বাহরাইনে ইরানবিরোধী সম্মেলনে ইসরাইল; নতুন শয়তানি পরিকল্পনা: মুসাভি
-
ফাইল ফটো
বাহরাইনে আমেরিকার নেতৃত্বে পারস্য উপসাগরে নিরাপত্তা বিষয়ক যে সম্মেলন শুরু হয়েছে তাতে দখলদার ইহুদিবাদী ইসরাইলও অংশ নেবে জানা গেছে। ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধি দল ওই সম্মেলনে যোগ দেবেন। আগামী সোম ও মঙ্গলবার এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও ওমান অংশ নেবে।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশোতে আমেরিকার নেতৃত্বে এ সংক্রান্ত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বাহরাইন সরকার ইরানবিরোধী আবহ সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল। তবে আমেরিকাসহ পাশ্চাত্যের বহু চিন্তাবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ওয়ারশো সম্মেলনকে ব্যর্থ উল্লেখ করে একে লজ্জাজনক ও সার্কাস হিসেবে অভিহিত করেন।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ইরানবিরোধী বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, আমেরিকা, ইসরাইল ও আরো কয়েকটি আরব দেশের ষড়যন্ত্রের সহযোগী হিসেবে মানামা সরকার কাজ করছে। আগামীকাল সম্মেলন শুরুর প্রাক্কালে বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খালেদ বিন আহমাদ আলে খলিফা কোনো তথ্য প্রমাণ ছাড়াই তার দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করে দাবি করেছেন, ইরান থেকে অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য বাহরাইনে পাঠানো হচ্ছে।
ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাহরাইনের রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ বিন রাশেদ আলে খলিফাও ওয়াশিংটন টাইমসে প্রকাশিত এক নিবন্ধে লিখেছেন, আগামীকাল থেকে দু'দিনের ওই সম্মেলন শুরু হচ্ছে। তিনি বলেন, জাহাজের নাবিকদের নিরাপত্তা, বাণিজ্য জাহাজের অবাধ চলাচল এবং ইরানের পক্ষ থেকে সৃষ্ট হুমকি চিহ্নিত করা হবে এ সম্মেলনের উদ্দেশ্য।
গত কয়েক মাসে পারস্য উপসাগর অঞ্চলে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। অবশ্য এর কারণও স্পষ্ট। সমুদ্র সন্ত্রাসবাদ, জাহাজের নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং তেল সরবরাহের পথে যে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে তার পেছনে মূলত এ অঞ্চলে বিদেশিদের হস্তক্ষেপ এবং মার্কিন সামরিক উপস্থিতি দায়ী। ইরানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলী রাহিম পুর এ অঞ্চলে মার্কিন নীতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন, "আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টি কোরে এবং ইরানভীতি ছড়ানোর মাধ্যমে দু'টি লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করছে। প্রথমত, আমেরিকা এ অঞ্চল থেকে খুব সস্তায় তেল কেনার চেষ্টা করছে এবং দ্বিতীয়ত, অস্ত্রশস্ত্র বিক্রি করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। তাই পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যেকোনো উত্তেজনা সৃষ্টি পাশ্চাত্যের স্বার্থকেই রক্ষা করবে।"
মোটকথা, আমেরিকা কেবল নিজের স্বার্থেই এ অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার পাশাপাশি তাদে ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার মেজর জেনারেল আব্দুর রহিম মুসাভি বলেছেন, আমেরিকা ইরান বিরোধী সামরিক জোট গঠনের যে চেষ্টা করছে তা নতুন শয়তানি পরিকল্পনা এবং এর উদ্দেশ্য হচ্ছে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করা যা কিনা তেল নির্ভর এ অঞ্চলের সব দেশের জন্যই ক্ষতিকর।#
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২০