এরদোগানের বক্তব্যকে ‘চরম আগ্রাসী’ বলল অস্ট্রেলিয়া; রাষ্ট্রদূত তলব
-
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন
নিউজিল্যান্ডের মসজিদে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান যে বক্তব্য দিয়েছেন তাকে চরম আগ্রাসী ও বেপরোয়া বলে মন্তব্য করেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আংকারার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বিবেচনার বিষয়ে তিনি সব পথ খোলা রাখছেন।
মরিসন বলেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট যে বক্তব্য রেখেছেন তাকে আমি অস্ট্রেলিয়ার জন্য মারাত্মক আগ্রাসী বলে মনে করছি এবং এই স্পর্শকাতর সময়ে তাকে খুবই বেপরোয়া ও উন্মাদনা বলে বিবেচনা করছি। ক্যানবেরায় নিযুক্ত তুর্কি রাষ্ট্রদূত কোরহান কারাকোচকে তলব করে মরিসন এসব কথা বলেন। এ বিষয়ে তিনি তুরস্কের পক্ষ থেকে কোনো কৈফিয়ত বা ওজর-আপত্তি শুনতে চান নি।
এর আগে, সোমবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান বলেছিলেন, তুরস্কের ওপর সম্ভাব্য হামলার অংশ হিসেবে নিউজিল্যান্ডের মসজিদে হামলা হয়েছে। তবে কেউ যদি তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে হামলার চেষ্টা করে তাহলে হামলাকারীদের কফিন ফেরত পাঠানো হবে।
গত শুক্রবার জুমা নামাজের সময় ব্রেনটন টেরেন্ট নামে এক উগ্র খ্রিস্টান সন্ত্রাসী নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে গুলি চালিয়ে অন্তত ৫০ মুসল্লিকে হত্যা করে। এর আগে ওই সন্ত্রাসী একটি মেনিফেস্টো পাঠায় যাতে তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরকে খ্রিস্টানদের সম্পত্তি বলে উল্লেখ করে তা তুরস্কের হাত থেকে উদ্ধারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। এছাড়া, তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানকে ‘যুদ্ধবাজ’ নেতা বলে আখ্যা দেয়া হয়েছে এতে।
তুরস্ককে খ্রিস্টানদের সবচেয়ে পুরনো শত্রু বলেও উল্লেখ করা হয়েছে ওই মেনিফেস্টোতে। এতে ইস্তাম্বুলকে লক্ষ্য করে বলা হয়- “আমরা কনস্টান্টিনোপলে আসছি এবং শহরের প্রতিটি মসজিদ ও মিনার ধ্বংস করব। হাজি সোফিয়াকে মিনার থেকে মুক্ত করা হবে এবং কনস্টান্টিনোপল আবারো খ্রিস্টানদের দখলে আসবে।”
১৯১৫ সালে তুরস্কের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় কানাক্কালে প্রদেশে অটোমান সেনাদের হাতে ব্রিটিশ সেনাদের পরাজয়ের বার্ষিকী স্মরণে আয়োজিত এক সমাবেশে সোমবার বক্তব্য দেন এরদোগান। ১৯১৫ সালের ওই যুদ্ধে ব্রিটেনের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের সেনারাও অংশ নেয়।
সমাবেশে এরদোগান বলেন, “আমরা এখানে হাজার বছর ধরে আছি এবং কিয়ামত পর্যন্ত থাকব ইনশাল্লাহ। তোমরা ইস্তাম্বুলকে কনস্টান্টিনোপলে পরিণত করতে পারবে না। তোমাদের দাদারাও এসেছিল এবং লাশ হয়ে ফেরত গেছে। কোনো সন্দেহে নেই তোমাদেরকেও আমরা লাশ বানিয়ে ফেরত পাঠাব।”
গত শুক্রবারের হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে এরদোগান নিউজিল্যান্ড সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা আশা করি নিউজিল্যান্ড সরকার বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে নেবে। তারা যেন পশ্চিমা দেশগুলোর মতো হাল্কাভাবে না নেয়।” গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে এরদোগান বলেন, নিউজিল্যান্ডের ঘাতক ২০১৬ সালে দুইবার তুরস্ক সফর করেছে।#
পার্সটুডে/এসআইবি/২০