ইয়েমেনে আবারও বিপর্যয়! পালানোর পথ খুঁজছে কি সৌদি জোট?
ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূলে হুদায়দা বিমানবন্দরের কাছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সাম্প্রতিক বড় ধরণের হামলা আগ্রাসী এই জোটের জন্য বড় বিপর্যয়ে রূপ নিয়েছে।
ইয়েমেনের বিপ্লবী সরকারের অনুগত বাহিনীর পাল্টা হামলায় ২০০'রও বেশি সৌদি সেনা হতাহত হয়েছে বলে খবর এসেছে।
সৌদি জোটের পক্ষ থেকে সফল হামলা চালানোর দাবি প্রচার করা হলেও ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারিই তুলে ধরেছেন অভিযানের বাস্তব চিত্র। তিনি গতকাল (মঙ্গলবার) সৌদি-জোটের ব্যাপক হামলা ব্যর্থ করার খবর দিয়ে বলেছেন, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের কয়েক ডজনেরও বেশি সেনার লাশ এখনও রণক্ষেত্রে পড়ে আছে। নিহতদের মধ্যে সুদানের ২৫ জন ভাড়াটে সেনাও রয়েছে বলে তিনি জানান। আগ্রাসীদের ১৯টি সাঁজোয়া যান ধ্বংস হয়েছে বলেও জেনারেল ইয়াহিয়া সারিই জানিয়েছেন।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট প্রায় ৫ মাস ধরে হুদায়দা সমুদ্র বন্দর দখলের জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে। কিন্তু ইয়েমেনের গণ-বাহিনী ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রবল প্রতিরোধের কারণে এসব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। সৌদি জোটের অন্যায্য অবরোধ ও আগ্রাসনের শিকার ইয়েমেনে জরুরি ওষুধ ও খাদ্যসহ মানবিক ত্রাণ সাহায্যের ৭০ শতাংশই আসে হুদায়দা সমুদ্রবন্দর দিয়ে। লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত আলহুদায়দা বন্দরের সামরিক ও রাজনৈতিক কৌশলগত গুরুত্বও অপরিসীম।
ইয়েমেনে প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে সব ধরনের সর্বাত্মক আগ্রাসন চালিয়েও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যগুলো হাসিল করতে ব্যর্থ হয়েছে পশ্চিমা-মদদপুষ্ট সৌদি জোট। এই জোটের নির্বিচার বিমান হামলায় ইয়েমেনের বেশিরভাগ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও নতজানু হয়নি ইয়েমেনের বিপ্লবী সরকার ও জনগণ। তাই হুদায়দা বন্দর দখল করে সৌদি জোট ইয়েমেনের বেসামরিক জনগণকে পুরোপুরি পণবন্দি ও নিষেধাজ্ঞা আর অবরোধের শিকার করতে চায়।
সৌদি জোটের আগ্রাসনের কারণে ইয়েমেনের কয়েক কোটি মানুষ ক্ষুধা, দুর্ভিক্ষ, মহামারি, অপুষ্টি ও আরও নানা ধরনের সংকটের শিকার হয়েছে। সামরিক ক্ষেত্রে সুবিধা করতে না পেরে সৌদি জোট প্রায়ই গণহত্যা চালাচ্ছে ইয়েমেনের জনগণের ওপর। বিয়ের আসরের নারী ও স্কুলের শিশুরাও রেহাই পায়নি গণহত্যার হাত থেকে। ফলে জাতিসংঘের পক্ষ থেকেও সৌদি সরকারকে শিশু-ঘাতক সরকারগুলোর তালিকায় স্থান দেয়া হয়। অবশ্য সৌদি সরকার জাতিসংঘে অর্থ চাঁদা দেয়া বন্ধ করার হুমকি দেয়ায় ওই তালিকা থেকে সৌদির নাম সরিয়ে দিতে বাধ্য হয় জাতিসংঘ।
ইয়েমেনে সৌদি জোটের একের পর এক সামরিক ব্যর্থতা ও বিশ্ব-জনমতের চাপের মুখে সম্প্রতি সৌদি-লাঠিয়াল-জোটের গড-ফাদার মার্কিন সরকার ইয়েমেনে যুদ্ধ বন্ধ করতে রিয়াদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। এ থেকে বোঝা যায় ইয়েমেনে নিজেদের তৈরি করা চোরাবালি থেকে কিছুটা হলেও সম্মান নিয়ে সরে পড়তে চাইছে পশ্চিমা মদদপুষ্ট সৌদি জোট ও মার্কিন সরকার।
শিয়া হুথি মুসলমানদের নেতৃত্বাধীন জনপ্রিয় আনসারাল্লাহ আন্দোলন ও তাদের সহযোগী দলগুলোর নেতৃত্বে বেশ কয়েক বছর ধরেই ইয়েমেনে প্রতিষ্ঠিত রয়েছে বিপ্লবী সরকার। ইসরাইল-বিরোধী ইয়েমেনের এই বিপ্লবী সরকারের আনুগত্য করছে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর বেশিরভাগ সদস্য। দেশটির রাজধানীসহ উত্তরাঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকা দখলে রেখেছে এই বিপ্লবী সরকার।
অন্যদিকে আলকায়দা ও আইএস-এর মত উগ্র তাকফিরি-ওয়াহাবি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সহায়তা নিয়ে সৌদি জোট ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ মরুময় এলাকাগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে। পদত্যাগী ও পালিয়ে-যাওয়া মানসুর হাদি সরকারকে ইয়েমেনের ক্ষমতায় পুনর্বহালের অজুহাত দেখিয়ে সৌদি সরকার ২০১৫ সালে ইয়েমেনে সর্বাত্মক হামলা শুরু করে। সৌদি সরকারকে এক্ষেত্রে নিষিদ্ধ অস্ত্র ও বোমাসহ নানা ধরনের সহায়তা দিচ্ছে ইঙ্গ-মার্কিন সরকার ও ইহুদিবাদী ইসরাইল। ব্রিটিশ ও ফরাসি সরকারসহ মানবাধিকারের দাবিদার বেশিরভাগ পশ্চিমা সরকার সাম্প্রতিক খাশোগি হত্যাকাণ্ডের পরও সৌদি সরকারের কাছে অস্ত্র রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে। সৌদি ভিন্ন-মতাবলম্বী সাংবাদিক খাশোগি ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসনের বিরোধিতা করতেন। #
পার্সটুডে/এমএএইচ-টি/৭
খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন