সিরিয়ায় তুরস্কের স্থল-হামলার ফন্দি করা হয় দু'বছর আগেই: তুর্কি কর্মকর্তা
তুরস্কের এরদোগান সরকার সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে স্থল-অভিযানের তোড়জোড় দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চালাচ্ছিল বলে একজন তুর্কি কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
ওই কর্মকর্তা বলেছেন, কয়েকটি কারণে তুর্কি সরকার এই অভিযান দেরিতে শুরু করতে বাধ্য হয়েছে।
তুর্কি সরকার বলছে, মূলত তাকফিরি-ওয়াহাবি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশকে (আইএসআইএল) দমনের জন্যই এ অভিযান চালানো হচ্ছে। মার্কিন সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেই এই স্থল-অভিযান শুরু করেছে তুরস্ক।
আঙ্কারা গত জুন মাসেই সিরিয়ায় স্থল-অভিযান চালানোর বিষয়ে মার্কিন সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেছিল বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই তুর্কি কর্মকর্তা জানিয়েছেন। গত মধ্য জুলাইয়ে এরদোগান সরকারের বিরুদ্ধে সামরিক অভ্যুত্থানের প্রচেষ্টাও এই অভিযান পেছানোর অন্যতম কারণ।
তুরস্ক গত বছরের শেষের দিকে সিরিয়ার আকাশে একটি রুশ জঙ্গি বিমান ভূপাতিত করায় রুশ-তুর্কি সম্পর্কে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। আর এ ঘটনাও সিরিয়ায় তুর্কি স্থল-অভিযান পেছানোর আরেকটি বড় কারণ।
মস্কোর সঙ্গে সংঘাতের কারণে সিরিয়ায় সব ধরনের তুর্কি বিমান অভিযান বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় আঙ্কারা, অথচ স্থল-অভিযান চালানোর জন্য তুর্কি বিমান অভিযান চালানো ছিল অপরিহার্য।
ওই তুর্কি কর্মকর্তা আরও বলেছেন, বিমান-হামলার ছত্রছায়া ছাড়া সিরিয়ায় তুর্কি স্থল-অভিযানের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা হত অসম্ভব।
এদিকে তুর্কি সেনারা দায়েশ দমনের নামে আসলে দায়েশসহ নানা তাকফিরি গোষ্ঠীকে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। তুর্কি সরকার তাকফিরি সন্ত্রাসীদের জন্য সিরিয়ার সঙ্গে তার সীমান্তগুলো খুলে রেখেছে। ফলে এই সন্ত্রাসীরা যে কোনো সময় সিরিয়ায় ঢুকতে পারছে তুর্কি সীমান্ত দিয়ে এবং যে কোনো সময় তারা সিরিয়া থেকে ধাওয়া খেয়ে তুরস্কে পালিয়ে যেতে পারছে।
বৃহস্পতিবার তুর্কি বিমানগুলো সিরিয়ায় কুর্দি যোদ্ধাদের ওপর গোলা বর্ষণ করে ও একই দিনে তুরস্ক সিরিয়ার ভেতরে বেশ কয়েকটি ট্যাংকও পাঠায়। শুক্রবার সীমান্তবর্তী সিরিয় শহর জারাবুলুস-এ আরও চারটি ট্যাংক পাঠায় তুরস্ক।
তুর্কি ট্যাংক, বিমান ও স্থল-বাহিনীর মদদপুষ্ট শত শত সিরিয় বিদ্রোহী জারাবুলুস শহরটি দখল করে বৃহস্পতিবার।
গত বুধবার থেকে সিরিয়ার সীমান্ত অঞ্চলে ‘অপারেশন ইউফ্রেটিস শিল্ড’ (বা ‘ফোরাত রক্ষা অভিযান’) শীর্ষক অভিযান শুরু করে তুরস্কের জঙ্গি বিমান ও বিশেষ স্থল-বাহিনী। সীমান্ত অঞ্চলকে দায়েশ ও কুর্দি সেনাদের হাত থেকে মুক্ত করাই এ অভিযানের লক্ষ বলে এরদোগান সরকার দাবি করছে।
সিরিয়ায় মার্কিন সমর্থিত কুর্দি বাহিনীর সঙ্গে তুর্কি সেনাদের তীব্র সংঘর্ষ হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। # (সূত্র: প্রেসটিভি)
পার্সটুডে/মু.আ.হুসাইন/২৮