গাজায় ব্যর্থতার পর ভীত-সন্ত্রস্ত ঘাতক ইহুদিবাদী শাসকদের নয়া হুমকির রহস্য
দখলদার ইহুদিবাদী ইসরাইলের আবাসনমন্ত্রী ইউয়্যাভ গ্যাল্যান্ত (Yoav Galant) ফিলিস্তিনি ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের নেতৃবৃন্দকে হত্যার হুমকি দিয়েছে।
একই ধরনের কথা বলেছে ইসরাইলের অর্থ ও শিল্পমন্ত্রী ইইলি কোহেন। এই মন্ত্রী হামাস নেতৃবৃন্দকে হত্যা করার ও তাদের ঘর-বাড়ি ধবংসের দাবি জানিয়েছে।
বর্ণবাদী ইসরাইল গাজা উপত্যকায় বার বার পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ আস্বাদন করায় হামাসের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে আছে। বিশেষ করে গাজায় ইসরাইলের সাম্প্রতিক ব্যর্থ সন্ত্রাসী অভিযান ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠীর জন্য হয়ে পড়ে কাটা ঘায়ে লবণের ছিটা।
হামাসের একজন বড় কমান্ডারকে হত্যার ওই সন্ত্রাসী অভিযানের জবাবে গাজা থেকে ইসরাইলে শত শত রকেট নিক্ষেপ করা হয় এবং হামাসের একটি গাইডেড মিসাইলের আঘাতে ধ্বংস হয় ইসরাইলের একটি সামরিক বাস। ফলে ইসরাইলের যুদ্ধমন্ত্রীসহ দুই মন্ত্রী পদত্যাগের কারণে নেতানিয়াহুর মন্ত্রীসভা ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়।
ইসরাইলের পদত্যাগী যুদ্ধমন্ত্রী অ্যাভিগডোর লিবারম্যান বলেছে, হামাসকে ধ্বংস করা বা পরাজিত করা সম্ভব নয়। অথচ এই লিবারম্যানই গাজায় হামাসের প্রধান রাজনৈতিক নেতা ইয়াহিয়া সিনোওয়ারকে অপহরণের ষড়যন্ত্র করে ও তা বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেয়।
স্প্যানিশ দৈনিক পুবলিকো এই ষড়যন্ত্রের খবর ফাঁস করেছে। এমন সময় এ ষড়যন্ত্র করা হয় যখন গত ১১ নভেম্বর প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সমাপ্তির শত বর্ষ পূর্তির অনুষ্ঠানে প্যারিসের আন্তর্জাতিক সমাবেশে উপস্থিত হয়েছিলেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। ইসরাইলি সন্ত্রাসীরা আড়ি পাতার যন্ত্র বসানোর ও সিনোওয়ারকে হত্যারও ষড়যন্ত্র করেছিল বলে দৈনিক রাই আল ইয়াওম জানিয়েছে।
গাজায় হামাসের প্রধান রাজনৈতিক নেতা ইয়াহিয়া সিনোওয়ারের ওপর ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠীর ক্ষেপে থাকার বড় কারণ হচ্ছে, সংগ্রামী এই নেতা গাজাকে দখলদার ইসরাইলের জন্য আরেক নতুন দক্ষিণ-লেবাননে পরিণত করছেন। তাই লিবারম্যান ভেবেছিল সিনাওয়ারকে অপহরণ করে ইসরাইলি যুদ্ধবন্দীদের অথবা নিহত ইসরাইলি সেনাদের লাশগুলো উদ্ধার করা যাবে এবং এমনকি ফিলিস্তিনিদের স্বদেশ ফেরার অধিকারের প্রতি স্বীকৃতি আদায়ের গণ-মিছিল বন্ধ করতেও হামাস নেতৃবৃন্দকে বাধ্য করা যাবে।
কিন্তু ইসরাইলের এই-সব ষড়যন্ত্রই ব্যর্থ হওয়ায় নেতানিয়াহুর কোয়ালিশন সরকার ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে। গাজার ফিলিস্তিনিরা ঐক্যবদ্ধ থেকে ইসরাইলের ওপর মারাত্মক পাল্টা আঘাত হেনে বুঝিয়ে দিয়েছে যে, মুসলমানদের প্রথম কিবলা বায়তুল মুকাদ্দাসসহ গোটা ফিলিস্তিনকে ইসরাইলের পেটে ঢুকিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র তথা ট্রাম্পের সেঞ্চুরি ডিল বা 'শতাব্দীর কথিত চুক্তি' কখনও বাস্তবায়ন করতে দেয়া হবে না। হামাসের সমর্থিত গাজাবাসীর গণ-মিছিলও বন্ধ করা সম্ভব হবে না।
ফিলিস্তিনিদের স্বদেশ ফেরার অধিকারের প্রতি বিশ্ব-সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণের লক্ষ্যে গত বেশ কয়েক মাস ধরে অব্যাহত এই গণ-মিছিল ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠীর ঘুম হারাম করে দিয়েছে।
এ অবস্থায় হামাসের পাল্টা প্রবল আঘাতে আতঙ্কিত এবং দিশেহারা ইসরাইলি শাসকরা হামাস-নেতাদের হত্যার হুমকি-ধমকি উচ্চারণ করে পরাজয়ের লজ্জা ও কলঙ্ক ঢাকার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে হামাস নেতা সিনাওয়ারের সংগ্রামী ভূমিকার কারণে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কোনো কোনো আরব সেবাদাস শাসকের প্রচেষ্টা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ায় অপরাধী ইসরাইলি শাসকরা তাকে হত্যার হুমকি দেয়ার পথ বেছে নিয়েছে। রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসে অভ্যস্ত ইসরাইলের প্রতি মার্কিন ও পশ্চিমা সমর্থনও ইহুদিবাদী শাসকদের ঔদ্ধত্য বাড়িয়ে দিচ্ছে। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/২৩