কাতারের আচরণে ক্ষুব্ধ সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ইরান বিরোধী বক্তব্য
কাতার সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন চার আরব দেশের দাবি মেনে নিতে অস্বীকার করার পর সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাতারের প্রতি ইরানের সমর্থনের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে দাবি করেছেন, সন্ত্রাসবাদের প্রতি তেহরানের সমর্থন রয়েছে।
আদেল আল-জুবায়ের বুধবার সন্ধ্যায় কায়রোয় বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, সন্ত্রাসবাদের প্রতি সমর্থনকারী বিশ্বের এক নম্বর দেশ ইরান। কাজেই সন্ত্রাসবাদের প্রতি সমর্থনকারী আরেক দেশ কাতারের প্রতি ইরানের সমর্থনে অবাক হওয়ার কিছু নেই।
চার আরব দেশের দাবি মেনে নিতে কাতার অস্বীকৃতি জানালেও সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্টো তার সব ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন তেহরানের বিরুদ্ধে। তিনি আরো বলেন, “ইরানের সঙ্গে বিশ্বের যে দেশই সহযোগিতা করবে তাকেই কাতারের মতো নেতিবাচক পরিণতি ভোগ করতে হবে। কাজেই ইরানের সঙ্গে ওঠাবসা কোনো দেশের স্বার্থ রক্ষা করবে না; কারণ, ইরান বিশ্বের একটি একঘরে দেশ।”
আদেল আল-জুবায়ের এমন সময় এ দাবি করলেন যখন সৌদি আরবের ইরান বিরোধী আরব জোট গঠনের স্বপ্ন আপাতত দুঃস্বপ্ন হয়ে রয়েছে। গত মে মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্টের রিয়াদ সফরের সময় এ সংক্রান্ত যে চেষ্টা সৌদি আরব চালিয়েছিল তা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। ইরান বিরোধী জোট গঠন করতে গিয়ে খোদ পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের অন্যতম সদস্যদেশ কাতারের বিরোধিতার সম্মুখীন হয় রিয়াদ। কাতার সব সময় ইরানের সঙ্গে সুস্থ ও গঠনমুলক সম্পর্ক রক্ষার ওপর জোর দিয়ে এসেছে এবং তার পররাষ্ট্রনীতিতে কারো হস্তক্ষেপ মেনে নেয়নি।
রাজনৈতিক ভাষ্যকাররা বলছেন, পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদে মোড়লিপনার যুগ শেষ হয়ে গেছে এবং মোড়ল হিসেবে সৌদি আরব যা বলবে এখন আর তা কেউ অন্ধভাবে মেনে নিতে রাজি নয়। প্রতিটি দেশ এখন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজের স্বার্থ দেখতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে এবং এক্ষেত্রে তারা কারো হস্তক্ষেপ মানতে প্রস্তুত নয়। কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ বিন আব্দুররহমান আলে সানি ইরানের সঙ্গে তার দেশের সম্পর্ক ছিন্ন করার সৌদি শর্ত প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান কাতারের প্রতিবেশী এবং দোহার পক্ষে এই ভৌগোলিক অবস্থান পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিবেশী দেশ হওয়া ছাড়াও পারস্য উপসাগরে অভিন্ন গ্যাসক্ষেত্রে পরস্পরকে সহযোগিতা করছে ইরান ও কাতার। কাজেই দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই ভৌগোলিক বাস্তবতা অস্বীকার করা কারো পক্ষে সম্ভব নয়। ভৌগোলিক দিক দিয়ে উত্তর থেকে দক্ষিণ এবং পূর্ব থেকে পশ্চিমে যাতায়াতের সংযোগস্থলে ইরানের অবস্থান হওয়ার কারণে বিশ্বের অনেক দেশকেই তেহরানের সঙ্গে সহযোগিতা করতে হয়। সৌদি আরব শত ষড়যন্ত্র করেও এই বাস্তবতা উল্টে দিতে পারবে না।
এ ছাড়া, সন্ত্রাসী রপ্তানি ও বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে দিতে গিয়ে যে দেশটি এখন বিশ্বে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে সেটি সৌদি আরব ছাড়া আর কেউ নয়। আজ এটা সবার কাছে স্পষ্ট যে, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া সন্ত্রাসবাদের মূল উৎস সৌদি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় প্রচার করা ওহাবি মতবাদ। এই মতবাদের জন্ম ও বিস্তারের ইতিহাসের দিকে তাকালেই যে কারো কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠবে সন্ত্রাসবাদের প্রতি প্রথম সমর্থনকারী দেশ হলো সৌদি আরব। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এখন সে বাস্তবতা থেকে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার যত চেষ্টাই করুক না কেন তা সফল হবে না।#
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/৬