২০০৬ সালের যুদ্ধে হিজবুল্লাহ কীভাবে মারকাভা ট্যাংকের মোকাবিলা করেছিল?
-
মারকাভা ট্যাংক
২০০৬ সালের গ্রীষ্মে ৩৩ দিনব্যাপী যুদ্ধে ইহুদিবাদী ইসরায়েল ও লেবাননের হিজবুল্লাহ মুখোমুখি হয়। এই যুদ্ধ ছিল ইসরায়েলের সবচেয়ে আধুনিক ট্যাংক 'মারকাভা'র জন্য একটি বড় পরীক্ষা।
ইসরায়েল মারকাভা ট্যাংকের বিভিন্ন মডেল (মার্ক–২, ৩ ও ৪) যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করেছিল এবং ধারণা করা হচ্ছিল যে, হিজবুল্লাহর গেরিলা যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে এগুলো সহজেই আধিপত্য দেখাবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি।
হিজবুল্লাহ খুব বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে যুদ্ধ করে। তারা পাহাড়ি এলাকা ও গ্রামগুলোতে সুড়ঙ্গ, বাংকার ও গোপন অবস্থান তৈরি করেছিল। এখান থেকে তারা হঠাৎ আক্রমণ চালিয়ে আবার দ্রুত অবস্থান বদলে ফেলত, ফলে ইসরায়েলি ট্যাংকগুলো তাদের অবস্থান চিহ্নিত করতে পারত না।
হিজবুল্লাহর বড় সাফল্যের একটি কারণ ছিল আধুনিক অ্যান্টি-ট্যাংক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার। তারা রাশিয়া ও ইরানে তৈরি শক্তিশালী অস্ত্র ব্যবহার করেছিল, যেমন:
আরপিজি-২৯ (ভ্যাম্পায়ার), এটি-৫ কনকোর্স, এটি-১৩ মেটিস-এম, এটি-১৪ করনেট আর ইরানি তুফান ক্ষেপণাস্ত্র।
এই অস্ত্রগুলোতে ছিল ট্যান্ডেম ওয়ারহেড, যা ট্যাংকের প্রতিরক্ষামূলক বর্ম ভেদ করতে সক্ষম। বিশেষ করে মারকাভা ট্যাংকের পাশ ও পেছনের অংশ তুলনামূলক দুর্বল ছিল, আর হিজবুল্লাহ ঠিক সেখানেই আঘাত হানে।
যুদ্ধে প্রায় ৫০টি মারকাভা ট্যাংক লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এর মধ্যে:
প্রায় ২০টি ট্যাংক গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ৫টি ট্যাংক সম্পূর্ণ ধ্বংস হয় এবং কয়েকজন ট্যাংকচালক নিহত হয়। এছাড়া হিজবুল্লাহ শক্তিশালী মাইন ও রাস্তার পাশে পুঁতে রাখা বোমা ব্যবহার করে। কিছু ক্ষেত্রে এসব বিস্ফোরণে মারকাভা ট্যাংক পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়।
এই যুদ্ধ দেখিয়েছে, শুধু আধুনিক প্রযুক্তি থাকলেই জয় নিশ্চিত হয় না। হিজবুল্লাহ তুলনামূলকভাবে কম খরচের অস্ত্র এবং গেরিলা কৌশল ব্যবহার করে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে বড় ধাক্কা দেয়।
যুদ্ধের পর ইসরায়েল বাধ্য হয় তাদের ট্যাংকে “ট্রফি” নামের সক্রিয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যোগ করতে, যা আসা ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে পারে।
সবচেয়ে বড় শিক্ষা ছিল—
- কোনো ট্যাংকই অজেয় নয়
- ট্যাংক যদি পদাতিক সেনা ও বিমান সহায়তা ছাড়া এগোয়, তাহলে তা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ
২০০৬ সালের লেবানন যুদ্ধ আধুনিক যুদ্ধের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। এটি প্রমাণ করে যে সঠিক কৌশল, পরিবেশের ব্যবহার এবং আধুনিক অ্যান্টি-ট্যাংক অস্ত্র থাকলে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ট্যাংককেও পরাস্ত করা সম্ভব।#
পার্সটুডে/এমএআর/৫