ইরাকে ইঙ্গ-মার্কিন আগ্রাসনের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করার আহ্বান
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-এবাদি তার দেশে ২০০৩ সালের ইঙ্গ-মার্কিন আগ্রাসনের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। ওই আগ্রাসনের ফলে ইরাকে নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। আমেরিকার সব ভুল কাজের জন্য ওয়াশিংটনের কাছ থেকে বাগদাদ ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারবে বলেও আশা প্রকাশ করেন এবাদি।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার দেশে ইঙ্গ-মার্কিন হামলার ফলে সারাবিশ্ব থেকে ইরাকে সন্ত্রাসীদের আগমনের দরজা খুলে গেছে। কাজেই আমেরিকার ভুলের মাশুল এখন ইরাকি জনগণকে গুণতে হচ্ছে।
এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, একটি ব্রিটিশ তদন্ত কমিটি গত বছর ইরাকে ইঙ্গ-মার্কিন আগ্রাসনকে অযৌক্তিক বলে উল্লেখ করেছিল।
ইরাকের তৎকালীন সাদ্দাম সরকারের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র আছে বলে অভিযোগ তুলে সেই অস্ত্র ধ্বংস করার অজুহাতে ২০০৩ সালের আগ্রাসন চালানো হয়েছিল। কোনো কোনো গবেষণা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, ওই আগ্রাসন এবং এর ফলে সৃষ্ট সহিংসতায় এ পর্যন্ত ইরাকের লাখ লাখ মানুষ নিহত হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ওয়াশিংটন ও লন্ডন মোটেই গণবিধ্বংসী অস্ত্র নির্মূলের লক্ষ্যে ইরাকে আগ্রাসন চালায়নি। কারণ, ইরাকের সাদ্দাম সরকারের হাতে এই দু’টি দেশই এর আগে গণবিধ্বংসী অস্ত্র তুলে দিয়েছিল। কাজেই সাদ্দাম সরকার যখন নিজের দেশের জনগণের পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যাপকভাবে এই অস্ত্র ব্যবহার করেছে তখন আমেরিকা ও ব্রিটেন তা ধ্বংস করতে এগিয়ে আসেনি বরং এই মানবতা বিরোধী কাজে বাগদাদকে উৎসাহ যুগিয়েছে।
এ ছাড়া, আমেরিকা আগ্রাসন চালিয়ে ইরাক দখল করে নেয়ার পর দেশটিতে মোটেই নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসেনি বরং দেশটি প্রথমে আল-কায়েদা এবং পরে আইএসআইএল বা দায়েশের মতো উগ্র তাকফিরি জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর অবাধ বিচরণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
এদিকে ২০১১ সালে ইরাক থেকে নিজের সেনা প্রত্যাহার করে নেয়ার পরও ওয়াশিংটন বাগদাদ সরকারকে কোনোরকম পৃষ্ঠপোষকতা দেয়নি; বরং উল্টো ইরাক সরকারকে দুর্বল করে ফেলার জন্য সব রকম চেষ্টা চালিয়েছে। ইরাকে মার্কিন সমর্থিত মহলের বিশ্বাসঘাতকতার জের ধরে ২০১৪ সালের জুন মাসে উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠী দায়েশ দেশটির একটি বিশাল এলাকা দখল করে নেয়। এ অবস্থায় আবার ইরাকে সামরিক হস্তক্ষেপের সুযোগ পায় আমেরিকা। দায়েশ বিরোধী যুদ্ধের জন্য কথিত আন্তর্জাতিক জোট গঠন করে ওয়াশিংটন। কিন্তু এই জোট দায়েশ নির্মূলে কোনো ভূমিকা তো রাখেইনি বরং উল্টো এই জঙ্গি গোষ্ঠীকে অস্ত্রসস্ত্র ও রসদ দিয়ে হৃষ্টপুষ্ট করছে বলে বাগদাদ বহুবার অভিযোগ করেছে।
নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকদের মতে, গত ১৫ বছরে আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যের যেখানেই হাত দিয়েছে সেখানেই সবকিছু জ্বলেপুড়ে ছারখার হয়ে গেছে। আর সেই ধ্বংসস্তুপের ভেতর দিয়ে পঙ্গপালের মতো বেরিয়ে এসেছে উগ্র তাকফিরি জঙ্গি গোষ্ঠী। ঠিক এ কারণেই ইরাকের প্রধানমন্ত্রী তার দেশে মার্কিন আগ্রাসনের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চেয়েছেন যাতে বিশ্ববাসী এই আগ্রাসনের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে আগের চেয়ে অনেক বেশি জানতে পারে।#
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/১৯