ইয়েমেনের ধারাবাহিক হামলা
রিয়াদের আকাশ ফাঁকা, ফ্লাইট বাতিলের হার ৭৮ শতাংশ পর্যন্ত
-
রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলা (ফাইল ফটো)
ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ নেতৃত্বাধীন সশস্ত্র বাহিনীর ধারাবাহিক হামলার পর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান চলাচল বন্ধ রাখার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি যাচাই করে পুনরায় ফ্লাইট চালুর প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এদিকে হামলার প্রভাবে রিয়াদগামী ও রিয়াদ থেকে ছেড়ে যাওয়া অধিকাংশ ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় সৌদি আরবের আকাশপথে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন (জিএসিএ) আজ (সোমবার) বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখার মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থাপনা নিরাপদ আছে কি না, তা পরীক্ষা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিমান চলাচল পুনরায় শুরুর জন্য বিমানবন্দর কতটা প্রস্তুত, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে এ পরীক্ষা চলছে। তবে বিমানবন্দর কবে আবার চালু হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।
রোববারও কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা হয়। জিএসিএ'র হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় সৌদি আরবে বসবাসরত এক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হন এবং আহত হন আরও ১১ জন। আহত ব্যক্তিদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিমানবন্দরের ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনা শুরু করে কর্তৃপক্ষ।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার একটি অজ্ঞাত প্রজেক্টাইল বিমানবন্দরের টার্মিনাল–৪-এ আঘাত হানে। এ ছাড়া বিমানবন্দরের কাছে একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করে সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা।
এর আগের দিন শনিবারও বিমানবন্দরটিতে হামলা হয়েছিল। জিএসিএ'র তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় প্রথমে ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। পরে আল–আরাবিয়া জানায়, আহত এক ভারতীয় নাগরিক মারা গেছেন। সৌদি আরবে ভারতীয় দূতাবাসও তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। এতে শনিবারের হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে দাঁড়িয়েছে। আনসারুল্লাহ বাহিনী ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে।
রিয়াদের অধিকাংশ ফ্লাইট বাতিল
হামলার প্রভাব পড়েছে রিয়াদের বিমান চলাচলেও। বিমান চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের হিসাব অনুযায়ী, রোববার কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্ধারিত ফ্লাইটের ৯৯ দশমিক ৭ শতাংশ বাতিল করা হয়েছিল। সোমবারও বিমানবন্দরটির নির্ধারিত ফ্লাইটের প্রায় ৬০ শতাংশ বাতিল হয়ে থাকতে পারে।
তবে ফ্লাইট পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর হিসাবে, সোমবার রিয়াদ বিমানবন্দরে প্রায় ৭৮ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল হতে পারে।
জেদ্দার পর সৌদি আরবের দ্বিতীয় ব্যস্ততম বিমানবন্দর কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই অচলাবস্থার কারণে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন বিমান পরিচালনাকারী সংস্থা রিয়াদগামী ফ্লাইট স্থগিত করেছে বা বাতিলের সময়সীমা বাড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) রোববার মার্কিন বিমান সংস্থাগুলোকে সৌদি আরবে যাতায়াতের সময় কিংবা দেশটির আকাশসীমা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
জার্মানির লুফথানসা গ্রুপ আগামী শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদগামী সব ফ্লাইট বাতিল করেছে। এয়ার ফ্রান্স–কেএলএমও রিয়াদে যাতায়াতকারী ফ্লাইট স্থগিত রাখার মেয়াদ বাড়িয়েছে। তাদের স্থগিতাদেশ অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত চলবে।#
পার্সটুডে/এমএআর/১২