায়ী প্রতিরোধ শক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি।

এই প্রতিবেদনের একটি অংশে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, ইসরায়েল ইরানকে আঘাত করার জন্য যুদ্ধ কৌশল ব্যবহার করেছিল, কিন্তু ২০২৫ সালে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ আক্রমণ সত্ত্বেও, ইরান তার কৌশলগত জ্ঞান, মূল ক্ষমতা এবং আঞ্চলিক অবস্থান বজায় রাখতে সক্ষম হয়। আল জাজিরার মতে, যদিও এই সংঘর্ষে ইরানের কিছু দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে কিন্তু, এর ফলে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য থেকে ইরান ছিটকে পড়েনি।

উপসংহারে, আল জাজিরা বলেছে যে যুদ্ধের চূড়ান্ত ফলাফল হল ইসরায়েল আরো বেশি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, আরব দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়া বন্ধ আছে একটি নতুন স্থিতিশীল শৃঙ্খলাবস্থা এখনও তৈরি হয়নি। #

পার্সটুডে/এমআরএইচ/২৩

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন