সিরিয়ায় ইসরায়েলের চূড়ান্ত লক্ষ্য কী?
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i156856-সিরিয়ায়_ইসরায়েলের_চূড়ান্ত_লক্ষ্য_কী
পার্সটুডে- দক্ষিণ সিরিয়ার কুনেইত্রায় কৃষি জমিতে কামান হামলা চালানোর মাধ্যমে আবারও ইহুদিবাদী ইসরায়েল সীমান্ত আগ্রাসন চালিয়েছে।
(last modified 2026-02-09T14:47:21+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৬ ১৬:০৯ Asia/Dhaka
  • • সিরিয়ার সুইদা শহরে ইসরায়েলিদের উপস্থিতি
    • সিরিয়ার সুইদা শহরে ইসরায়েলিদের উপস্থিতি

পার্সটুডে- দক্ষিণ সিরিয়ার কুনেইত্রায় কৃষি জমিতে কামান হামলা চালানোর মাধ্যমে আবারও ইহুদিবাদী ইসরায়েল সীমান্ত আগ্রাসন চালিয়েছে।

রবিবার, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দক্ষিণ সিরিয়ার কুনেইত্রার উপকণ্ঠে কৃষি জমিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। আল-আরাবি আল-জাদীদ ওয়েবসাইটের উদ্ধৃতি দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, দক্ষিণ সিরিয়ার কুনেইত্রা এবং দারা প্রদেশের মধ্যে অবস্থিত ট্রায়াঙ্গেল অফ ডেথ এলাকায় ইসরায়েলি কামান হামলার কারণে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কুনেইত্রার উত্তর উপকণ্ঠে জাবাতা আল-খাশাব শহর এবং ওফানিয়া গ্রামে ইহুদিবাদী সেনাবাহিনী অভিযান চালানোর এক সপ্তাহ পর এই হামলা চালানো হয়।

মার্কিন তত্ত্বাবধানে সিরিয়ার জোলানি সরকারের কর্মকর্তাদের এবং ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মধ্যে গোপন আলোচনার খবরের একইসাথে এই অভিযান চালানো হচ্ছে। তেল আবিবের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, দামেস্ককে চাপ দেওয়ার এবং দক্ষিণ সিরিয়ার নিরাপত্তা সমীকরণ পরিবর্তন করার জন্য কি গোলাবর্ষণ এবং আলোচনা দুটি পরিপূরক হাতিয়ার?

এই প্রসঙ্গে, আরব লেখক এবং গবেষক মুহাব আল-রিফাই তার এক নিবন্ধে, "যৌথ সমন্বয় ব্যবস্থা" নামক একটি প্রক্রিয়ার আওতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে জোলানি সরকার ও ইসরায়েলের মধ্যে আলোচনা এবং দামেস্ক সরকারের সাথে একটি নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য তেল আবিবের প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে জোর বলেছেন, যে সিরিয়ার শাসকের এই পদক্ষেপ এই দেশের জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে এবং জনগণ স্পষ্টতই ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিরোধী।

২০২৫ সালের আগস্টে, আরব সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড পলিটিক্যাল স্টাডিজ সিরিয়ার জনমতের উপর একটি জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যা স্পষ্টভাবে দেখায় যে ৭৪ শতাংশ সিরিয়ান ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়ার বিরোধী। এই বিরোধিতা কোনও প্রতীকী অবস্থান বা জাতীয়তাবাদী স্লোগানের উপর ভিত্তি করে নয়, বরং ইসরায়েলের একটি জটিল সংজ্ঞার উপর ভিত্তি করে যার একটি উপনিবেশবাদী এবং দখলদার শাসনব্যবস্থা যা অবৈধ বসতি স্থাপন করে এবং সিরিয়ার গোলান মালভূমি দখল করে, এবং একটি সম্প্রসারণবাদী শক্তি যা আধিপত্য এবং আরব সমাজের বিভাজন চায়।

আল-রিফাই আরও বলেন: “এই তথ্য থেকে বোঝা যায় যে সিরিয়ার জনগণের চোখে ইসরায়েল একটি প্রকাশ্য শত্রু এবং সিরিয়ার জনগণের সচেতনতায় ইসরায়েল এমন এক আগ্রাসি শক্তি যারা বোমা হামলা এবং হত্যা থেকে শুরু করে বিচ্ছিন্নতাবাদীতে ইন্ধন জোগানো পর্যন্ত বিভিন্ন উপায় এবং পদ্ধতি ব্যবহার করে সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে, যার অর্থ হল ইসরায়েলি হুমকি কেবল সীমান্ত হুমকি নয়, বরং রাষ্ট্র ও সমাজের স্থিতিশীলতার জন্যও হুমকি।” ইসরায়েলের টার্গেট হল সুইদা শহরের সিরিয়ান দ্রুজ সম্প্রদায়ের হৃদয় কাড়া। ইউরোনিউজ একটি প্রতিবেদনে লিখেছে: গত গ্রীষ্মে সংঘর্ষের পর সুইদা শহর কার্যকরভাবে দামেস্কের শাসন থেকে নিজেকে আলাদা করে ফেলেছে। সেই সংঘর্ষগুলিতে, ইসরায়েল জোলানি সরকারের বাহিনীকে আক্রমণ করে নিজেকে দ্রুজের সমর্থক হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়। ইউরোনিউজ লিখেছে যে আজ, সুইদার রাস্তায় ইসরায়েলি পতাকা দেখা যাচ্ছে এবং ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ একজন ব্যক্তিত্বের নেতৃত্বে "উচ্চ আইনি কমিটি" এবং এর সামরিক শাখা শহরের দায়িত্বে রয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে, ইসরায়েল সিরিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছে এবং দ্রুজ স্বায়ত্তশাসনের স্বপ্নকে সিরিয়ার সরকারকে দুর্বল করার একটি হাতিয়ারে পরিণত করেছে, যার ফলে সিরিয়ার সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মধ্যে অবিশ্বাস আরও গভীর হয়েছে।

ইউরোনিউজ লিখেছে: দক্ষিণ সিরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি খুবই নাজুক। সুইদা একটি আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হিসেবে পরিচালিত হয় যার বৈধতা দামেস্ক দ্বারা স্বীকৃত নয়। সিরিয়ার দক্ষিণ সীমান্তে ঘন ঘন ইসরায়েলি সামরিক আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে এবং জোলানি সরকার সুইদার হারানো শান্তি ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়েছে।
সিরিয়ার কিছু অংশে ইসরায়েলের উপস্থিতির ফলে একটি গভীর অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে যা দেশের ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতাকে বিপন্ন করবে। #

পার্সটুডে/এমআরএইচ/৯

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।