ইরান সৌদি আরবকে জানিয়ে দিয়েছে এবার ‘সংযুক্ত আরব আমিরাতে কঠিন আঘাত হানা হবে’
-
ইরানের ঘোষণা ‘সংযুক্ত আরব আমিরাতে কঠিন আঘাত হানা হবে’
পার্সটুডে- বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদন অনুসারে, তেহরান সৌদি আরব ও ওমানকে জানিয়েছে যে, ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধের জবাবে তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ‘কঠোরভাবে লক্ষ্যবস্তু’ করার পরিকল্পনা করছে। এই পদক্ষেপের ফলে দৃশ্যত আবুধাবি এবং তার পারস্য উপসাগরীয় আরব প্রতিবেশীদের মধ্যে বিভেদ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কেননা, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং তার পারস্য উপসাগরীয় প্রতিবেশী, বিশেষ করে সৌদি আরবের মধ্যে উত্তেজনা বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে এবং এই উত্তেজনা চাপা রয়েছে।
মিডল ইস্ট আই-এর মতে, এই মাসে ওপেক থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেরিয়ে যাওয়া এই ইঙ্গিত দেয় যে, ইরানের সাথে যুদ্ধ রিয়াদ ও আবুধাবিকে একত্রিত করার পরিবর্তে তাদের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলবে।
ইরানি কর্মকর্তারা তাদের সৌদি প্রতিপক্ষের সাথে আলাপকালে আবুধাবির সাথে রিয়াদের বিরোধের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, তারা আমিরাতিদের গুঁড়িয়ে দিতে চান। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়নি দুদেশের এই আলাপ বা কথোপকথনটি কখন হয়েছিল।
ইরানের প্রতি সৌদি আরবের ক্ষোভ থাকা সত্ত্বেও, দুই দেশ তাদের সংলাপ বজায় রেখেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি গত মাসে তার সৌদি প্রতিপক্ষ প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের সাথে কথা বলেছেন।
ইরানের সতর্কবার্তাগুলো থেকে বোঝা যায় যে, দেশটি পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (পিজিসিসি) অভ্যন্তরীণ বিভাজন সম্পর্কে অবগত এবং মার্কিন মিত্র হিসাবে পরিচিতি আরব রাজতান্ত্রিক সরকারগুলোকে আরও বিচ্ছিন্ন করার মধ্যে একটি কৌশলগত স্বার্থ দেখছে তেহরান।
সৌদি আরব এই অঞ্চলের বৃহত্তম রাষ্ট্র এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতোই, দেশটির সীমানার বাইরে শক্তি প্রদর্শনের আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, ইরানের সাথে যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঠিক আগে সৌদি আরব ইয়েমেনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অনুগত বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়েছিল। সুদানের গৃহযুদ্ধেও দেশ দুটি একে অপরের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং পরস্পরবিরোধী পক্ষকে সমর্থন করছে।
যুদ্ধ চলাকালীন কোনো দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে কৌশল অবলম্বন করা বন্ধ করেনি। মিডল ইস্ট আই-এর একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে, সৌদি আরবের অর্থায়নে পাকিস্তান থেকে পূর্ব লিবিয়ার খলিফা হাফতারের জন্য অস্ত্রের চালান মার্চ মাস থেকে শুরু হয়েছে- এই সেনাবাহিনীকে রিয়াদ সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছে।#
পার্সটুডে/এমআরএইচ/৩
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন