ইয়েমেনে সৌদি অপরাধযজ্ঞে শরিক আমেরিকা, ব্রিটেন ও ফ্রান্স
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের প্রতিনিধি গোলাম আলী খোশরু ইয়েমেনে অস্ত্র পাঠানোর ব্যাপারে সৌদি অভিযোগের লক্ষ্য সম্পর্কে বলেছেন, ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের অপরাধযজ্ঞ থেকে বিশ্ববাসীর দৃষ্টিকে ভিন্ন খাতে ফেরানোই মূল উদ্দেশ্য।
তিনি জাতিসংঘ মহাসচিব ও নিরাপত্তা পরিষদের প্রধানের কাছে লেখা চিঠিতে রিয়াদে ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ যোদ্ধাদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সঙ্গে ইরানের জড়িত থাকার অভিযোগকে ভিত্তিহীন অভিহিত করে বলেছেন, নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য তিনটি দেশ ইরানের বিরুদ্ধে সৌদি মিথ্যা দাবির প্রতি সমর্থন জানাচ্ছে অন্যদিকে সৌদি আরবকে তারা কোটি কোটি ডলার মূল্যের গণবিধ্বংসি অস্ত্র সরবরাহ করছে এবং এসব অস্ত্র ইয়েমেনের বেসামরিক মানুষ হত্যার কাজে ব্যবহার করছে রিয়াদ।
এ সম্পর্কে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাকরনের দল লা রিপাবলিক ইন মার্চের একজন পদস্থ নেতা সেবাস্তিন নাদোত রয়টার্সকে দেয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন," ফ্রান্স সৌদি আরবের কাছে যেসব অস্ত্র বিক্রি করছে তা ইয়েমেনের বেসামরিক মানুষ হত্যার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।" এদিকে, সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান ওয়াশিংটন সফরে গিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর একই সময়ে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও সৌদি আরব সম্মিলিতভাবে ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার তোড়জোড় শুরু করেছে।
সৌদি আরব ইয়েমেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর তা এখন চতুর্থ বছরে গড়িয়েছে। রিয়াদ এ পর্যন্ত বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও ইয়েমেনে কোনো সাফল্যই অর্জন করতে পারেনি। ব্রিটিশ পত্রিকা টাইমস এ ব্যাপারে লিখেছে, "ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি আরবের প্রতিদিন ব্যয় হচ্ছে ২০ কোটি ডলার। অর্থাৎ গত তিন বছরের যুদ্ধে তারা হাজার হাজার কোটি ডলার ব্যয় করেছে।"
ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দুর্বলতা তখনই ফুটে উঠেছে যখন সর্বাত্মক অবরোধ সত্বেও আনসারুল্লাহ যোদ্ধারা রিয়াদে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে এবং সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান ও তার শরীকদেরকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আমেরিকা, ব্রিটেন ও ফ্রান্স ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসনের প্রতি যে সমর্থন দিচ্ছে তার প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে অস্ত্র বিক্রি করে নিজেদের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখা।

এদিকে, ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সৌদি বর্বর আগ্রাসন দিন দিন বেড়েই চলেছে এবং মানবাধিকারের দাবিদার সরকারগুলোও সৌদি অপরাধযজ্ঞে শামিল হয়েছে। ইরান প্রথম থেকেই রাজনৈতিক উপায়ে ইয়েমেন সংকট নিরসনের পাশাপাশি সৌদি অপরাধযজ্ঞের নানা দিক বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। কিন্তু ইরানের এ গঠনমূলক ভূমিকা আমেরিকা, ব্রিটেন ও ফ্রান্সকে হতাশ করেছে। সৌদি আরব ইয়েমেনে তাদের বর্বরতা আড়াল করতেই এখন ইরানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ উত্থাপন করছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি ইয়েমেনে ইরানের অস্ত্র পাঠানোর সৌদি অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, "ইয়েমেনে যারা ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধে লিপ্ত তাদের মুখোশ খুলে দেয়ার ক্ষেত্রে ইরানের নীতিতে কোনো পরিবর্তন ঘটবে না। তিনি বলেন, যেসব দেশ সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রি করছে তারা সৌদি আগ্রাসনকে আত্মরক্ষামূলক বলে দাবি করছে। কারণ তারা জানে ইয়েমেন যুদ্ধ অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশগুলোর অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার সুযোগ এনে দিয়েছে।" #
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৩০