হিজবুল্লাহর আগাম কৌশল: নেতানিয়াহু যা ইসরায়েলি জনগণের কাছ থেকে গোপন করছেন
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i162826-হিজবুল্লাহর_আগাম_কৌশল_নেতানিয়াহু_যা_ইসরায়েলি_জনগণের_কাছ_থেকে_গোপন_করছেন
পার্সটুডে- ইসরায়েল আলি আল-তাহিরকে ‘বিজয়’-এর প্রতীক হিসেবে তুলে ধরছে। কিন্তু যদি ওই এলাকা আগে থেকেই খালি করে দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি হিজবুল্লাহর পরাজয় নয়; বরং এটি যুদ্ধের দুটি ভিন্ন কৌশলের পার্থক্যের একটি স্পষ্ট উদাহরণ।
(last modified 2026-09-06T10:57:52+00:00 )
সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬ ১০:৪৮ Asia/Dhaka
  • দক্ষিণ লেবাননের ‘আলি আল-তাহির’ পাহাড়
    দক্ষিণ লেবাননের ‘আলি আল-তাহির’ পাহাড়

পার্সটুডে- ইসরায়েল আলি আল-তাহিরকে ‘বিজয়’-এর প্রতীক হিসেবে তুলে ধরছে। কিন্তু যদি ওই এলাকা আগে থেকেই খালি করে দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি হিজবুল্লাহর পরাজয় নয়; বরং এটি যুদ্ধের দুটি ভিন্ন কৌশলের পার্থক্যের একটি স্পষ্ট উদাহরণ।

যুদ্ধে সব সময় কয়েক মিটার বেশি ভূমি দখল করে থাকা পক্ষই বিজয়ী হয় না। অনেক সময় একটি উচ্চভূমি কে দখল করেছে তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—সেখানে কী অবশিষ্ট রয়েছে এবং শত্রু সেখানে পৌঁছাতে কী মূল্য দিয়েছে।

আলি আল-তাহিরের ঘটনাটি ঠিক এই দৃষ্টিকোণ থেকেই গুরুত্বপূর্ণ।

পার্সটুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে উপস্থাপিত বর্ণনা অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনী প্রবেশের আগেই ওই এলাকা খালি করে দেওয়া হয়েছিল এবং প্রতিরোধ যোদ্ধাদের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সরঞ্জামও সেখানে রাখা হয়নি। এই বক্তব্যকে বিশ্লেষণের ভিত্তি হিসেবে ধরলে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী যে এলাকা দখল করেছে, সেটি হিজবুল্লাহর কোনো গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল কেন্দ্র বা নির্ধারক অবকাঠামো নাও হতে পারে। বরং এটি এমন একটি ভৌগোলিক অবস্থান, যেটি রক্ষার জন্য হিজবুল্লাহ একটি প্রচলিত যুদ্ধের মধ্যে জড়িয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি।

এখানেই ইসরায়েলি গণমাধ্যমের অনেক বর্ণনায় একটি মৌলিক ভুল দেখা যায়: তারা হিজবুল্লাহকে একটি প্রচলিত সেনাবাহিনীর মতো করে মূল্যায়ন করে।

একটি প্রচলিত সেনাবাহিনীর সাধারণত নির্দিষ্ট যুদ্ধরেখা, সীমান্ত ও স্থায়ী অবস্থান থাকে। কোনো উচ্চভূমি হারানো কিংবা কোনো যুদ্ধপথ থেকে পিছিয়ে যাওয়া সেই অংশে সরাসরি পরাজয়ের অর্থ হতে পারে। কিন্তু হিজবুল্লাহর মতো একটি সংগঠন মূলত এমন কাঠামোর ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়।

অসম যুদ্ধের ক্ষেত্রে ভূখণ্ড গুরুত্বপূর্ণ হলেও ‘যেকোনো মূল্যে ভূখণ্ড ধরে রাখা’ সব সময় প্রথম অগ্রাধিকার নয়।

এ ধরনের একটি বাহিনীর জন্য বরং গুরুত্বপূর্ণ হলো—শত্রু কোথায় থামছে, কোথায় সে দুর্বল হয়ে পড়ছে, কতসংখ্যক সেনা একটি এলাকায় প্রবেশ করছে এবং নতুন অবস্থান ধরে রাখতে তাকে কী পরিমাণ মূল্য দিতে হচ্ছে।

সহজ ভাষায়, হিজবুল্লাহর প্রশ্নটি সব সময় এমন নয় যে, ‘কীভাবে এই পাহাড়টি চিরদিন ধরে রাখা যায়?’

বরং প্রশ্নটি হতে পারে, ‘এই পাহাড়ে শত্রুর উপস্থিতিকে কীভাবে তার জন্য ব্যয়বহুল করে তোলা যায়?’

এই পার্থক্যই যুদ্ধক্ষেত্রের পুরো অর্থ বদলে দেয়।

একটি প্রচলিত সেনাবাহিনী পশ্চাদপসরণকে উদ্যোগ হারানোর লক্ষণ হিসেবে দেখতে পারে। কিন্তু গেরিলা ও অসম যুদ্ধে পশ্চাদপসরণ নিজেই সামরিক অভিযানের একটি অংশ হতে পারে। প্রতিরক্ষাকারী বাহিনী কোনো এলাকা খালি করে নিজেদের মূল শক্তি সংরক্ষণ করতে পারে, শত্রুকে সামনে এগিয়ে আসতে দিতে পারে এবং এরপর সংঘর্ষের সময় ও স্থান নিজেরাই নির্ধারণ করতে পারে।

তাই ইসরায়েলি সেনাবাহিনী যদি আজ আলি আল-তাহিরের কোনো অংশে অবস্থান নিয়েও থাকে, তবু মূল প্রশ্নটি এখনো অনুত্তরিত: এরপর কী?

ওই এলাকায় উপস্থিতি কি হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করেছে?

প্রতিরোধের কমান্ড কাঠামো বা কৌশলগত সরঞ্জাম কি ধ্বংস হয়েছে?

নাকি ইসরায়েল এমন একটি এলাকায় প্রবেশ করেছে, যেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল সক্ষমতার একটি অংশ আগেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল?

শেষ প্রশ্নটির উত্তর যদি ‘হ্যাঁ’ হয়, তাহলে বাস্তব সামরিক পরিস্থিতি এবং ইসরায়েলের প্রচারিত চিত্রের মধ্যে ব্যবধান অনেক বড়।

এখানেই বিষয়টির সঙ্গে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও যুক্ত হয়ে যায়।

ইসরায়েলে আগামী ২৭ অক্টোবর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং নেতানিয়াহু আবারও নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ টিকিয়ে রাখার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতায় নামছেন। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোতেও দেখা যাচ্ছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং তার সরকারের যুদ্ধ পরিচালনার রেকর্ড নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে।

এমন পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহুর আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রয়োজন একটি ‘সাফল্যের চিত্র’।

তার এমন একটি মানচিত্র দরকার, যেখানে নতুন কোনো এলাকা ভিন্ন রঙে চিহ্নিত থাকবে; এমন ছবি দরকার, যেখানে ইসরায়েলি সেনারা কোনো উচ্চভূমির ওপর দাঁড়িয়ে আছে; এবং এমন শিরোনাম দরকার, যা দেশের অভ্যন্তরীণ দর্শকদের বোঝাতে পারে—ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এগিয়ে যাচ্ছে এবং হিজবুল্লাহ পিছিয়ে পড়ছে।

এমনকি সীমিত একটি কৌশলগত সাফল্যও নির্বাচনী প্রচারণার যন্ত্রে ‘কৌশলগত বিজয়’ হিসেবে উপস্থাপিত হতে পারে। কিন্তু নেতানিয়াহুর সমস্যা হলো—বাস্তব যুদ্ধ নির্বাচনী ছবির মাধ্যমে শেষ হয় না।

যদি হিজবুল্লাহ তার মূল সক্ষমতার একটি বড় অংশ ওই এলাকা থেকে সরিয়ে নিয়ে থাকে, যদি তার যুদ্ধ কাঠামো অক্ষত থাকে এবং নতুন এলাকায় প্রবেশের পরও ইসরায়েলি বাহিনীকে সেখানে অবস্থান বজায় রাখার জন্য মূল্য দিতে হয়, তাহলে একটি উচ্চভূমি দখল করা গল্পের সমাপ্তি নয়; বরং এটি পরবর্তী অধ্যায়ের শুরু।#

পার্সটুডে/এমআরএইচ/৬

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।